আয়ারল্যান্ডের কাছে হারের পর চাপ বেড়েছে ভারতের
বেলফাস্টে অনুষ্ঠিত প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতের ব্যাটিং এবং বোলিং—দুই বিভাগই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ওপেনিং থেকে শুরু করে মিডল অর্ডার পর্যন্ত একাধিক ব্যাটার বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। একমাত্র অভিষেক শর্মা কিছুটা লড়াই করলেও বাকিরা ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে বোলাররাও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রান আটকাতে পারেননি, যার ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দ্রুত আয়ারল্যান্ডের হাতে চলে যায়।
এই হারের পর স্বাভাবিকভাবেই টিম ম্যানেজমেন্টের উপর চাপ বেড়েছে। সিরিজে টিকে থাকতে হলে পরের ম্যাচে জয় ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। তাই দলে একাধিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরাও।
বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে বাড়ছে জল্পনা
প্রথম ম্যাচের আগে থেকেই বৈভব সূর্যবংশীর আন্তর্জাতিক অভিষেক নিয়ে প্রবল উত্তেজনা ছিল। আইপিএলে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পর তাঁকে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও প্রথম একাদশে সুযোগ পাননি তিনি। এই সিদ্ধান্তে অনেক ক্রিকেটপ্রেমী বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন।
এখন প্রশ্ন উঠছে, পরের ম্যাচে কি সেই সিদ্ধান্ত বদলাতে চলেছে?
ভারতীয় ক্রিকেট মহলের একাংশের মতে, আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত বৈভবকে পাওয়ার প্লে-তে ব্যবহার করলে দলের রান তোলার গতি অনেকটাই বাড়তে পারে। বিশেষ করে প্রথম ম্যাচে টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর নতুন বিকল্প হিসেবে তাঁর নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
কার জায়গায় সুযোগ পেতে পারেন বৈভব?
বিভিন্ন ক্রিকেট বিশ্লেষকের মতে, যদি বৈভবকে সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে তিলক ভার্মার পরিবর্তে তাঁকে দলে নেওয়ার। যদিও টিম ম্যানেজমেন্ট এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, তবুও প্রথম ম্যাচে মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার কারণে ব্যাটিং অর্ডারে কিছু পরিবর্তন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্ভাব্য পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৈভব ওপেনিংয়ে নামলে অভিষেক শর্মার সঙ্গে নতুন জুটি গড়তে পারেন। এরপর সঞ্জু স্যামসনকে তিন নম্বরে এবং ঈশান কিষাণকে চার নম্বরে দেখা যেতে পারে। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার পাঁচ নম্বরে নেমে ইনিংস গড়ার দায়িত্ব নিতে পারেন। তবে এটি সম্পূর্ণ সম্ভাব্য সমীকরণ; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ম্যাচের আগে টিম ম্যানেজমেন্টই নেবে।
বোলিং বিভাগেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা
শুধু ব্যাটিং নয়, বোলিং নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রথম ম্যাচে কয়েকজন পেসারের পারফরম্যান্স প্রত্যাশামতো না হওয়ায় পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ডেথ ওভারে রান আটকাতে ব্যর্থ হওয়ায় নতুন বোলারকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
তবে ভারতের জন্য ইতিবাচক দিকও রয়েছে। কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটার ভালো ছন্দে রয়েছেন এবং টিম ম্যানেজমেন্ট চাইলে তাঁদের সুযোগ দিয়ে দলকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করতে পারে।
গম্ভীরের সামনে কঠিন পরীক্ষা
প্রধান কোচ হিসেবে গৌতম গম্ভীরের লক্ষ্য এখন দ্রুত দলকে ঘুরে দাঁড় করানো। নতুন নেতৃত্বে ভারতীয় দল এখনও নিজেদের সেরা ছন্দ খুঁজে চলেছে। ফলে এই পরিস্থিতিতে সঠিক দল নির্বাচন এবং ম্যাচ পরিকল্পনাই হতে পারে সিরিজ বাঁচানোর প্রধান চাবিকাঠি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু একটি পরিবর্তন নয়, দলের মানসিকতাতেও পরিবর্তন আনা জরুরি। পাওয়ার প্লে-তে ইতিবাচক ব্যাটিং, মিডল ওভারে উইকেট ধরে রাখা এবং শেষ দিকে কার্যকর বোলিং—এই তিনটি দিকেই উন্নতি করতে হবে।
এখন সবার নজর দ্বিতীয় ম্যাচে
পরবর্তী ম্যাচটি ভারতের কাছে কার্যত ‘ডু অর ডাই’ লড়াই। সিরিজে সমতা ফেরাতে হলে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই অনেক বেশি ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দরকার। বৈভব সূর্যবংশীকে সুযোগ দেওয়া হবে কি না, কিংবা প্রথম একাদশে আর কী কী পরিবর্তন আসবে, তা নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—প্রথম ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতেই হবে ভারতকে। কারণ এই সিরিজ শুধু একটি দ্বিপাক্ষিক লড়াই নয়, আগামী বড় টুর্নামেন্টগুলোর প্রস্তুতির দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন দেখার, গৌতম গম্ভীর ও শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বে ভারতীয় দল দ্বিতীয় ম্যাচে কীভাবে প্রত্যাবর্তন করে এবং সমালোচনার জবাব মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই দিতে পারে কি না।



