ভারতীয় সঙ্গীতজগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, Asha Bhosle—যাঁর কণ্ঠস্বর প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করেছে। তাঁর গাওয়া অসংখ্য গান আজও মানুষের হৃদয়ে অমলিন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর জীবন, কর্মজীবন এবং সম্পত্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, বিশেষ করে তাঁর উপার্জন ও সম্পদের পরিমাণ নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে।
পাঁচের দশক থেকে শুরু করে একবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত বিস্তৃত তাঁর ক্যারিয়ার ভারতীয় সংগীতের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। Lata Mangeshkar, Kishore Kumar এবং Mohammed Rafi-এর মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে একই সময়ে কাজ করে নিজের স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করেছিলেন আশা ভোঁসলে।
তাঁর গাওয়া “পিয়া তু আব তো আজা”, “রঙ্গিলা রে”, “শারারা শারারা” কিংবা “জায়ে আপ কাহাঁ জায়েঙ্গে”—এই সব গান শুধু জনপ্রিয়ই নয়, বরং ভারতীয় সিনেমার সোনালি যুগের স্মারক হয়ে রয়েছে। বিভিন্ন ভাষায় হাজার হাজার গান গেয়ে তিনি বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেন।
সংগীতের পাশাপাশি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন সমান সফল। ‘Asha’s’ নামে তাঁর একটি আন্তর্জাতিক রেস্তোরাঁ চেইন রয়েছে, যা প্রথম শুরু হয় দুবাইয়ে। এরপর ধীরে ধীরে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন এবং যুক্তরাজ্যের মতো বিভিন্ন দেশে এর বিস্তার ঘটে। বিশেষ করে Dubai এবং Birmingham-এর মতো শহরে তাঁর রেস্তোরাঁ বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এই ব্যবসা তাঁর আয়ের একটি বড় উৎস হয়ে দাঁড়ায়।
সম্পত্তির দিক থেকে বিচার করলে, আশা ভোঁসলের মোট সম্পদের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা অনুমান শোনা যায়। বেশ কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে। মুম্বই ও পুনের মতো শহরে তাঁর একাধিক মূল্যবান আবাসন ছিল, যা তাঁর সম্পদের অন্যতম প্রধান অংশ।
তবে তাঁর আয়ের মূল ভিত্তি ছিল অবশ্যই সংগীত। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি খুব বেশি পারিশ্রমিক পেতেন না। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে একজন গায়িকার জন্য গড় পারিশ্রমিক ছিল প্রায় ১০০ থেকে ৫০০ টাকা প্রতি গান। সেই সময় সংগীতশিল্পীদের জন্য রয়্যালটির কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা ছিল না, ফলে একবার গান রেকর্ড করার পরই পারিশ্রমিক সীমাবদ্ধ থাকত।
সত্তরের দশকে জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পারিশ্রমিকও বৃদ্ধি পায়। তখন তিনি প্রতি গানের জন্য প্রায় ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পেতেন। আশি ও নব্বইয়ের দশকে এসে তিনি যখন ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষস্থানীয় শিল্পীদের একজন হয়ে ওঠেন, তখন তাঁর পারিশ্রমিক বেড়ে দাঁড়ায় ২৫,০০০ থেকে ১ লক্ষ টাকার মধ্যে। কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ গান বা লাইভ পারফরম্যান্সের জন্য এই অঙ্ক ২ থেকে ৫ লক্ষ টাকা বা তারও বেশি হতে পারত।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তাঁর কাজ R. D. Burman-এর সঙ্গে। তাঁদের যুগলবন্দি ভারতীয় সঙ্গীতে এক নতুন মাত্রা যোগ করে এবং একের পর এক হিট গান উপহার দেয়, যা তাঁর জনপ্রিয়তা ও বাজারমূল্য আরও বাড়িয়ে দেয়।
শুধু ভারতে নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও তিনি বহু লাইভ কনসার্ট করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ত্রিনিদাদ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে তাঁর পারফরম্যান্স তাঁকে বিশ্বমানের শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আশা ভোঁসলের জীবন শুধু সংগীত নয়, পরিশ্রম, প্রতিভা এবং সঠিক সিদ্ধান্তের এক অনন্য উদাহরণ। তাঁর গানের মতোই তাঁর জীবনও এক অনুপ্রেরণার গল্প।
আপনার প্রিয় আশা ভোঁসলের গান কোনটি? কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না!



