Monday, March 2, 2026
Google search engine
Homeরাজ্যপাটমালদায় কার্নিভাল ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক, মুখোমুখি তৃণমূল–বিজেপি !

মালদায় কার্নিভাল ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক, মুখোমুখি তৃণমূল–বিজেপি !

ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ এলেই মালদা জেলার ইংরেজবাজার শহরে শুরু হয় উৎসবের আমেজ। বড়দিন থেকে নতুন বছর—এই সাত দিনের মধ্যেই আয়োজন করা হয় বহুচর্চিত মালদা কার্নিভাল। প্রতি বছরের মতো এ বছরও ২৫ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এই কার্নিভাল। তবে উৎসবের প্রস্তুতির পাশাপাশি এবার শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। কার্নিভালের নামে ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও প্রোমোটারদের কাছ থেকে জোর করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে, যা ঘিরে মুখোমুখি অবস্থানে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি।

কার্নিভালের প্রস্তুতি তুঙ্গে

ইংরেজবাজার পৌরসভা ও কার্নিভাল কমিটির উদ্যোগে শহরের বিবেকানন্দ ময়দানে বিগত কয়েক বছর ধরেই জাঁকজমক করে এই কার্নিভাল আয়োজন করা হয়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। ইতিমধ্যেই শহরজুড়ে কার্নিভালের তোরণ, আলোকসজ্জার কাজ শুরু হয়ে গেছে। বিবেকানন্দ ময়দানে জোর কদমে চলছে মঞ্চ তৈরির কাজ।

ইংরেজবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী জানিয়েছেন, এ বছরের কার্নিভালে ফকিরা ব্যান্ড, মানসী ঘোষ, জাবেদ আলি-সহ একাধিক জনপ্রিয় শিল্পী অংশগ্রহণ করবেন। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের বিনোদনের কথা মাথায় রেখেই এই আয়োজন।

বরাদ্দ ও চাঁদা সংগ্রহ

পৌরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, কার্নিভালের জন্য ইংরেজবাজার পৌরসভা প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে। তবে পুরো কার্নিভালের খরচ শুধুমাত্র পৌরসভার অনুদানেই সীমাবদ্ধ নয়। কার্নিভাল কমিটির তরফে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, কন্ট্রাক্টর ও প্রোমোটারদের কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করা হয় বলেও জানানো হয়েছে।

আর এখান থেকেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

ব্যবসায়ী সংগঠনের গুরুতর অভিযোগ

মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি জয়ন্ত কুন্ডু অভিযোগ করেছেন, কার্নিভালের নামে ব্যবসায়ীদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, “উৎসব মানেই আনন্দ। কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেই যদি ব্যবসায়ীদের উপর জোর করে অর্থ আদায় করা হয়, তাহলে উৎসবের আসল উদ্দেশ্যই নষ্ট হয়ে যায়।”

তিনি আরও বলেন, অনেক ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাইছেন না, কারণ চাপের ভয় রয়েছে। এই পরিস্থিতি যাতে কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা হয়, সেই দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বিজেপির তীব্র আক্রমণ

ইংরেজবাজার পৌরসভার বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি কাউন্সিলর অম্লান ভাদুড়ী আরও কড়া ভাষায় বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁর অভিযোগ, “আগে কলকাতার পার্ক স্ট্রিট বা বড় শহরে কার্নিভাল হত। এখন জেলাগুলিতেও হচ্ছে, এতে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু কার্নিভালের নামে যেভাবে ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও প্রোমোটারদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়, তাকে তোলাবাজি বললেও কম বলা হবে।”

বিজেপির দাবি, প্রশাসনের নাকের ডগায় এই ঘটনা ঘটলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এই প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত বলে দাবি করেন তিনি।

তৃণমূলের পাল্টা সাফাই

বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ইংরেজবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বলেন, “মানুষ আনন্দ করবে, এটাই আমাদের লক্ষ্য। কার্নিভাল নিয়ে বিজেপি শুধু অভিযোগ করতে জানে।” তাঁর দাবি, চাঁদা সংগ্রহ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় হয় এবং কাউকে জোর করা হয় না।

তিনি আরও বলেন, কার্নিভাল শহরের পর্যটন ও অর্থনীতির জন্য উপকারী। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাই এর মাধ্যমে লাভবান হন। তাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়টিকে বিতর্কিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তৃণমূল নেতৃত্বের।

প্রশ্নের মুখে উৎসবের আনন্দ

এই মুহূর্তে প্রশ্ন উঠছে—কার্নিভাল কি শুধুই উৎসব, নাকি রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রদর্শনের মঞ্চ? ব্যবসায়ীদের উপর আদৌ কোনও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে কি না, তা তদন্তের দাবি উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।

একদিকে আলোকসজ্জা, গান-বাজনা আর উৎসবের প্রস্তুতি, অন্যদিকে চাঁদা আদায় ও রাজনৈতিক তরজা—সব মিলিয়ে মালদার কার্নিভাল এখন শুধুই আনন্দের উৎসব নয়, বরং রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments