বাংলায় সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই একের পর এক নতুন প্রকল্প এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আর এবার রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বড় সুখবর সামনে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, খুব শীঘ্রই চালু হতে পারে নতুন ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ প্রকল্প, যার আওতায় প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হতে পারে রাজ্যের বেকারদের। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই প্রকল্প নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছেছে রাজ্যের লাখ লাখ চাকরিপ্রার্থীর মধ্যে।
এর আগে রাজ্যে তৃণমূল সরকারের আমলে চালু ছিল ‘যুবসাথী’ প্রকল্প। সেই প্রকল্পে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে বেকার যুবক-যুবতীদের মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হতো। তবে এবার নতুন সরকার সেই প্রকল্পের পরিবর্তে আরও বড় আকারে নতুন একটি প্রকল্প চালুর ভাবনা চিন্তা করছে বলেই রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। আর সেই কারণেই ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ এখন বাংলার অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।
জানা যাচ্ছে, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় থাকা যুবক-যুবতীদের সাময়িক আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। বর্তমানে রাজ্যে চাকরির বাজার নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তাতে বহু শিক্ষিত তরুণ-তরুণী আর্থিক চাপে ভুগছেন। সেই পরিস্থিতিতে মাসে ৩০০০ টাকা করে ভাতা তাঁদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিতে পারে বলে মনে করছে একাংশ।
সবথেকে বড় বিষয় হল, এই প্রকল্পে নাকি আগের মতো অতিরিক্ত কড়াকড়ি বা জটিল শর্ত রাখা হবে না। যদিও সরকারিভাবে এখনও বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি, তবে প্রশাসনিক সূত্রে দাবি, আবেদন প্রক্রিয়া অনেকটাই সহজ রাখা হতে পারে। এমনকি অনলাইন এবং অফলাইন—দুইভাবেই আবেদন গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে গ্রামাঞ্চল থেকে শহর, সকলের কাছেই প্রকল্পটি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তবে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখানেই সামনে আসছে। পুরনো যুবসাথী প্রকল্পের সুবিধাভোগীরাও কি নতুন প্রকল্পে সরাসরি টাকা পাবেন? না কি নতুন করে আবেদন করতে হবে? সূত্র বলছে, এবার প্রত্যেক আবেদনকারীকেই নতুনভাবে ভেরিফিকেশনের মুখোমুখি হতে হতে পারে। অর্থাৎ আগে কেউ ভাতা পেয়ে থাকলেও, ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’-এর জন্য আবারও আবেদন করতে হতে পারে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হল প্রকৃত বেকারদের চিহ্নিত করা এবং যাতে ভুয়ো আবেদন বা দুর্নীতির সুযোগ না থাকে তা নিশ্চিত করা। কারণ অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পে নথিগত সমস্যার কারণে বহু উপভোক্তা টাকা পাননি বলে অভিযোগ উঠেছিল। এবার সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই আরও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে খবর।
জানা যাচ্ছে, এই প্রকল্পের টাকা সরাসরি DBT বা Direct Benefit Transfer-এর মাধ্যমে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হতে পারে। ফলে আবেদনকারীদের নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যাঁরা আগে যুবসাথী প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের পুরনো অ্যাকাউন্ট সচল রাখতেই বলা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলেও এই প্রকল্প নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতেই নতুন সরকার দ্রুত এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে। অন্যদিকে সমর্থকদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে চাকরির অপেক্ষায় থাকা যুব সমাজের পাশে দাঁড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
যদিও এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি, তবে জুন মাস থেকেই এই প্রকল্প কার্যকর হতে পারে বলে নবান্ন সূত্রে জোর জল্পনা চলছে। আবেদন প্রক্রিয়া, যোগ্যতার মানদণ্ড, প্রয়োজনীয় নথি এবং টাকা পাওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ—সব কিছু নিয়েই খুব শীঘ্রই বিস্তারিত ঘোষণা আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ যদি বাস্তবে চালু হয়, তাহলে তা রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীর জন্য বড় স্বস্তির খবর হতে পারে। এখন সকলের নজর সরকারের চূড়ান্ত ঘোষণার দিকেই।



