Sanju Samson : ক্রিকেটে ভাগ্য বদলাতে খুব বেশি সময় লাগে না—একটা ইনিংসই যথেষ্ট। ঠিক তেমনই এক অবিশ্বাস্য রাত উপহার দিলেন সঞ্জু স্যামসন। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এমন এক ইনিংস খেললেন তিনি, যা শুধু ভারতকে সেমিফাইনালে তুলল না, ভেঙে দিল এক ঐতিহাসিক ‘বিরাট’ রেকর্ডও।
রান তাড়া করতে নেমে ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস—যার মধ্যে ছিল ১২টি চার ও ৪টি বিশাল ছক্কা। সঞ্জুর ব্যাটে ভর করেই ‘মেন ইন ব্লু’ ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় এবং কার্যত একাই দলকে পৌঁছে দেন সেমিফাইনালের দরজায়।
কোন রেকর্ডে কোহলিকে টপকালেন সঞ্জু?
এই ইনিংসের মাধ্যমেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রান তাড়া করতে নেমে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস খেলার নজির গড়েছেন সঞ্জু স্যামসন। এতদিন এই রেকর্ড ছিল বিরাট কোহলি-র দখলে।
কোহলি ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এবং ২০২২ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপরাজিত ৮২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। সেই রেকর্ডই এবার পিছনে ফেলে দিলেন সঞ্জু। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে, তাও চাপের রান তাড়ায়—এই কৃতিত্ব নিঃসন্দেহে ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে নেবে।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট: পাহাড়সম লক্ষ্য, শুরুতেই ধাক্কা
ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০ ওভারে ৪ উইকেটে তোলে ১৯৫ রান। ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানদের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯৬।
কিন্তু রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে ভারত। টপ অর্ডার ব্যর্থ, মিডল অর্ডারও সুবিধা করতে পারছে না। একের পর এক উইকেট পড়তে থাকায় ড্রেসিংরুমে বাড়ছিল টেনশন। এই পরিস্থিতিতে একপ্রকার প্রাচীর হয়ে দাঁড়ালেন সঞ্জু স্যামসন।
একাই লড়াই, একাই জয়
অন্য প্রান্তে উইকেট পড়লেও নিজের খেলা থেকে একচুলও নড়েননি সঞ্জু। কখনও নিখুঁত কভার ড্রাইভ, কখনও স্কুপ, আবার কখনও লং-অন দিয়ে উড়ন্ত ছক্কা—সব মিলিয়ে এক আধুনিক টি-টোয়েন্টি ইনিংসের নিখুঁত উদাহরণ।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, সঞ্জু ছাড়া ভারতের আর কোনও ব্যাটসম্যান ৩০ রানের গণ্ডিও পেরোতে পারেননি। চাপের মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকে ম্যাচ ফিনিশ করা—এই ইনিংস তাঁকে শুধুই ম্যাচ উইনার নয়, বড় মঞ্চের নির্ভরযোগ্য ব্যাটার হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করল।
সমালোচনা থেকে স্বপ্নপূরণ
এই ইনিংসের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় সঞ্জুর সাম্প্রতিক যাত্রাপথ দেখলে। টুর্নামেন্টের শুরুতে খারাপ ফর্মের কারণে প্রথম একাদশে নিয়মিত জায়গা পাননি তিনি।
নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে সুযোগ পেয়েও মাত্র ২২ রান, জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে করেন ২৪। সমালোচনার ঝড় উঠেছিল—অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন, বড় ম্যাচে সঞ্জু আদৌ ভরসাযোগ্য কি না। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এই ইনিংসেই সমস্ত প্রশ্নের জবাব ব্যাট হাতে দিয়ে দিলেন তিনি।
টিম ইন্ডিয়ার জন্য কী বার্তা দিল এই ইনিংস?
এই পারফরম্যান্স শুধু একটি ম্যাচ জেতানো ইনিংস নয়, বরং ভারতীয় দলের জন্য বড় বার্তা। সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মিডল অর্ডারে এমন একজন ব্যাটার থাকা, যিনি একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন—এটাই ভারতের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইনিংসের পর সঞ্জু স্যামসনের আত্মবিশ্বাস যেমন আকাশছোঁয়া হবে, তেমনই টিম ম্যানেজমেন্টও তাঁকে বড় ম্যাচের প্লেয়ার হিসেবে দেখতে শুরু করবে।
শেষ কথা
ক্রিকেটে রেকর্ড ভাঙে, নতুন ইতিহাস তৈরি হয়—কিন্তু কিছু ইনিংস থেকে যায় স্মৃতির পাতায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সঞ্জু স্যামসনের অপরাজিত ৯৭ ঠিক তেমনই এক ইনিংস। কোহলির রেকর্ড ভেঙে, সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে, ভারতকে সেমিফাইনালে তুলে এনে প্রমাণ করে দিলেন—সময় এলেই তিনি ‘বিরাট’ হয়ে উঠতে পারেন।



