Suvendu Adhikari : ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ ক্রমশ চড়ছে। তারই মধ্যে কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ভবানীপুরে শুরু হয়ে গেছে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই। এই কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই শাসক দলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সেই জায়গাতেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee—এমনই দাবি বিরোধী শিবিরের।
শুভেন্দুর প্রচারে বাড়ল উত্তেজনা
বৃহস্পতিবার সকালে ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়া এলাকায় জোরকদমে প্রচারে নামেন বিজেপি প্রার্থী Suvendu Adhikari। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের একাধিক নেতা-কর্মী। প্রচারের সময় ঢাক-ঢোল, পতাকা এবং স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ করেন Suvendu Adhikari। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমর্থন চাওয়ার পাশাপাশি তিনি আত্মবিশ্বাসের সুরে জানান, এবারে ভবানীপুরে পরিবর্তন আসবেই।
পাল্টা তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শন
অন্যদিকে বিজেপির এই প্রচারের মাঝেই পাল্টা শক্তি প্রদর্শনে নামে All India Trinamool Congress। রাস্তার উল্টো দিক থেকে তৃণমূল কর্মীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।
মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-র সমর্থনে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। দুই পক্ষের স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে মুহূর্তের মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভবানীপুর।
দেওয়াল লিখনে এগিয়ে তৃণমূল
যেখানে বিজেপি রাস্তায় নেমে প্রচারে জোর দিচ্ছে, সেখানে অন্য কৌশল নিয়েছে তৃণমূল শিবির। এদিন সকাল থেকেই ভবানীপুরের অলিগলিতে শুরু হয় জোরকদমে দেওয়াল লিখন।
তৃণমূল কর্মীদের দাবি, ভবানীপুর তাঁদের ‘নিজের মাঠ’। তাঁদের মতে, এই কেন্দ্রে Mamata Banerjee-র জনপ্রিয়তা এখনও অটুট, তাই বিরোধীদের দাবি বাস্তব থেকে অনেক দূরে।
হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র কেন ভবানীপুর?
ভবানীপুর শুধুমাত্র একটি সাধারণ কেন্দ্র নয়। এটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখান থেকেই বারবার জয় পেয়েছেন Mamata Banerjee।
ফলে এই কেন্দ্রকে ঘিরে সব সময়ই থাকে বাড়তি নজর। এবারের নির্বাচনে বিরোধী দল যদি এখানে ভালো ফল করতে পারে, তাহলে তা রাজনৈতিকভাবে বড় বার্তা দেবে।
উত্তেজনার মাঝে প্রশাসনের নজরদারি
দুই দলের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি যে কোনও সময় উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারত। সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
Kolkata Police-এর আধিকারিকরা গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন। যে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।
বিজেপির আত্মবিশ্বাস বনাম তৃণমূলের ঘাঁটি
বিজেপি শিবিরের দাবি, রাজ্যের মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের ইচ্ছা তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই এবারের নির্বাচনে তারা ইতিবাচক ফলের আশায় রয়েছে।
অন্যদিকে তৃণমূলের বক্তব্য, ভবানীপুর এখনও তাদের শক্ত ঘাঁটি। এখানে সংগঠন এবং জনসমর্থন—দুই দিক থেকেই তারা অনেকটাই এগিয়ে।
ভোটের আগে রাজনৈতিক বার্তা
এই ধরনের প্রচার, স্লোগান যুদ্ধ এবং দেওয়াল লিখন—সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে, নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক লড়াই তীব্র হচ্ছে।
ভবানীপুরে এই লড়াই শুধুমাত্র একটি আসনের জন্য নয়, বরং এটি রাজ্যের রাজনৈতিক শক্তির প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
উপসংহার
সব মিলিয়ে, Bhabanipur এখন রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে। একদিকে Suvendu Adhikari-র ঝোড়ো প্রচার, অন্যদিকে Mamata Banerjee-র সমর্থনে তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শন—সব মিলিয়ে উত্তেজনা চরমে।
এখন দেখার, এই হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রে শেষ পর্যন্ত কার পাল্লা ভারী হয়।



