Tuesday, July 14, 2026
Google search engine
Homeরাজ্যপাটহাজরায় মিছিল ঘিরে উত্তেজনা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে দলীয় কর্মীকে চড় মমতা...

হাজরায় মিছিল ঘিরে উত্তেজনা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে দলীয় কর্মীকে চড় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের; পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

কলকাতার হাজরা ও হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট এলাকায় বুধবার একটি রাজনৈতিক মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বারুইপুরের সাম্প্রতিক ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে আয়োজিত ওই মিছিলে একসময় দুই রাজনৈতিক শিবিরের সমর্থকদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এই উত্তেজনার মধ্যেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভিড় সামলানোর সময় তাঁকে এক দলীয় কর্মীকে চড় মারতে দেখা যায়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

কীভাবে শুরু হল উত্তেজনা?

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে বালিগঞ্জ ফাঁড়ি এলাকা থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।

মিছিলটি হাজরা মোড়ের কাছে পৌঁছতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, রাস্তার অন্য প্রান্ত থেকে পাল্টা স্লোগান দেওয়া হয়। এরপর দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে কী ঘটেছিল?

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মিছিল এগোনোর সময় হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট এলাকায় ভিড় দ্রুত বেড়ে যায়। একই সময়ে রাজনৈতিক স্লোগান ও পাল্টা স্লোগানকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।

পরিস্থিতি যাতে আরও অবনতি না ঘটে, সেই কারণে পুলিশ ব্যারিকেড তৈরি করে এবং জনতাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিছু সময়ের জন্য এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন রাস্তায় নামলেন?

উত্তেজনার খবর পেয়ে নিজের কালীঘাটের বাসভবন থেকে বেরিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং ভিড় সরিয়ে রাস্তা ফাঁকা করার চেষ্টা করেন।

এই সময়ে অতিরিক্ত ভিড় ও ধাক্কাধাক্কির মধ্যে তাঁকে এক ব্যক্তিকে চড় মারতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত তৃণমূলের একাংশের দাবি, ওই ব্যক্তি দলেরই কর্মী ছিলেন এবং বিশৃঙ্খলার মধ্যে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতেই নেত্রী এমন আচরণ করেন। যদিও এই বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

পুলিশের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ তুললেন মমতা?

ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, আদালতের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও মিছিল নির্বিঘ্নে এগোতে পারেনি।

তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর বাড়ির সামনে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীরা জড়ো হয়ে স্লোগান দেন এবং উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের আরও সক্রিয় ভূমিকা থাকা উচিত ছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

বিরোধী শিবিরের প্রতিক্রিয়া

ঘটনার পর বিজেপির পক্ষ থেকেও তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচরণের সমালোচনা করে বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চাপের মধ্যে রয়েছেন এবং সেই কারণেই তাঁর আচরণে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিরোধী পক্ষ পরিকল্পিতভাবে মিছিলকে ঘিরে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করেছিল।

হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে কেন উঠছে প্রশ্ন?

এই ঘটনায় আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। তৃণমূলের দাবি, কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়েই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।

সেই কারণেই প্রশ্ন উঠেছে, আদালতের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও কেন মিছিল চলাকালীন এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হল। যদিও এই বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

ভাইরাল ভিডিও নিয়ে আলোচনা

ঘটনার পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই ভিডিও, যেখানে তাঁকে ভিড়ের মধ্যে এক ব্যক্তিকে চড় মারতে দেখা যায়।

তবে শুধুমাত্র একটি ভিডিওর ভিত্তিতে পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। ভিডিওর আগে ও পরে কী পরিস্থিতি ছিল, তা তদন্ত বা প্রত্যক্ষদর্শীদের পূর্ণ বিবরণ থেকেই স্পষ্ট হতে পারে।

রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল

বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে রাজনৈতিক সংঘাত এমনিতেই তীব্র আকার নিয়েছে। তার মধ্যেই কলকাতার এই ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা আরও বেড়েছে।

শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ তুলছে। ফলে বিষয়টি এখন শুধুমাত্র একটি মিছিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে।

সাধারণ মানুষের কাছে কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনা?

রাজনৈতিক কর্মসূচি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক অংশ। তবে কোনও কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘর্ষ, বিশৃঙ্খলা বা উত্তেজনা তৈরি হলে তার প্রভাব সাধারণ মানুষের উপরও পড়ে। যান চলাচল ব্যাহত হওয়া, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন—সব মিলিয়ে নাগরিকদের ভোগান্তিও বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং আদালতের নির্দেশ ও প্রশাসনিক বিধি মেনে কর্মসূচি পরিচালনা করা সব পক্ষেরই দায়িত্ব।

এখনও কী জানা বাকি?

এই ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট এখনও প্রকাশিত হয়নি। মিছিল চলাকালীন কীভাবে উত্তেজনা শুরু হল, কোন পরিস্থিতিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন পড়ল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ঘাটতি ছিল কি না—এসব বিষয় নিয়ে আরও তথ্য সামনে আসার অপেক্ষা রয়েছে।

তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যাখ্যা সামনে এলে ঘটনাটির পূর্ণ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে। আপাতত রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি নজর রয়েছে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেও।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments