দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাই পল্লবী এখন ব্যস্ত একের পর এক বড় প্রজেক্ট নিয়ে। সম্প্রতি কলকাতায় পরিচালক মণি রত্নমের নতুন ছবির শুটিং শেষ করেছেন তিনি। অন্যদিকে নীতেশ তিওয়ারির বহুল আলোচিত ‘রামায়ণ’ ছবিতে সীতার চরিত্রে তাঁর অভিনয় নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে। ঠিক এমন সময় নিজের স্কুলজীবনের একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন অভিনেত্রী।
সপ্তম শ্রেণিতে লিখেছিলেন প্রথম প্রেমপত্র
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে সাই পল্লবী জানান, স্কুলে পড়াকালীন একবারই তিনি একজন সহপাঠীকে প্রেমপত্র লিখেছিলেন। তখন তিনি সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। তবে সেই চিঠি গোপন থাকেনি। অল্প সময়ের মধ্যেই বিষয়টি তাঁর বাবা-মায়ের নজরে আসে।
অভিনেত্রীর কথায়, চিঠিটি পরিবারের হাতে পৌঁছে যাওয়ার পর তাঁকে বেশ বকাঝকা করা হয়। শুধু তাই নয়, সেই ঘটনার জন্য শাস্তিও পেতে হয়েছিল। ছোটবেলার সেই অভিজ্ঞতা এতটাই গভীর ছাপ ফেলেছিল যে, এরপর আর কখনও বাস্তব জীবনে কাউকে চিঠি লেখার সাহস পাননি তিনি।
কী বলেছিলেন সাই পল্লবী?
নেটফ্লিক্সের উদ্যোগে ইউটিউব চ্যানেল ‘My Village Show’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন, সিনেমায় চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি বহুবার চিঠি লিখেছেন। কিন্তু বাস্তবে তাঁর জীবনে সেই অভিজ্ঞতা মাত্র একবারই এসেছে।
তিনি জানান, ছোটবেলায় এক সহপাঠীকে লেখা সেই চিঠির কথা বাড়িতে জানাজানি হওয়ার পর বাবা-মায়ের কঠোর প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হয়েছিল। এরপর আর কখনও কাউকে ব্যক্তিগতভাবে চিঠি লেখেননি।
‘বিরাট পর্বম’-এর প্রসঙ্গেই উঠে এল বাস্তবের স্মৃতি
এই স্মৃতিচারণের সূত্রপাত হয় সাই পল্লবীর অভিনীত ‘বিরাট পর্বম’ ছবিকে ঘিরে। ওই ছবিতে তাঁর অভিনীত ভেন্নেলা চরিত্রকে একটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে দেখা যায়। ছবির সেই দৃশ্যের প্রসঙ্গ উঠতেই বাস্তব জীবনের ঘটনাটি দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নেন অভিনেত্রী।
পর্দায় প্রেমপত্র পৌঁছে দেওয়ার গল্প আর বাস্তবে নিজের লেখা একমাত্র প্রেমপত্র—এই দুই অভিজ্ঞতার মিল টেনেই তিনি মজার ছলে পুরো ঘটনাটি তুলে ধরেন।
রানা দাগ্গুবাতিরও রয়েছে একই রকম অভিজ্ঞতা
একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা রানা দাগ্গুবাতি। তাঁকেও জীবনের প্রথম চিঠি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ছোটবেলায় তিনি তাঁর দাদু তথা কিংবদন্তি চলচ্চিত্র প্রযোজক দাগ্গুবাতি রামানাইডুকে একটি চিঠি লিখেছিলেন।
রানার কথায়, সেটিই ছিল তাঁর জীবনের প্রথম এবং শেষ চিঠি। এরপর আর কখনও কাউকে চিঠি লেখার প্রয়োজন বা সুযোগ হয়নি।
বড় প্রজেক্টে ব্যস্ত সাই পল্লবী
অভিনয়ের ক্ষেত্রে বর্তমানে সাই পল্লবীর কেরিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময় চলছে। সম্প্রতি তিনি কলকাতায় মণি রত্নমের নতুন ছবির শুটিং শেষ করেছেন, যেখানে তাঁর সহ-অভিনেতা বিজয় সেতুপতি। পাশাপাশি নীতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’ ছবিতে সীতার চরিত্রে তাঁর অভিনয় নিয়েও দর্শকদের প্রত্যাশা তুঙ্গে।
এরই মাঝে স্কুলজীবনের এই ছোট্ট অথচ স্মরণীয় ঘটনার কথা প্রকাশ্যে এনে সাই পল্লবী যেন তাঁর অনুরাগীদের সামনে আরও একবার নিজের সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের পরিচয় তুলে ধরলেন।



