পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বরাবরই বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা একটি নাম হল Humayun Kabir। একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী বিধায়ক, পরে দলবদল করে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন—এই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় বারবার শিরোনামে উঠে এসেছেন তিনি। এবার তাঁর সম্পত্তির হিসাব ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় প্রকাশ্যে আসে তাঁর আর্থিক তথ্য। সেই তথ্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে—কতটা সম্পত্তির মালিক এই নেতা, আর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে কীভাবে এত সম্পদ গড়ে তুললেন?
জানা গিয়েছে, Humayun Kabir-এর বার্ষিক আয় প্রায় ১৩ লক্ষ টাকার কিছু বেশি। তাঁর আয়ের প্রধান উৎস ব্যবসা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে প্রাপ্ত পারিশ্রমিক। একসময় ছোট ব্যবসা দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে সেই ব্যবসা অনেকটাই বিস্তৃত হয়েছে বলে জানা যায়।
সম্পত্তির হিসাবে দেখা যাচ্ছে, তাঁর হাতে নগদ রয়েছে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং বিমা প্রকল্পে বিনিয়োগ রয়েছে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার কাছাকাছি। অর্থাৎ, শুধুমাত্র নগদ ও আর্থিক বিনিয়োগ মিলিয়ে একটি স্থিতিশীল আর্থিক ভিত্তি তৈরি করেছেন তিনি।
অস্থাবর সম্পত্তির তালিকায় রয়েছে একটি বিলাসবহুল গাড়ি—Toyota Fortuner। বাজারদর অনুযায়ী যার মূল্য প্রায় ৩০ লক্ষ টাকারও বেশি। এছাড়া তাঁর কাছে রয়েছে প্রায় ৩৪.৫ গ্রাম সোনা, যা ব্যক্তিগত সম্পদের অংশ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
সব মিলিয়ে হিসাব করলে, Humayun Kabir-এর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকার কিছু বেশি। তবে তাঁর সম্পদের আসল চমক রয়েছে স্থাবর সম্পত্তিতে। মুর্শিদাবাদ জেলায় তাঁর নামে একটি চাষযোগ্য জমি রয়েছে, যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী মীরা সুলতানার সম্পত্তির পরিমাণও কম নয়। তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য প্রায় ৯৮ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। ফলে পরিবারের মোট সম্পদের পরিমাণ হিসাব করলে তা কয়েক কোটির ঘর ছাড়িয়ে যায়।
তবে এই সম্পদের পাশাপাশি বিতর্কও পিছু ছাড়েনি Humayun Kabir-এর। তাঁর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উসকানি-সহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। রাজনৈতিক বক্তব্য এবং কিছু মন্তব্য ঘিরে অতীতেও তাঁকে নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে একটি বিতর্কিত মন্তব্য এবং ধর্মীয় ইস্যুতে তাঁর ভূমিকা নিয়ে বহুবার সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে।
শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকেও তাঁর যাত্রা অনেকটাই সাম্প্রতিক। ২০১৭ সালে তিনি Himalayan University থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। অর্থাৎ, মাত্র কয়েক বছর আগে তাঁর আনুষ্ঠানিক পড়াশোনা শেষ হয়েছে। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি রাজনীতির মূল স্রোতে উঠে আসেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদেও আসীন হন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিক দল ঘুরেছেন—কংগ্রেস, বিজেপি, তৃণমূল—সব বড় দলের সঙ্গেই কোনো না কোনো সময়ে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি নিজস্ব দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করছেন। এই বহুমুখী রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাঁকে যেমন আলোচনায় রেখেছে, তেমনই সমালোচনার মুখেও ফেলেছে।
সব মিলিয়ে, Humayun Kabir-এর জীবনযাত্রা এবং সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে এই আর্থিক উত্থান কতটা স্বাভাবিক, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক চলছেই।
তবে নির্বাচনের ময়দানে এসব বিতর্ক কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। কারণ শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ভোটাররাই—তাঁদের কাছে কোন বিষয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ, উন্নয়ন নাকি বিতর্ক।



