Wednesday, March 4, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাইতিহাস গড়ল ইডেন গার্ডেন্স, সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ভারত !

ইতিহাস গড়ল ইডেন গার্ডেন্স, সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ভারত !

Indian Cricket Team : ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে আরও একটি সোনালি অধ্যায় যুক্ত হল কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স-এ। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ৫ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল টিম ইন্ডিয়া। এই জয়ের নায়ক এক ও একমাত্র—সঞ্জু স্যামসন

৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলে শুধু ম্যাচ জেতাননি তিনি, ভেঙে দিয়েছেন একাধিক রেকর্ড। তাঁর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে কার্যত বিধ্বস্ত হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ

পাহাড়সম লক্ষ্য, কিন্তু ভয় পায়নি ভারত

ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৯৫ রান। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই রান যে কোনও দলের কাছেই বড় চ্যালেঞ্জ। ইডেন গার্ডেন্সের মতো ঐতিহাসিক মাঠে এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয়—সেটা কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করেছিলেন অনেকেই।

কিন্তু ভারতীয় দল শুরু থেকেই অন্য বার্তা দিল। ১৯৬ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শেষ পর্যন্ত ১৯.২ ওভারেই জয় ছিনিয়ে নেয় ‘মেন ইন ব্লু’। এই জয়ের সঙ্গে সঙ্গেই তৈরি হল নতুন ইতিহাস।

এক ম্যাচে একাধিক ইতিহাস

এই ম্যাচে জয়ের ফলে ভারতীয় ক্রিকেট দল দু’টি বড় নজির গড়েছে।
প্রথমত, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই প্রথমবার ভারত এত বড় রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয় পেল।
দ্বিতীয়ত, ইডেন গার্ডেন্সে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড কায়েম হল।

ক্রিকেটপ্রেমী কলকাতার জন্যও এটি এক গর্বের মুহূর্ত। ইডেনের গ্যালারি জুড়ে ছিল নীল জার্সির ঢেউ, আর শেষ ওভারে জয় আসতেই যেন বিস্ফোরিত হল আবেগ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস: লড়াইয়ের পুঁজি

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ব্যাট হাতে সবচেয়ে বেশি রান করেন রস্টন চেজ—৪০ রান। এছাড়া জেসন হোল্ডাররোভম্যান পাওয়েল দু’জনেই ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন।

ভারতের বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন জসপ্রীত বুমরাহ—তিনি নেন ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। এছাড়া হার্দিক পান্ডিয়াবরুণ চক্রবর্তী একটি করে উইকেট তুলে নেন।

রান তাড়ায় ধাক্কা, কিন্তু দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন সঞ্জু

রান তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুটা মোটেও স্বস্তির ছিল না। একের পর এক উইকেট পড়তে থাকায় চাপ বাড়তে থাকে ড্রেসিংরুমে। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, তিলক বর্মা—কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।

ঠিক তখনই ম্যাচের হাল ধরেন সঞ্জু স্যামসন। অন্য প্রান্তে উইকেট পড়লেও একচুল নড়েননি তিনি। নিখুঁত টাইমিং, ঠান্ডা মাথা আর পরিস্থিতি বোঝার অসাধারণ ক্ষমতায় ধীরে ধীরে ম্যাচ নিজের কব্জায় নিয়ে নেন সঞ্জু।

৯৭ রানের মহাকাব্য

সঞ্জু স্যামসনের অপরাজিত ৯৭ রান ছিল নিখাদ টি-টোয়েন্টি মাস্টারক্লাস। বড় শটের সঙ্গে সঙ্গে স্ট্রাইক রোটেশন, শেষ ওভারে চাপ সামলে ম্যাচ ফিনিশ—সব কিছুতেই ছিলেন নিখুঁত। তাঁর সঙ্গে শেষ দিকে শিবম দুবে অপরাজিত ৮ রান করে জয় নিশ্চিত করেন।

সেমিফাইনালে ভারতের আত্মবিশ্বাস

এই জয়ের ফলে শুধু সেমিফাইনালের টিকিটই নয়, আত্মবিশ্বাসের দিক থেকেও অনেক এগিয়ে গেল ভারত। বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয় মানে মানসিকভাবে প্রতিপক্ষকে এক ধাক্কায় পিছনে ফেলে দেওয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ম্যাচের পর ভারত কার্যত ট্রফির অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠেছে।

শেষ কথা

ইডেন গার্ডেন্সে এই ম্যাচ শুধু একটি জয় নয়, এটি এক স্মরণীয় ক্রিকেট-রাত। সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটে লেখা হল ইতিহাস, আর ভারতীয় ক্রিকেট পেল আরও একটি গর্বের মুহূর্ত। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এখন চোখ ভারতের—এই ফর্ম থাকলে স্বপ্ন যে আরও বড়, তা বলাই বাহুল্য।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments