Tuesday, October 13, 2026
Google search engine
Homeরাজ্যপাটরাষ্ট্রপতির আপত্তিতে থমকাল ‘গুন্ডা দমন’ বিল! কেন ফেরত গেল শুভেন্দু সরকারের বিল?

রাষ্ট্রপতির আপত্তিতে থমকাল ‘গুন্ডা দমন’ বিল! কেন ফেরত গেল শুভেন্দু সরকারের বিল?

পশ্চিমবঙ্গের বহুচর্চিত ‘গুন্ডা দমন বিল’ নিয়ে বড় সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিধানসভায় পাশ হওয়া ‘West Bengal Public Safety and Control of Anti-Social Activities Bill, 2026’-এ সম্মতি না দিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সেটি পুনর্বিবেচনার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে ফেরত পাঠিয়েছেন।

কেন্দ্রের আপত্তির মূল জায়গা মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ। কেন্দ্রের বক্তব্য, প্রস্তাবিত রাজ্য আইনের একটি বিধান ১৯৮৫ সালের NDPS Act এবং মাদক পাচার রোধে ব্যবহৃত কেন্দ্রীয় আইনি কাঠামোর সঙ্গে overlapping বা সমান্তরাল ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে। এই সম্ভাব্য সংঘাত থেকেই উঠেছে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৫৪-এর প্রশ্ন।

তবে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—এই প্রশ্ন আজ তৈরি হয়নি। এর আগেই কলকাতা হাইকোর্টে তিনটি জনস্বার্থ মামলা খারিজ হয়েছিল এই কারণে যে, সংশ্লিষ্ট বিল তখনও রাষ্ট্রপতির সম্মতি পায়নি এবং তাই তাকে চ্যালেঞ্জ করার আবেদনকে আদালত অকালপক্ব বলে মনে করেছিল।

কী আছে ‘গুন্ডা দমন’ বিলে?

২০২৬ সালের ২৯ জুন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় West Bengal Public Safety and Control of Anti-Social Activities Bill, 2026 পাশ হয়। বিলটির লক্ষ্য হিসেবে জননিরাপত্তা বজায় রাখা এবং সমাজবিরোধী ও সংগঠিত অপরাধমূলক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে।

বিলে প্রতিরোধমূলক আটক-সহ বেশ কিছু কঠোর ক্ষমতার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনও ব্যক্তিকে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে হলে দীর্ঘ সময় আটক রাখার ব্যবস্থাও ছিল।

এই কারণেই বিলটি নিয়ে শুরু থেকেই রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

কিন্তু বিলটি আইনে পরিণত হয়েছিল কি?

এখানেই তৈরি হয়েছিল সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

৬ অগস্ট ২০২৬-এ কলকাতা হাইকোর্টে বিলটির সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া তিনটি জনস্বার্থ মামলা খারিজ হয়। আদালতের সামনে রাজ্য সরকার নিজেই জানায়, বিলটি তখনও রাষ্ট্রপতির সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে।

আদালত স্পষ্ট করে যে, রাষ্ট্রপতির প্রয়োজনীয় সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত বিধানসভায় পাশ হওয়া এই বিলকে পূর্ণাঙ্গ আইন হিসেবে ধরে তার সাংবিধানিক বৈধতা পরীক্ষা করার প্রশ্ন ওঠে না। তাই মামলাগুলিকে অকালপক্ব বলে খারিজ করা হয়।

অর্থাৎ, বিধানসভায় বিল পাশ হওয়া এবং বিল আইনে পরিণত হওয়া—দুটি এক জিনিস নয়।

মুখ্যমন্ত্রীর আগের দাবিকে ঘিরে কেন বিতর্ক?

এর আগের সময়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন যে ‘গুন্ডা দমন আইন’ কার্যকর হয়েছে এবং নির্দিষ্ট ঘটনায় সেটি প্রয়োগও করা হয়েছে—এমন দাবি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

কিন্তু ৬ অগস্টের শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবীদের বক্তব্য ছিল, বিলটি তখনও রাষ্ট্রপতির সম্মতির অপেক্ষায়। এই দুই বক্তব্যের মধ্যে যে স্পষ্ট অসঙ্গতি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়েই রাজনৈতিক বিতর্ক হয়।

তাই এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পার্থক্য মনে রাখা দরকার—সরকার কোনও বিলকে ‘আইন’ বলে রাজনৈতিকভাবে উল্লেখ করলেই সেটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে কার্যকর আইন হয়ে যায় না।

রাষ্ট্রপতি কেন বিলটি ফেরত পাঠালেন?

২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, কেন্দ্রের নোটে বিলটির Section 2(d)(iii)(B) নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত সংজ্ঞায় NDPS Act-এর অধীনে অপরাধ করা, করার চেষ্টা, প্ররোচনা, প্রচার, অর্থ জোগান বা সহযোগিতার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকেও ‘গুন্ডা’-র আওতায় আনার কথা ছিল।

কেন্দ্রের যুক্তি, মাদক সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় আইনে ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ করে PITNDPS Act, 1988 মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রতিরোধমূলক আটকের জন্য আলাদা আইনি কাঠামো তৈরি করেছে।

ফলে একই ধরনের বিষয়ে রাজ্য আইন আর কেন্দ্রীয় আইনের মধ্যে সমান্তরাল ব্যবস্থা তৈরি হলে সংবিধানের ২৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী repugnancy বা আইনি সংঘাতের প্রশ্ন উঠতে পারে। সেই কারণেই NDPS Act-এর অধীনে অপরাধের উল্লেখটি সংশোধন বা বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এবার কী করতে পারে রাজ্য সরকার?

রাষ্ট্রপতির সম্মতি না পাওয়ায় বর্তমান অবস্থায় বিলটি পূর্ণাঙ্গ আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি।

তবে এখানেই প্রক্রিয়া শেষ নয়। কেন্দ্রের আপত্তির জায়গাগুলি বিবেচনা করে রাজ্য সরকার সংশোধন আনতে পারে। এরপর বিধানসভায় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিলটি আবার রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানোর সুযোগ রয়েছে—এমনটাই সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে রিপোর্টে বলা হয়েছে।

অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতি বিলটি স্থায়ীভাবে বাতিল করে দিয়েছেন—এমন বলা ঠিক হবে না। বরং আপত্তির জায়গাগুলি সংশোধন করে পুনরায় সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পথ খোলা রয়েছে।

তাহলে এখন ‘গুন্ডা দমন আইন’-এর অবস্থান কী?

সহজ করে বললে—

বিধানসভায় পাশ হয়েছে → রাষ্ট্রপতির সম্মতি প্রয়োজন ছিল → সম্মতি না দিয়ে পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত এসেছে → তাই বর্তমান বিলটি এখনও চূড়ান্ত আইন নয়।

এই অবস্থানই ৬ অগস্টের কলকাতা হাইকোর্টের শুনানি এবং ২৫ সেপ্টেম্বরের রাষ্ট্রপতি-সংক্রান্ত নতুন developments—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

FACT CHECK

দাবি: ‘গুন্ডা দমন বিল’ বিধানসভায় পাশ হয়েছে।
সত্য: হ্যাঁ, ২৯ জুন ২০২৬ বিলটি বিধানসভায় পাশ হয়।

দাবি: বিলটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেয়েছে।
সত্য: ২৫ সেপ্টেম্বরের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি অনুমোদন না দিয়ে পুনর্বিবেচনার জন্য বিলটি ফেরত পাঠিয়েছেন।

দাবি: বিলের মাদক সংক্রান্ত অংশ নিয়ে আপত্তি রয়েছে।
সত্য: কেন্দ্রের আপত্তির মূল বিষয়ই NDPS Act এবং PITNDPS Act-এর সঙ্গে সম্ভাব্য overlap ও Article 254-এর repugnancy।

দাবি: বিলটি ইতিমধ্যেই স্থায়ীভাবে বাতিল।
সত্য: এমন নয়। প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর বিলটি পুনরায় বিধানসভায় এনে রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।

SEO তথ্য

SEO Title: রাষ্ট্রপতির আপত্তিতে থমকাল ‘গুন্ডা দমন’ বিল! কেন ফেরত গেল শুভেন্দু সরকারের বিল?

Meta Description: পশ্চিমবঙ্গের ‘গুন্ডা দমন বিল’ কেন রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেল না? NDPS Act, PITNDPS Act ও সংবিধানের ২৫৪ অনুচ্ছেদ নিয়ে কেন্দ্রের আপত্তি কী, জানুন বিস্তারিত।

Primary Keyword: গুন্ডা দমন বিল

Slug: west-bengal-goonda-daman-bill-president-ndps-objection

Google Discover Headline: রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিলল না ‘গুন্ডা দমন’ বিলে! NDPS Act নিয়ে আপত্তি, এবার কী করবে রাজ্য?

SEO Tags: গুন্ডা দমন বিল, West Bengal Goonda Daman Bill, West Bengal Public Safety Bill 2026, শুভেন্দু অধিকারী, দ্রৌপদী মুর্মু, President Droupadi Murmu, NDPS Act, PITNDPS Act, Article 254, পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতি, কলকাতা হাইকোর্ট, West Bengal News

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments