কাঞ্চন মল্লিকের বিয়ে নিয়ে মস্করা করতেই বদলে গেল শ্রীময়ীর মেজাজ! হাসি-ঠাট্টায় জমজমাট ছিল ‘রাঁধুনি না কাঁদুনি’-র সেট। কিন্তু আচমকাই RJ সায়নকে উদ্দেশ করে কড়া ভাষায় সতর্ক করলেন শ্রীময়ী চট্টরাজ।
সোনি আটের নতুন প্রোমো প্রকাশ্যে আসতেই এই দৃশ্য নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সত্যিই কি স্বামীর প্রসঙ্গে ব্যক্তিগত আক্রমণে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন শ্রীময়ী? নাকি পুরো ঘটনাটাই অনুষ্ঠানের মজার অংশ?
কী হয়েছিল ‘রাঁধুনি না কাঁদুনি’-র সেটে?
সোনি আটের জনপ্রিয় নন-ফিকশন শো ‘রাঁধুনি না কাঁদুনি’-তে এবার একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে কাঞ্চন মল্লিক ও শ্রীময়ী চট্টরাজকে। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন ইমন চক্রবর্তী, রূপাঞ্জনা মিত্র, দর্শনা বণিক, সায়ন ঘোষ, শ্যামৌপ্তি মৌদুলি, সৌমিতৃষা কুণ্ডু-সহ একঝাঁক পরিচিত মুখ। শোটি ৩ অক্টোবর থেকে সম্প্রচার শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি চ্যানেলের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত প্রোমোতেই দেখা যায়, শুরুতে একেবারে হাসি-ঠাট্টার আবহ।
RJ সায়নকে বলতে শোনা যায়, “কাঞ্চনদাকে দেখে শেখ…”। কিন্তু বাক্য শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে থামিয়ে দেন শ্রীময়ী। পাল্টা প্রশ্ন করেন, “এই, কী বলতে চাইছিস?”
‘তোতাপাখি’ নিয়ে মজার মাঝেই কাঞ্চনের মন্তব্য
এরপর শ্রীময়ীর পরনের সাদা পোশাকে আঁকা একটি রঙিন পাখিকে কেন্দ্র করে শুরু হয় মস্করা।
সায়ন সেই পাখিটিকে নিয়ে মজা করলে শ্রীময়ীও প্রথমে হাসিঠাট্টার সুরেই পাল্টা জবাব দেন। কাঞ্চনও সেই মজায় যোগ দেন।
নিজের দিকে ইঙ্গিত করে কাঞ্চন বলেন, “তুই শুধু তোতা পাখিটা দেখলি, আতাগাছটা দেখলি না।”
অর্থাৎ তখনও গোটা পরিবেশ ছিল নিছক মজা ও খুনসুটিতে ভরা।
কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বদলে যায় পরিস্থিতি।
হঠাৎ সায়নকে কড়া বার্তা শ্রীময়ীর
প্রোমোর পরের অংশেই শ্রীময়ীকে বেশ গম্ভীর হয়ে সায়নের উদ্দেশে বলতে দেখা যায়—
“কাঞ্চনের বউ নিয়ে কোনো রকম পার্সোনাল অ্যাটাক আমি সহ্য করব না। আর তোমরা তো বন্ধু। আমি খুব সিরিয়াসলি বলছি। কোনো রকম ছ্যাবলামো মারছি না।”
এই বক্তব্যের পরই প্রোমোর আবহ যেন একেবারে পাল্টে যায়। কিছুক্ষণ আগেও যেখানে হাসিঠাট্টা চলছিল, সেখানেই শ্রীময়ীর মুখের অভিব্যক্তি হয়ে ওঠে গম্ভীর।
ফলে দর্শকদের মধ্যেও স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—সত্যিই কি রেগে গিয়েছিলেন শ্রীময়ী?
