সর্দি, কাশি ও জ্বরের মতো উপসর্গ নিয়ে আবারও চিকিৎসকের কাছে ভিড় বাড়ছে। বর্ষার মরসুমে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বাড়ার পাশাপাশি কোভিড-১৯-এর নতুন কিছু ভ্যারিয়েন্ট নিয়েও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। যদিও বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে মৃদু, তবুও বয়স্ক ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা মানুষের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলে মত চিকিৎসকদের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে দীর্ঘদিন জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
নতুন কোভিড ভ্যারিয়েন্টের সাধারণ উপসর্গ কী কী?
বর্তমানে শনাক্ত হওয়া কোভিডের বিভিন্ন সাব-ভ্যারিয়েন্টে উপসর্গ ব্যক্তি ভেদে আলাদা হতে পারে। তবে সাধারণভাবে যে লক্ষণগুলি বেশি দেখা যায়, সেগুলি হল—
- জ্বর বা শরীর গরম লাগা
- গলা ব্যথা
- শুকনো বা কফযুক্ত কাশি
- নাক বন্ধ বা সর্দি
- মাথাব্যথা
- শরীরে ব্যথা ও দুর্বলতা
- অতিরিক্ত ক্লান্তি
- স্বাদ বা গন্ধের পরিবর্তন (সব ক্ষেত্রে নয়)
- শ্বাস নিতে কষ্ট বা শ্বাসকষ্ট (গুরুতর ক্ষেত্রে)
এসব উপসর্গ দেখা দিলে, বিশেষ করে যদি কয়েকদিন ধরে স্থায়ী হয় বা বাড়তে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে?
চিকিৎসকদের মতে, কয়েকটি গোষ্ঠীর মানুষের ক্ষেত্রে কোভিড সংক্রমণ জটিল আকার নিতে পারে।
এর মধ্যে রয়েছেন—
- ৬০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি
- ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী
- হৃদরোগ বা ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি
- কিডনি বা লিভারের জটিল রোগী
- গর্ভবতী নারী
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তি
এই গোষ্ঠীর কারও শ্বাসকষ্ট, অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া বা উচ্চ জ্বর দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করা জরুরি।
কেন বারবার নতুন ভ্যারিয়েন্ট তৈরি হচ্ছে?
ভাইরাসের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যই হলো সময়ের সঙ্গে জিনগত পরিবর্তন বা মিউটেশন হওয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, SARS-CoV-2 ভাইরাসও ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট তৈরি হতে পারে, যেগুলি পূর্বের সংক্রমণ বা টিকার মাধ্যমে তৈরি প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কিছুটা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হতে পারে। তবে বর্তমান ভ্যাকসিন এখনও গুরুতর অসুস্থতা ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিচের লক্ষণগুলির কোনওটি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন—
- এক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে জ্বর
- শ্বাস নিতে অসুবিধা
- অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া
- বুকে ব্যথা
- অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা বিভ্রান্তি
- বয়স্ক বা দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি
কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?
চিকিৎসকরা এখনও কয়েকটি সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন—
- ভিড় বা বদ্ধ জায়গায় প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করুন।
- নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।
- অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে সতর্ক থাকুন।
- সুষম খাদ্য ও পর্যাপ্ত ঘুমের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখুন।
- কোভিডের উপসর্গ থাকলে অন্যদের থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখুন এবং প্রয়োজনে পরীক্ষা করান।
চিকিৎসকরা কী বলছেন?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে কোভিড-১৯ অনেক অঞ্চলে একটি এন্ডেমিক সংক্রমণের মতো আচরণ করছে। অর্থাৎ, ভাইরাসটি সম্পূর্ণভাবে চলে যায়নি এবং সময়ে সময়ে সংক্রমণ বাড়তে পারে। তবে আগের মহামারির সময়ের তুলনায় অধিকাংশ রোগীর উপসর্গ এখন তুলনামূলকভাবে হালকা এবং বেশিরভাগই বাড়িতে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠছেন।
তবে বয়স্ক ব্যক্তি, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সতর্কতা কমানো উচিত নয়।
শেষ কথা
করোনা ভাইরাস এখনও পুরোপুরি বিদায় নেয়নি। তাই জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গকে অবহেলা না করে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। আতঙ্ক নয়, সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেকে ও পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষিত রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।



