পাওনা পারিশ্রমিক চাইতে গিয়ে অভিনেতা তথা তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর বাড়িতে এক কাঠমিস্ত্রিকে মারধর করা হয়েছে—এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী রাজ কাপুর শর্মা ইতিমধ্যেই বেহালা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে এই ঘটনার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সোহম চক্রবর্তীর কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই নতুন করে চর্চায় এসেছে অভিনেতা-রাজনীতিকের নাম। তবে অভিযোগটি এখনও তদন্তাধীন। ফলে অভিযোগের প্রতিটি দাবি প্রমাণিত—এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
কী অভিযোগ করেছেন কাঠমিস্ত্রি?
অভিযোগকারী রাজ কাপুর শর্মার বক্তব্য অনুযায়ী, গত ১২ মে সোহম চক্রবর্তীর বেহালার বাড়িতে আসবাবপত্র তৈরির কাজের দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি। প্রথমে একটি আলমারি তৈরির জন্য ৫৫ হাজার টাকার কাজের কথা হয় এবং তাঁকে ৩০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। পরে আরও আসবাবপত্রের কাজ দেওয়া হয়।
রাজের দাবি, কাজ এগিয়ে যাওয়ার পর মোট পাওনা প্রায় ৭৯ হাজার টাকা হয়ে যায়। তাঁর অভিযোগ, কাজ শেষের দিকে পৌঁছনোর পর বাকি টাকা মেটানোর জন্য বারবার যোগাযোগ করেও তিনি টাকা পাননি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বকেয়া টাকার অঙ্ক প্রায় ৭৯ থেকে ৮০ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
টাকা চাইতে গিয়ে কী ঘটেছিল বলে অভিযোগ?
রাজ কাপুর শর্মার অভিযোগ, সোহমের এক নিরাপত্তারক্ষী তাঁকে ফোন করে বাড়িতে আসতে বলেন। সেই অনুযায়ী তিনি সেখানে গেলে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়।
এরপর বকেয়া টাকা নিয়ে কথা উঠলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। রাজের দাবি, তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাঁকে মারধর করে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়। কিছু প্রতিবেদনে তাঁকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও প্রকাশিত হয়েছে।
এই অভিযোগের পরেই বেহালা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ওই কাঠমিস্ত্রি। পুলিশ পুরো ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে বলে জানা গিয়েছে।
সোহম চক্রবর্তীর কোনও প্রতিক্রিয়া এসেছে?
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সোহম চক্রবর্তী বা তাঁর প্রতিনিধিদের তরফে অভিযোগগুলির বিষয়ে কোনও প্রকাশ্য বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর পক্ষের বক্তব্য সামনে এলে তদন্তাধীন বিষয়টির সম্পূর্ণ চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।
আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগ দায়ের হওয়া মানেই অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন—এমন নয়। পুলিশি তদন্ত এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই হবে।
এর আগে সল্টলেকের ঘটনাতেও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন
সোহম চক্রবর্তী এর আগেও একটি রেস্তোরাঁ সংক্রান্ত ঘটনায় বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। নিউ টাউনে গাড়ি পার্কিংকে কেন্দ্র করে রেস্তোরাঁর মালিক ও কর্মীদের সঙ্গে বচসা এবং মারধরের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশ্যে এসেছিল বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। পরে সোহম ওই ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন।
তবে আগের ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রতিক অভিযোগকে এক করে দেখা উচিত নয়। বর্তমান ঘটনায় ঠিক কী ঘটেছিল, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে।
বকেয়া পারিশ্রমিক নিয়ে বিরোধ, নাকি আরও গুরুতর কিছু?
পুরো ঘটনাটির কেন্দ্রে রয়েছে একটি আর্থিক বিরোধ। একদিকে কাঠমিস্ত্রির দাবি—কাজ শেষ করার পরও তাঁর পাওনা টাকা দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে মারধর, মোবাইল কেড়ে নেওয়া এবং হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
ফলে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে কাজের চুক্তি বা বিলের নথি, টাকা লেনদেনের প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং ওই দিনের ঘটনাক্রম। প্রত্যক্ষদর্শী বা সিসিটিভি ফুটেজ থাকলে সেগুলিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
এখন নজর পুলিশের তদন্তে
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হওয়ায় এখন পুলিশের সামনে একাধিক প্রশ্ন। বকেয়া টাকার পরিমাণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কী ধরনের যোগাযোগ হয়েছিল? সত্যিই কি কাঠমিস্ত্রিকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল? সেখানে কোনও শারীরিক সংঘর্ষ হয়েছিল কি না? তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা কতটা?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত ছবি পরিষ্কার হবে।
এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, রাজ কাপুর শর্মা সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বেহালা থানায় মারধরের লিখিত অভিযোগ করেছেন এবং পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। সোহমের বক্তব্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল—অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কতদূর এগোয় এবং তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে। রাজনৈতিক পরিচয় বা তারকাখ্যাতির বাইরে, অভিযোগের বিচার হওয়া উচিত প্রমাণ এবং আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই।



