টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতীয় দলকে অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখলেও একাধিক সতর্কবার্তা দিয়ে রাখলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ‘ক্যাপ্টেন কুল’-এর কথায় স্পষ্ট—এই ফরম্যাটে এক মুহূর্তের ভুলেই হাতছাড়া হতে পারে গোটা বিশ্বকাপ। তাই সূর্যকুমার যাদবদের আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি সতর্ক থাকার বার্তাও দিলেন ভারতের প্রাক্তন বিশ্বজয়ী অধিনায়ক।
২০০৭ সালে ধোনির নেতৃত্বেই প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে ভারত। সেই অভিজ্ঞ অধিনায়ক মনে করেন, বর্তমান ভারতীয় দলেও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সমস্ত উপাদান রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি এটাও মনে করিয়ে দেন যে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট এমন এক ফরম্যাট, যেখানে বড় দলও মুহূর্তে বিপদে পড়তে পারে। শনিবার মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে চলেছে টিম ইন্ডিয়া। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই নামবে সূর্যকুমার যাদবের দল।
টানা নয়টি দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের সুবাদে ভারত নিঃসন্দেহে ফেভারিট। কিন্তু ধোনির চোখে লুকিয়ে নেই বিপদের ইঙ্গিত। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আমাকে একটা জিনিস সবসময় চিন্তায় রাখে, সেটা হল শিশির। আমি শিশির একেবারেই পছন্দ করি না। এটা ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে।” ধোনির মতে, ভারতের মাঠে রাতের ম্যাচে শিশির বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। টস জয়ী দল প্রায়শই পরে ব্যাট করে বাড়তি সুবিধা পায়। স্পিনারদের কার্যকারিতাও অনেক সময় কমে যায়।
এই প্রসঙ্গে ধোনি বলেন, “ধরুন দশটা ম্যাচ খেলা হল। পরিবেশ যদি একই থাকে, তাহলে বেশিরভাগ সময় টস জেতা দলই এগিয়ে থাকে। এই কারণেই টি-টোয়েন্টিতে আগাম কিছু বলা যায় না।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট—পরিকল্পনা যতই নিখুঁত হোক, পরিস্থিতি মুহূর্তে বদলে যেতে পারে।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অনিশ্চয়তা নিয়েও খোলাখুলি কথা বলেন ধোনি। তিনি জানান, “যখন আপনার দলের কোনও গুরুত্বপূর্ণ প্লেয়ার ব্যর্থ হয়, আর বিপক্ষ দলের কেউ হঠাৎ দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দেয়, তখনই সমস্যা শুরু হয়। এটা লিগ পর্বেও হতে পারে, আবার নকআউটেও হতে পারে।” তাঁর মতে, এই ফরম্যাটে ভাগ্য, সময় এবং পরিস্থিতির ভূমিকা অনেক বেশি।
একই সঙ্গে ধোনি জোর দেন ফিটনেস এবং স্কোয়াডের গভীরতার উপর। তাঁর কথায়, “সবচেয়ে জরুরি হল কেউ যেন চোট না পায়। আর যাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে যেন সেটা ঠিকভাবে পালন করতে পারে।” ভারতকে সরাসরি এক নম্বর ফেভারিট বলতে না চাইলেও, ধোনি সূর্যকুমার যাদবদের ‘সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দল’ বলে আখ্যা দেন।
এই আলোচনা চলাকালীনই উঠে আসে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার একদিনের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গ। প্রশ্ন করা হয়, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে কি এই দুই তারকার খেলা উচিত? ধোনির জবাব ছিল স্পষ্ট ও অকপট। তিনি বলেন, “কেন খেলা উচিত নয়? ওরা যদি ফিট থাকে, পারফর্ম করতে পারে, তাহলে অবশ্যই খেলবে। বয়স আমার কাছে কখনও ফ্যাক্টর নয়।”
ধোনি নিজের উদাহরণ টেনে বলেন, “আমি যখন ভারতের হয়ে অভিষেক করি, তখন আমার বয়স ছিল ২৪। তখন কেউ প্রশ্ন তোলেনি। তাহলে ২০ বছর পরে কেন তোলা হবে? আসল বিষয় হল ফিটনেস আর পারফরম্যান্স।” তাঁর মতে, অভিজ্ঞতার মূল্য বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে অপরিসীম।
প্রাক্তন অধিনায়ক আরও বলেন, “রোহিত আর বিরাটের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা দলে থাকলে বাকিদের পথ দেখাতে পারে। কঠিন পরিস্থিতিতে কীভাবে ম্যাচ সামলাতে হয়, সেটা ওদের থেকে ভালো কেউ জানে না।” সবশেষে ধোনির বার্তা একটাই—ব্যক্তিগত রেকর্ড বা বয়স নয়, দেশের স্বার্থই সবার আগে। লক্ষ্য একটাই, বিশ্বকাপ জয়।
সব মিলিয়ে ধোনির কথায় স্পষ্ট—ভারতীয় দল শক্তিশালী, কিন্তু আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই। সামান্য ভুল, খারাপ দিন বা পরিবেশগত কারণই বদলে দিতে পারে পুরো সমীকরণ। তাই বিশ্বকাপের মঞ্চে টিম ইন্ডিয়াকে থাকতে হবে সর্বোচ্চ সতর্কতায়।



