বাংলা টেলিভিশন শিল্পে ফের সামনে এসেছে পারিশ্রমিক বকেয়ার অভিযোগ। টলিপাড়ার বিভিন্ন প্রজেক্টে কর্মরত টেকনিশিয়ানদের পাওনা অর্থ দীর্ঘদিন ধরে পরিশোধ না হওয়ায় তৈরি হয়েছে অচলাবস্থার আশঙ্কা। এর জেরে জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘দিদি নম্বর ১’ এবং ‘দাদাগিরি’-সহ একাধিক ধারাবাহিক ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের শ্যুটিং ব্যাহত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে এখনও পর্যন্ত কোনও সম্প্রচারকারী চ্যানেল বা প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে এই দুই অনুষ্ঠান বন্ধ হওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
বকেয়া পারিশ্রমিক নিয়েই শুরু বিতর্ক
স্টুডিওপাড়ার একাধিক সূত্রের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন প্রযোজনায় যুক্ত টেকনিশিয়ানদের পারিশ্রমিকের একটি অংশ এখনও বকেয়া রয়েছে। প্রথমে জুলাই মাসের মাঝামাঝি সেই অর্থ মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে সময়সীমা বাড়ানো হয়।
অভিযোগ, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরেও বহু কর্মীর পাওনা পরিশোধ সম্পূর্ণ হয়নি। সেই কারণেই অসন্তোষ বাড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত টেকনিশিয়ানদের মধ্যে।
কোন কোন কর্মীরা সমস্যার মুখে?
শুধু ক্যামেরা বা লাইট বিভাগের কর্মীরাই নন, অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন—
- লাইট টেকনিশিয়ান
- সাউন্ড কর্মী
- ক্যামেরা ইউনিট
- সেট নির্মাণে যুক্ত কার্পেন্টার
- মডেলার
- পেন্টার
- অন্যান্য দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মী
সূত্রের দাবি, বহু কর্মী কয়েক সপ্তাহ ধরে পারিশ্রমিকের অপেক্ষায় রয়েছেন।
টেকনিশিয়ানদের অবস্থান কী?
বিভিন্ন গিল্ড ও বিভাগের প্রতিনিধিদের আলোচনার পর প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, বকেয়া মেটানো না হলে নতুন করে কাজ শুরু করা কঠিন হবে।
টেকনিশিয়ানদের বক্তব্য, নিয়মিত কাজ করলেও সময়মতো পারিশ্রমিক না পেলে তাঁদের পক্ষে সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই পাওনা মেটানোর বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
‘দিদি নম্বর ১’ ও ‘দাদাগিরি’ নিয়ে কেন বাড়ছে জল্পনা?
বর্তমানে বাংলা টেলিভিশনের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি নন-ফিকশন অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ‘দিদি নম্বর ১’ এবং ‘দাদাগিরি’।
চলতি বছরে নতুন সিজনে ‘দিদি নম্বর ১’-এর সঞ্চালনার দায়িত্বে এসেছেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। অন্যদিকে ‘দাদাগিরি’-র নতুন সঞ্চালক হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন অভিনেতা দেব।
এই দুই অনুষ্ঠানের শ্যুটিংয়ের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক টেকনিশিয়ান ও প্রোডাকশন কর্মী যুক্ত থাকেন। ফলে কর্মবিরতি হলে স্বাভাবিকভাবেই এই ধরনের বড় প্রযোজনাগুলির শ্যুটিং সূচিতে প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
শ্যুটিং বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা কতটা?
বর্তমানে যা জানা যাচ্ছে, তা মূলত টেকনিশিয়ানদের বকেয়া পারিশ্রমিক সংক্রান্ত অসন্তোষকে কেন্দ্র করে।
তবে ‘দিদি নম্বর ১’ বা ‘দাদাগিরি’ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এমন কোনও সরকারি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
প্রযোজনা সংস্থা, সম্প্রচারকারী চ্যানেল এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির মধ্যে আলোচনা ও সমস্যার সমাধানের ওপরই পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে।
বাংলা টেলিভিশন শিল্পে এর প্রভাব কী হতে পারে?
যদি কর্মবিরতি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে শুধুমাত্র দুটি জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো নয়, বরং—
- দৈনিক ধারাবাহিক
- গেম শো
- রিয়্যালিটি শো
- প্রোমো শ্যুট
- বিশেষ অনুষ্ঠান
—সব ক্ষেত্রেই শ্যুটিংয়ের সময়সূচি বদলাতে পারে।
এর ফলে সম্প্রচার সূচি, নতুন পর্বের টেলিকাস্ট এবং প্রযোজনার খরচেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রযোজনা সংস্থা বা চ্যানেলের প্রতিক্রিয়া কী?
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত টেকনিশিয়ানদের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থা বা সম্প্রচারকারী চ্যানেলের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
ফলে বকেয়া পারিশ্রমিক কবে মেটানো হবে কিংবা সম্ভাব্য কর্মবিরতি এড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসেনি।
এখন কী দেখার?
টলিপাড়ার এই পরিস্থিতি আপাতত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। টেকনিশিয়ানদের পাওনা মেটানো এবং প্রযোজনা সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনার ফলাফলই ঠিক করবে আগামী দিনে বাংলা টেলিভিশনের শ্যুটিং কতটা স্বাভাবিক থাকবে।
দর্শকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এখনও পর্যন্ত ‘দিদি নম্বর ১’ বা ‘দাদাগিরি’ বন্ধ হওয়ার কোনও নিশ্চিত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।



