RG Kar Case : আরজি কর। কলকাতার অন্যতম প্রাচীন ও প্রথম সারির সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। সেই হাসপাতালের অন্দরেই কর্মরত এক তরুণী চিকিৎসকের উপর নৃশংস অত্যাচার ও খুনের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা বাংলা, এমনকি দেশ ও বিদেশের মানুষকেও। ঘটনার দেড় বছর কেটে গেলেও আজও নিহত তরুণীর পরিবার মনে করে—ন্যায়বিচার এখনও অধরা। আর সেই ক্ষোভ, হতাশা ও লড়াইয়ের আবহেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। প্রশ্ন উঠছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কি ভোটে নামতে চলেছেন আরজি করের নির্যাতিতার বাবা-মা?
এই প্রশ্ন ঘিরেই সম্প্রতি রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মুখ হয়ে উঠেছিলেন নিহত তরুণীর বাবা-মা। রাজপথে আন্দোলন, অনশন, সাংবাদিক বৈঠক—সব ক্ষেত্রেই তাঁরা ছিলেন প্রতিবাদের প্রতীক। স্বাভাবিকভাবেই ভোটের আগে তাঁদের রাজনৈতিক ভূমিকায় নামা নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়ায়।
কোন আসন থেকে লড়াই? ভবানীপুর ও পানিহাটি নিয়ে জল্পনা
রাজনৈতিক সূত্রে শোনা যাচ্ছিল, উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নিহত তরুণীর পরিবারের কাউকে প্রার্থী করার কথা ভাবা হচ্ছে। এমনকী আরও চাঞ্চল্যকর দাবি উঠে আসে—ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-এর বিরুদ্ধে নির্যাতিতার মা বা বাবা প্রার্থী হতে পারেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই নতুন করে উত্তাল হয় রাজনৈতিক মহল।
কারণ ভবানীপুর মানেই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও ‘প্রতিবাদের মুখ’ দাঁড়ালে তার প্রভাব যে রাজ্য রাজনীতিতে পড়বে, তা বলাই বাহুল্য।
একাধিক দলের প্রস্তাব, কিন্তু সিদ্ধান্ত একটাই
খোঁজ নিয়ে জানা যাচ্ছে, নিহত তরুণীর বাবা-মায়ের কাছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে Bharatiya Janata Party, Communist Party of India (Marxist) এবং এমনকী রাজ্যের শাসক দল All India Trinamool Congress-এর তরফেও নাকি যোগাযোগ করা হয়েছিল।
কিন্তু সমস্ত জল্পনার মাঝেই নিহত তরুণীর বাবা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন তাঁদের অবস্থান। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন,
“আমরা রাজনীতিতে যাওয়ার কথা ভাবছিই না। এই ধরনের কোনও প্রস্তাব আমরা গ্রহণ করিনি। ভবিষ্যতেও করব না।”
তিনি আরও জানান, “আমাদের একমাত্র লক্ষ্য মেয়ের ন্যায়বিচার। রাজনীতি করে সেটা পাওয়া যাবে বলে আমরা মনে করি না।”
আগেও প্রস্তাব এসেছিল, তখনও ‘না’
এটাই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার নিহত তরুণীর মা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। কিন্তু তাঁরা প্রতিবারই সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। এমনকী তাঁরা নিজেরাই নিশ্চিত নন, আগামী নির্বাচনে তাঁরা ভোট দেবেন কি না।
মায়ের কথায়, “আমাদের জীবনে এখন শুধুই শূন্যতা। ভোট, সরকার, ক্ষমতা—এসব নিয়ে ভাবার মানসিক অবস্থায় আমরা নেই। যে দলই ক্ষমতায় আসুক, আমাদের দাবি একটাই—দোষীদের কঠোর শাস্তি।”
আরজি কর কাণ্ড কেন এখনও রাজনৈতিক ইস্যু?
আরজি কর হাসপাতালের এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি অপরাধ নয়, বরং তা হয়ে উঠেছিল স্বাস্থ্যব্যবস্থা, নারী নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিয়ে বড় প্রশ্ন। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন। চিকিৎসক সমাজ কর্মবিরতি পালন করেছিলেন। রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছিল।
আজ দেড় বছর পরেও সেই ক্ষত শুকোয়নি। বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই আরজি কর প্রসঙ্গ ফিরে আসছে আলোচনায়। বিরোধীরা শাসক দলকে কাঠগড়ায় তুলছে, আবার শাসক শিবির দাবি করছে আইন তার পথে চলছে।
শেষ পর্যন্ত কী বলছেন নির্যাতিতার বাবা-মা?
সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে নিহত তরুণীর বাবা-মা স্পষ্ট করেছেন—
👉 তাঁরা কোনও রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হবেন না
👉 ভোটে লড়াই তাঁদের লক্ষ্য নয়
👉 একমাত্র দাবি, দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত বিচার
রাজনৈতিক ময়দানে তাঁদের নাম ব্যবহার করে যে জল্পনা তৈরি হচ্ছে, তা তাঁদের আরও কষ্ট দিচ্ছে বলেও ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন তাঁরা।
উপসংহার
আরজি কর কাণ্ড বাংলা রাজনীতির এক অমোচনীয় অধ্যায়। ভোট আসবে, সরকার বদলাতে পারে, ক্ষমতার কেন্দ্র ঘুরবে। কিন্তু নিহত তরুণীর বাবা-মায়ের কাছে এই সব কিছুর ঊর্ধ্বে একটাই প্রশ্ন—তাঁদের মেয়ের বিচার কবে হবে? সেই প্রশ্নের উত্তর না মিললে, রাজনীতির কোনও প্রস্তাবই তাঁদের কাছে অর্থহীন।



