কয়েক দিনের জন্য বাড়ি ফাঁকা রেখে বেড়াতে যাওয়ার আগে ফ্রিজের খাবার নিয়ে দুশ্চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজের ভিতরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তখন খাবার নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ পরিচিত একটি কৌশল হল ‘কয়েন ইন দ্য ফ্রিজার ট্রিক’। একটি গ্লাসে জল জমিয়ে তার উপর একটি কয়েন রেখে দেওয়া হয়। ফিরে এসে কয়েনটি কোথায় রয়েছে, তা দেখে মাঝের সময়ে ফ্রিজের বরফ গলেছিল কি না—তার একটি ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
তবে এটি খাবার নিরাপদ থাকার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। বরং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা বা ফ্রিজের তাপমাত্রা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে সতর্ক হওয়ার একটি সহজ সংকেত হিসেবে এই পদ্ধতিকে দেখা উচিত।
কীভাবে কাজ করে জল আর কয়েনের এই কৌশল?
প্রথমে একটি পরিষ্কার গ্লাসে জল নিয়ে সেটি ফ্রিজারের মধ্যে রাখতে হবে। জল পুরোপুরি জমে শক্ত বরফ হয়ে গেলে তার উপরে একটি কয়েন রেখে আবার গ্লাসটি ফ্রিজারে রাখা যায়।
এরপর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন। আপনি ফিরে এসে প্রথমে কয়েনটির অবস্থান দেখবেন।
মূল বিষয়টি হল—বরফ গলে গেলে কয়েনটি নিচের দিকে নেমে যাবে। পরে বিদ্যুৎ ফিরে এসে জল আবার জমে গেলেও কয়েনটি যে জায়গায় নেমেছিল, সেখানেই আটকে থাকতে পারে।
কয়েনের অবস্থান কী বার্তা দিতে পারে?
কয়েন বরফের উপরেই রয়েছে
যদি ফিরে এসে দেখা যায় কয়েনটি এখনও বরফের উপরের অংশে রয়েছে এবং বরফের গঠন মোটামুটি আগের মতো, তাহলে মাঝের সময়ে বড় ধরনের গলন ঘটেনি—এমনটা ধরে নেওয়া যায়।
অর্থাৎ ফ্রিজার দীর্ঘ সময় গরম হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। তবে শুধুমাত্র কয়েনের অবস্থান দেখে খাবারকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ঘোষণা করা ঠিক নয়।
কয়েন বরফের মাঝামাঝি
কয়েন যদি বরফের ভিতরে মাঝামাঝি অবস্থানে পাওয়া যায়, তাহলে কোনও সময়ে বরফ আংশিক গলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরবর্তীতে বিদ্যুৎ ফিরে এলে সেই জল আবার জমে বরফ হতে পারে। ফলে কয়েনটি আগের অবস্থানে না থেকে মাঝামাঝি জায়গায় থেকে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ফ্রিজের খাবার খাওয়ার আগে আরও সতর্কভাবে বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
কয়েন একেবারে নিচে চলে গিয়েছে
কয়েন যদি গ্লাসের তলায় পৌঁছে যায়, তাহলে বরফ পুরোপুরি বা প্রায় পুরোপুরি গলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল বলে ধারণা করা যায়।
এক্ষেত্রে ফ্রিজারের ভিতরের খাবার কতক্ষণ নিরাপদ তাপমাত্রার বাইরে ছিল, তা শুধু কয়েন দেখে নির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়। তাই সন্দেহজনক খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি না নেওয়াই ভালো।
কেন এই ‘আইস ট্রিক’কে চূড়ান্ত পরীক্ষা বলা যায় না?
এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি রয়েছে। কয়েনের অবস্থান থেকে বোঝা যেতে পারে বরফ কোনও সময়ে গলেছিল কি না, কিন্তু খাবার কতক্ষণ উষ্ণ অবস্থায় ছিল বা খাবারে ক্ষতিকর জীবাণু তৈরি হয়েছে কি না, তা এই পদ্ধতি নিশ্চিত করতে পারে না।
ফ্রিজারের ভিতরের তাপমাত্রা, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার সময়, খাবারের ধরন এবং খাবার কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ।
তাই এই কৌশলকে খাবার পরীক্ষার বৈজ্ঞানিক বিকল্প না ধরে একটি সতর্কতামূলক সংকেত হিসেবে ব্যবহার করাই যুক্তিযুক্ত।
বাড়ি ছাড়ার আগে আরও কী করবেন?
বেড়াতে যাওয়ার আগে ফ্রিজার ঠিকমতো কাজ করছে কি না দেখে নেওয়া ভালো। দরজা ঠিকভাবে বন্ধ হচ্ছে কি না এবং অতিরিক্ত খাবারে ভিতরের ঠান্ডা বাতাস চলাচলে সমস্যা হচ্ছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা উচিত।
আর দীর্ঘ সময়ের জন্য বাড়ি ফাঁকা রাখলে সহজে নষ্ট হয় এমন খাবার আলাদা করে বিবেচনা করুন। ফিরে এসে খাবারের গন্ধ, রং বা চেহারা স্বাভাবিক মনে হলেও শুধুমাত্র সেগুলির উপর নির্ভর করে খাবার নিরাপদ বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
শেষ কথা
জলভরা গ্লাসে বরফ তৈরি করে তার উপর একটি কয়েন রেখে দেওয়ার পদ্ধতিটি সহজ এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে একটি ধারণা দিতে পারে। কিন্তু কয়েনটি ঠিক জায়গায় থাকলেই সব খাবার ১০০ শতাংশ নিরাপদ—এমন নিশ্চয়তা এই কৌশল দেয় না।
তাই বেড়াতে যাওয়ার আগে এই ‘আইস ট্রিক’ ব্যবহার করতে পারেন, তবে খাবারের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সন্দেহ থাকলে সতর্ক সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।



