টলিউডে ফের জোর চর্চা মিমি চক্রবর্তীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে। এতদিন নিজের প্রেম-বিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেননি অভিনেত্রী। কিন্তু ২০২৬ সালের শেষদিকে নাকি বদলাতে চলেছে সেই ছবিই। একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নভেম্বরেই আইনি বিয়ে করতে পারেন মিমি চক্রবর্তী, আর ডিসেম্বর মাসে পাহাড়ি শহর কালিম্পংয়ে হতে পারে মূল বিয়ের অনুষ্ঠান।
তবে শুরুতেই বলে রাখা ভালো—এই বিয়ের খবর এখনও মিমি বা তাঁর কথিত হবু পাত্রের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে আপাতত গোটা বিষয়টিকে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দাবি ও টলিপাড়ার জল্পনা হিসেবেই দেখা উচিত।
কে মিমির কথিত হবু বর?
প্রথম দিকে যে খবরটি ছড়িয়েছিল, সেখানে মিমির সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীকে ভারতীয় নৌসেনার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছিল। সেপ্টেম্বরের একাধিক প্রতিবেদনে সেই তথ্যই প্রকাশিত হয়। এমনকি সম্ভাব্য বিয়ের স্থান হিসেবে কালিম্পংয়ের নামও উঠে আসে।
কিন্তু পরবর্তী প্রতিবেদনে ছবিটা কিছুটা বদলায়।
২ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মিমির কথিত হবু বর সিদ্ধার্থ দত্ত, এবং তিনি নৌসেনা অফিসার নন—পেশায় একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। ওই প্রতিবেদনে তাঁর আন্তর্জাতিক মার্চেন্ট নেভির সঙ্গে যুক্ত থাকার কথাও বলা হয়েছে।
কী করেন সিদ্ধার্থ দত্ত?
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সিদ্ধার্থ কলকাতার Calcutta Boys’ School-এর প্রাক্তন ছাত্র এবং মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেছেন।
আরও দাবি করা হয়েছে, ২০০৮ সালের মার্চ থেকে তিনি যুক্তরাজ্যভিত্তিক Shell Ship Management Limited-এর সঙ্গে যুক্ত। শিক্ষানবিস হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে বর্তমানে তিনি সিনিয়র মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছেন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই পেশাগত তথ্যের স্বাধীন প্রাথমিক নথি প্রকাশ্যে না থাকায়, এগুলিকেও প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য হিসেবেই উপস্থাপন করা উচিত।
মিমির সঙ্গে সিদ্ধার্থের পরিচয় কীভাবে?
মিমি চক্রবর্তী বরাবরই তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে অনেকটাই ব্যক্তিগত রাখতে চেয়েছেন। তাই সিদ্ধার্থের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের শুরু ঠিক কখন বা কীভাবে—তা নিয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে নেই।
তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দুজনের পরিচয় নতুন নয় এবং টলিপাড়ার পরিচিত মহলেও সিদ্ধার্থের যাতায়াত রয়েছে।
একটি প্রতিবেদনে এমনও দাবি করা হয়েছে যে, গত বছরের দুর্গাপুজোর সময় বন্ধুদের আড্ডায় মিমির সঙ্গে সিদ্ধার্থকে দেখা গিয়েছিল। সেই ছবি বা উপস্থিতিকে কেন্দ্র করেই পরে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়।
মিমি তাঁকে Instagram-এ ফলো করেন না?
এই নিয়েও শুরু হয়েছে কৌতূহল।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মিমির অফিসিয়াল Instagram অ্যাকাউন্টে সিদ্ধার্থকে ফলো করা দেখা যায় না। এখান থেকেই অনুরাগীদের একাংশের মধ্যে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।
তবে এটাকে সম্পর্ক লুকিয়ে রাখার “মাস্টারপ্ল্যান” বলা যাবে না। কেউ কাউকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলো করছেন কি না, তা দিয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সত্যতা প্রমাণ করা সম্ভব নয়।
নভেম্বরেই আইনি বিয়ে?
এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা এই বিষয়টি নিয়েই।
প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনের দাবি, মিমি ও সিদ্ধার্থ নভেম্বর ২০২৬-এ আইনি বিয়ে বা রেজিস্ট্রি করতে পারেন। এরপর ডিসেম্বর মাসে পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের উপস্থিতিতে কালিম্পংয়ে হতে পারে মূল ডেস্টিনেশন ওয়েডিং।
অন্যদিকে সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকের রিপোর্টগুলিতে ডিসেম্বরেই বিয়ের কথা বলা হলেও নভেম্বরের আইনি বিয়ের বিষয়টি সব প্রতিবেদনে ছিল না। অর্থাৎ বিয়ের সময়সূচি নিয়েও সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।
কালিম্পংয়েই কি বসবে বিয়ের আসর?
বিয়ের সম্ভাব্য জায়গা হিসেবে বারবার উঠে এসেছে কালিম্পংয়ের নাম।
পাহাড়ি পরিবেশে ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও বন্ধুদের নিয়ে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট হোটেল, তারিখ বা অতিথি তালিকা এখনও প্রকাশ্যে নিশ্চিত নয়।
মিমির বিয়ে নিয়ে শেষ কথা কী?
মিমি চক্রবর্তী সত্যিই ২০২৬ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে বিয়ে করছেন কি না, তার উত্তর আপাতত একটাই—অভিনেত্রীর নিজের ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।
কারণ একদিকে একাধিক সংবাদমাধ্যমে সম্ভাব্য বিয়ে, সিদ্ধার্থ দত্তের পরিচয় এবং কালিম্পংয়ে অনুষ্ঠান নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে মিমি বা সিদ্ধার্থ এখনও প্রকাশ্যে এই সম্পর্ক বা বিয়ের বিষয়ে নিশ্চিত ঘোষণা করেননি।
তাই আপাতত বলা যায়—মিমির বিয়ে নিয়ে জল্পনা জোরালো হয়েছে, সম্ভাব্য পাত্র হিসেবে সিদ্ধার্থ দত্তের নাম সামনে এসেছে, আর নভেম্বরের আইনি বিয়ে ও ডিসেম্বরে কালিম্পংয়ের অনুষ্ঠান নিয়েও রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু আনুষ্ঠানিক সিলমোহর এখনও বাকি।