কাঞ্চনের একাধিক বিয়ে নিয়ে আগেও অস্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন শ্রীময়ী
এই প্রসঙ্গটি আরও আলোচনায় এসেছে কারণ কাঞ্চন মল্লিকের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মস্করা নতুন নয়।
কাঞ্চনের একাধিক বিয়ে এবং তাঁদের বয়সের ব্যবধান নিয়ে এই দম্পতিকে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের মন্তব্য ও ট্রোলের মুখে পড়তে হয়েছে।
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে শ্রীময়ী জানিয়েছিলেন, কাঞ্চনের ইন্ডাস্ট্রির বন্ধুরা তাঁর সামনেই অভিনেতার একাধিক বিয়ে নিয়ে মস্করা করলে তিনি মাঝে মাঝে অবাক হন। সেই মস্করার ভাষা এবং রুচিবোধ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।
ফলে ‘রাঁধুনি না কাঁদুনি’-র প্রোমোয় তাঁর এমন প্রতিক্রিয়া দেখে পুরনো সেই বক্তব্যও ফের আলোচনায় এসেছে।
সত্যিই কি রেগে গিয়েছিলেন শ্রীময়ী?
এখানেই রয়েছে আসল প্রশ্ন।
প্রোমোয় শ্রীময়ীকে অত্যন্ত সিরিয়াস দেখালেও তিনি সত্যিই ব্যক্তিগতভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন কি না, তার কোনও স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
বরং একাধিক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে, গোটা ঘটনাটি অনুষ্ঠানের মজার অংশও হতে পারে।
টেলিভিশনের প্রোমোতে অনেক সময় কোনও একটি মুহূর্তকে এমনভাবে সাজানো হয় যাতে দর্শকের কৌতূহল তৈরি হয়। ফলে শুধুমাত্র কয়েক সেকেন্ডের প্রোমো দেখে ঘটনাটিকে নিশ্চিত বাস্তব ঝামেলা বা সত্যিকারের বিবাদ বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
শ্রীময়ী-কাঞ্চনের জুটি এখন টেলিভিশনে
বাস্তব জীবনে স্বামী-স্ত্রী কাঞ্চন ও শ্রীময়ী এবার প্রথমবারের মতো টেলিভিশনের পর্দায় জুটি বেঁধে অংশ নিচ্ছেন এই রান্নার অনুষ্ঠানে।
শ্রীময়ী নিজেও জানিয়েছেন, এই শো তাঁর কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে অনুষ্ঠানের নির্মাতারা শুরু থেকেই রান্নার পাশাপাশি তারকাদের গল্প, খুনসুটি এবং মজার পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
তাই প্রোমোর এই ‘রাগ’ কতটা বাস্তব আর কতটা বিনোদনের অংশ—সেটাই এখন দর্শকদের কৌতূহলের কেন্দ্র।
আসল উত্তর মিলবে শো-তেই?
এক মুহূর্তে হাসি, পরের মুহূর্তেই গম্ভীর মুখ—শ্রীময়ীর এই বদলে যাওয়া আচরণ ইতিমধ্যেই প্রোমোটিকে ঘিরে আগ্রহ বাড়িয়েছে।
তবে এখনও পর্যন্ত এটিকে সত্যিকারের ঝগড়া বা ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে নিশ্চিত করার মতো তথ্য নেই।
বরং আপাতত এটুকুই বলা যায়, কাঞ্চনের স্ত্রীকে নিয়ে ব্যক্তিগত মন্তব্যের প্রসঙ্গে শ্রীময়ী ক্যামেরার সামনেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। আর সেই দৃশ্যই এখন ‘রাঁধুনি না কাঁদুনি’-র নতুন প্রোমোর অন্যতম চর্চিত মুহূর্ত।
স্ক্রিপ্টেড মস্করা, নাকি সত্যিই রেগে গিয়েছিলেন শ্রীময়ী? উত্তর মিলবে পুরো পর্বে।



