Friday, May 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাবৈভবকে নিয়ে খুশি নয় রাজস্থান! তাই সূর্যবংশীর সাথে বেশি কথাও বলেন না...

বৈভবকে নিয়ে খুশি নয় রাজস্থান! তাই সূর্যবংশীর সাথে বেশি কথাও বলেন না দলের কোচ! কিন্তু কেন?

আইপিএলের এবারের মরশুমে সবচেয়ে বেশি চর্চিত তরুণ ক্রিকেটারদের তালিকায় এখন উপরের দিকেই রয়েছে বৈভব সূর্যবংশীর নাম। অল্প বয়সেই তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিং ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে ক্রিকেটবিশ্বের। বড় বড় বোলারদের বিরুদ্ধে যেভাবে নির্ভীকভাবে ব্যাট করছেন, তাতে অনেকেই ভবিষ্যতের বড় তারকা হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন তাঁকে। তবে এত প্রশংসা ও সাফল্যের মাঝেও রাজস্থান রয়্যালস শিবিরে যেন কোথাও একটা অপূর্ণতা রয়ে গেছে।

বিশেষ করে দলের কোচ কুমার সাঙ্গাকারার সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। অনেকের প্রশ্ন, যে ক্রিকেটার দলকে ধারাবাহিকভাবে দ্রুত রান এনে দিচ্ছেন, তাঁর উপর কেন পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় টিম ম্যানেজমেন্ট? এমনকি কেন বৈভবের সঙ্গে খুব বেশি কথাও বলেন না কোচ? তাহলে কি কম বয়সের কারণেই তাঁকে নিয়ে বাড়তি সতর্কতা? নাকি এর পিছনে রয়েছে সম্পূর্ণ অন্য কোনও পরিকল্পনা?

এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এবার নিজেই দিয়েছেন রাজস্থান রয়্যালসের কোচ কুমার সাঙ্গাকারা।

শুধু ঝোড়ো ইনিংস নয়, বড় ইনিংস চাইছে দল

সাঙ্গাকারার মতে, বৈভবের প্রতিভা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কয়েক ওভার ক্রিজে থাকলেই তিনি ৩০-৪০ রান তুলে দিতে পারেন। কিন্তু রাজস্থান রয়্যালস এখন তাঁর কাছ থেকে আরও বড় কিছু আশা করছে।

কোচের বক্তব্য, টি-২০ ক্রিকেটে শুধুমাত্র দ্রুত রান করাই যথেষ্ট নয়। একজন ব্যাটারকে ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে দীর্ঘ সময় ক্রিজে থাকতে জানতে হয়। বৈভবের মধ্যে বড় শট খেলার দক্ষতা রয়েছে ঠিকই, কিন্তু প্রতি বলেই চার বা ছক্কা মারা সম্ভব নয়। সেই কারণেই তাঁকে এখন ইনিংস গড়ার শিল্প শিখতে হবে।

সাঙ্গাকারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজস্থান চায় বৈভব ওপেন করতে নেমে পুরো ২০ ওভার খেলার মানসিকতা তৈরি করুক। কারণ যদি তিনি দীর্ঘ সময় ব্যাট করতে পারেন, তাহলে তাঁর রানই ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে।

কেন বেশি কথা বলেন না কোচ?

সবচেয়ে বেশি চর্চা হয়েছে সাঙ্গাকারার এই মন্তব্য নিয়েই। তিনি বলেছেন, বৈভবের সঙ্গে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই খুব বেশি আলোচনা করেন না। কারণ বেশি পরামর্শ দিলে তরুণ এই ক্রিকেটার অতিরিক্ত ভাবতে শুরু করতে পারেন।

কোচের মতে, মাত্র ১৫ বছর বয়সে একজন ক্রিকেটারের উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করা উচিত নয়। বরং এই সময় খেলাটা উপভোগ করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সাঙ্গাকারা বলেন, বৈভব মাঠে শুধু ব্যাট করতে নামে না, সে ক্রিকেটকে সত্যিই উপভোগ করে। আর সেই ভালোবাসার কারণেই নেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনুশীলন করে যায়। তাঁর মতে, এই স্বাভাবিক আনন্দ ও আত্মবিশ্বাসই এখন বৈভবের সবচেয়ে বড় শক্তি।

বয়স কম হলেও প্রত্যাশা অনেক বেশি

অল্প বয়সে এত বড় মঞ্চে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করাটা সহজ নয়। কিন্তু বৈভব ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছেন যে চাপ সামলানোর ক্ষমতা তাঁর রয়েছে। তবে কোচিং স্টাফ মনে করছে, তাঁকে এখন ধীরে ধীরে আরও পরিণত ক্রিকেটার হিসেবে তৈরি করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টি-২০ ক্রিকেটে শুধুমাত্র আক্রমণাত্মক ব্যাটিং নয়, ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই দক্ষতাই এখন শেখানো হচ্ছে বৈভবকে।

রাজস্থান রয়্যালস চায়, তিনি শুধু পাওয়ার হিটার হিসেবেই সীমাবদ্ধ না থাকুন। বরং এমন একজন ব্যাটার হয়ে উঠুন, যিনি ম্যাচ শেষ করে আসতে পারবেন এবং পুরো ইনিংস নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।

ভবিষ্যতের টিম ইন্ডিয়া তারকা?

ক্রিকেট মহলের বড় অংশ ইতিমধ্যেই বৈভব সূর্যবংশীকে ভারতের ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে দেখতে শুরু করেছে। তাঁর ব্যাটিং স্টাইল, আত্মবিশ্বাস এবং বড় শট খেলার ক্ষমতা অনেকের নজর কেড়েছে।

তবে রাজস্থান রয়্যালস এখনই তাঁকে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে ফেলতে চাইছে না। টিম ম্যানেজমেন্টের লক্ষ্য, ধাপে ধাপে তাঁকে আরও পরিণত করে তোলা।

সাঙ্গাকারার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, দল বৈভবের উপর অসন্তুষ্ট নয়। বরং তাঁর মধ্যে আরও বড় সম্ভাবনা দেখেই তাঁকে নিয়ে এত পরিকল্পনা করছে।

সব মিলিয়ে, বৈভব সূর্যবংশী এখন শুধু আইপিএলের উদীয়মান তারকা নন, ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যতের বড় আশাও হয়ে উঠছেন। এখন দেখার, আগামী দিনে তিনি নিজের প্রতিভাকে কতটা বড় মঞ্চে নিয়ে যেতে পারেন এবং একদিন সত্যিই টিম ইন্ডিয়ার জার্সিতে কতটা উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments