Tuesday, October 13, 2026
Google search engine
Homeসিনেদুনিয়াটলি ক্যানভাসশেষ মুহূর্তে কেন ভেঙেছিল মিঠুন-মমতার বিয়ে? মমতা শঙ্কর নিজেই জানিয়েছিলেন আসল কারণ

শেষ মুহূর্তে কেন ভেঙেছিল মিঠুন-মমতার বিয়ে? মমতা শঙ্কর নিজেই জানিয়েছিলেন আসল কারণ

টলিউডের ইতিহাসে এমন কিছু প্রেমের গল্প রয়েছে, যেগুলোর শেষটা বিয়ের মণ্ডপে না পৌঁছলেও দর্শকের মনে থেকে যায়। মিঠুন চক্রবর্তী ও মমতা শঙ্করের সম্পর্ক তেমনই এক অধ্যায়।

‘মৃগয়া’র সেট থেকে শুরু হয়েছিল পরিচয়। সেই সম্পর্ক এতটাই গভীর হয়েছিল যে একসময় তাঁদের বিয়ের কথাও পাকা হয়ে যায়, এমনকি বিয়ের তারিখও ঠিক হয়েছিল বলে মমতা শঙ্কর নিজেই জানিয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চার হাত এক হয়নি।

কেন ভেঙে গেল সেই সম্পর্ক? অন্য কোনও অভিনেত্রীর সঙ্গে মিঠুনের সম্পর্ক কি ছিল কারণ? নাকি এর পিছনে ছিল সম্পূর্ণ অন্য গল্প?

বহু বছর পর সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন খোদ মমতা শঙ্কর।

‘মৃগয়া’র সেটেই শুরু মিঠুন-মমতার সম্পর্ক

মৃণাল সেনের ১৯৭৬ সালের ছবি ‘মৃগয়া’ ছিল মিঠুন চক্রবর্তী ও মমতা শঙ্করের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ছবির শুটিংয়ের সময়ই তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

পরবর্তীকালে সেই সম্পর্ক বিয়ের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত গড়ায়। মমতা শঙ্কর ২০২২ সালের এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তাঁদের বিয়ের তারিখ পর্যন্ত ঠিক হয়েছিল।

সেই সময় দুজনের পরিবারও বিষয়টি জানত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সবকিছু যেন ঠিক পথেই এগোচ্ছিল। কিন্তু আচমকাই বদলে গেল পরিস্থিতি।

তখন মিঠুনের হাতে তেমন কাজ ছিল না

মমতা শঙ্করের নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় মিঠুনের হাতে খুব বেশি কাজ ছিল না।

কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। বিয়ের তারিখ ঠিক হওয়ার পরই মুম্বই থেকে মিঠুনের কাছে একের পর এক কাজের প্রস্তাব আসতে শুরু করে।

আর সেই সময়ই সামনে আসে আসল সমস্যা।

মমতা জানিয়েছেন, মিঠুন তাঁকে বলেছিলেন যে সেই মুহূর্তে বিয়ে করা সম্ভব নয় এবং তাঁকে আরও প্রায় দু’বছর অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু মমতার পক্ষে এতদিন অপেক্ষা করে থাকা সম্ভব ছিল না।

তাহলে কি অন্য কোনও নারীর জন্য বিয়ে ভেঙেছিল?

এই প্রশ্নটিও বহু বছর ধরে আলোচনায় রয়েছে।

মিঠুনের মুম্বইয়ের কর্মজীবন শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন অভিনেত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে নানা খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। মমতা নিজেও এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে মুম্বইয়ে গিয়ে তিনি এমন কিছু বিষয় জানতে পেরেছিলেন।

কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—মমতা শঙ্কর নিজেই বলেছেন, সেই কারণেই তাঁদের বিয়ে ভাঙেনি।

অর্থাৎ, “অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কের জন্য মমতা মিঠুনকে ছেড়ে দিয়েছিলেন”—এমন সরল ব্যাখ্যা তাঁর নিজের বক্তব্যের সঙ্গে মেলে না।

আসল সমস্যা ছিল অপেক্ষা করা

মমতার বক্তব্য অনুযায়ী, মিঠুন তখন নিজের কেরিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

একদিকে হাতে আসতে শুরু করেছে মুম্বইয়ের নতুন কাজ, অন্যদিকে সামনে বিয়ের মতো বড় সিদ্ধান্ত। তাই মিঠুন বিয়েটা পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।

কিন্তু মমতা সেই সময়ের পরিস্থিতিতে অপেক্ষা করতে রাজি হননি।

তিনি একটি রক্ষণশীল পরিবারে বড় হয়েছিলেন। ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা বা গুঞ্জন চলুক—এটিও তিনি চাননি বলে পরবর্তী সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। ফলে শেষ পর্যন্ত তিনি সম্পর্ক থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

আরও একটি বড় কারণের কথা জানিয়েছিলেন মমতা

মিঠুনের সঙ্গে বিয়ে না হওয়ার বিষয়ে মমতা শঙ্কর পরবর্তীকালে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছিলেন।

তাঁর মতে, মিঠুন খুব ভালো মানুষ হলেও বিয়ের পর তাঁর নাচ ও অভিনয় চালিয়ে যাওয়া নিয়ে মতের অমিল তৈরি হতে পারত।

২০২২ সালের আনন্দবাজার অনলাইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মমতা বলেছিলেন, মিঠুন চাইতেন তিনি শিখুন ও কাজ করুন, কিন্তু বিয়ের পর বাড়িতে থাকাটাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মমতার নিজের কাছে অবশ্য নাচ ও অভিনয় ছিল জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই জায়গাটিই হয়তো তাঁদের দুজনের জীবনদর্শনের একটি বড় পার্থক্য ছিল।

শেষ পর্যন্ত ১৯৭৮ সালে মমতার বিয়ে

মিঠুনের সঙ্গে সম্পর্কের অধ্যায় শেষ হওয়ার পর মমতা শঙ্কর ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে চন্দ্রোদয় ঘোষকে বিয়ে করেন।

পরবর্তীকালে মমতা জানিয়েছেন, চন্দ্রোদয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও সেই সময় থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

বরং বছর পেরিয়ে তিনি মনে করেছেন, মিঠুনের সঙ্গে বিয়ে না হওয়াটাই হয়তো তাঁর জীবনের জন্য ভালো হয়েছিল।

তাঁর ভাষায়, মিঠুনের জন্য যোগিতা বালি এবং তাঁর নিজের জন্য চন্দ্রোদয়ই হয়তো সঠিক জীবনসঙ্গী ছিলেন।

সম্পর্ক ভাঙলেও বন্ধুত্ব ভাঙেনি

এই গল্পের সবচেয়ে সুন্দর দিক সম্ভবত এখানেই।

প্রেমের সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলেও মিঠুন ও মমতার মধ্যে তিক্ততা তৈরি হয়নি।

মমতা শঙ্কর জানিয়েছেন, তাঁদের যোগাযোগ সবসময়ই ছিল। মিঠুনের পরিবারের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে এবং দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব এখনও সুন্দরভাবে বজায় আছে।

দীর্ঘ ৪৭ বছর পর ‘প্রজাপতি’ ছবিতে আবার একসঙ্গে অভিনয় করার সময়ও সেই পুরনো সম্পর্ক নিয়ে দুজনের মধ্যে অস্বস্তির বদলে দেখা গিয়েছিল বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সম্মান।

২০২৬ সালেও তাঁদের পুরনো সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে; সাম্প্রতিক ‘দাদাগিরি’ পর্ব নিয়েও সংবাদমাধ্যমে তাঁদের পুরনো সম্পর্ক ও বন্ধুত্বের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।

তাহলে কেন ভেঙেছিল মিঠুন-মমতার বিয়ে?

সব তথ্য একসঙ্গে রাখলে ছবিটা অনেক পরিষ্কার।

বিয়ের তারিখ ঠিক হয়েছিল। কিন্তু ঠিক সেই সময় মিঠুনের কেরিয়ারে মুম্বই থেকে নতুন কাজের সুযোগ আসতে শুরু করে। মিঠুন বিয়ে পিছিয়ে দিয়ে মমতাকে অপেক্ষা করতে বলেছিলেন। মমতা সেই অপেক্ষা করতে পারেননি। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা ও অনিশ্চয়তাও তিনি চাননি। পরে তিনি নিজের জীবনের অন্য পথ বেছে নেন।

আর মমতার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, অন্য কোনও নারী এই বিচ্ছেদের মূল কারণ ছিলেন—এমনটা বলা ঠিক নয়।

প্রেমের গল্পটি অসম্পূর্ণ হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেই অসম্পূর্ণতা তাঁদের বন্ধুত্বকে শেষ করেনি।

আজ বহু দশক পরে দাঁড়িয়ে মমতা শঙ্করও মনে করেন, “ভালো হয়েছে বিয়ে না হয়ে।” কারণ সেই সিদ্ধান্তই হয়তো তাঁকে তাঁর নাচ, অভিনয় এবং নিজের মতো করে জীবন বেছে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিল।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments