Sunday, September 20, 2026
Google search engine
Homeসিনেদুনিয়াবলি দুনিয়াকেন ভেঙেছিল সলমন খান ও ঐশ্বর্য রাইয়ের সম্পর্ক? ২০০২-এর বিস্ফোরক অভিযোগে উঠে...

কেন ভেঙেছিল সলমন খান ও ঐশ্বর্য রাইয়ের সম্পর্ক? ২০০২-এর বিস্ফোরক অভিযোগে উঠে এসেছিল যে কারণ

একসময় বলিউডের অন্যতম আলোচিত জুটি ছিলেন সলমন খান ও ঐশ্বর্য রাই। ‘হাম দিল দে চুকে সনম’-এর পর পর্দার রসায়ন গড়িয়েছিল ব্যক্তিগত সম্পর্কেও। কিন্তু সেই প্রেমের পরিণতি হয়েছিল অত্যন্ত তিক্তভাবে। ২০০২ সালে বিচ্ছেদের পর ঐশ্বর্য একাধিক গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন। অন্যদিকে, সলমন সেই অভিযোগ অস্বীকারও করেছিলেন।

তাই প্রায় আড়াই দশক পরেও যখন প্রশ্ন ওঠে—ঠিক কেন ভেঙেছিল সলমন-ঐশ্বর্যের সম্পর্ক?—তখন একক কোনও উত্তর পাওয়া যায় না। প্রকাশ্যে আসা তাঁদের পুরনো বক্তব্য থেকে বরং একাধিক কারণের কথা সামনে আসে: অস্থির সম্পর্ক, অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ, সন্দেহ, মদ্যপানজনিত আচরণ এবং ঐশ্বর্যের তোলা মানসিক, মৌখিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ।

‘হাম দিল দে চুকে সনম’ থেকেই শুরু প্রেম

১৯৯৯ সালে সঞ্জয় লীলা বনশালীর ‘হাম দিল দে চুকে সনম’-এ একসঙ্গে অভিনয় করেন সলমন খান ও ঐশ্বর্য রাই। ছবির শুটিংয়ের সময়ই তাঁদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয় বলে বহু বছর ধরে সংবাদমাধ্যমে লেখা হয়েছে।

সেই সময় ঐশ্বর্য বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করছেন, আর সলমন ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত তারকা। তাঁদের সম্পর্ক দ্রুতই বলিউডের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে।

শুধু প্রেমের সম্পর্ক নয়, সলমনের পরিবারের সঙ্গেও ঐশ্বর্যের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে সলমনের বোনদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথাও বহু প্রতিবেদনে এসেছে।

সম্পর্কের সমস্যা কোথা থেকে শুরু?

সময়ের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা সামনে আসতে থাকে। ঐশ্বর্য পরে অভিযোগ করেছিলেন, সলমন তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করতেন এবং সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করতেন।

২০০২ সালে Times of India-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঐশ্বর্য বলেছিলেন, তাঁদের বিচ্ছেদের পরেও সলমন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করতেন এবং তাঁর সহ-অভিনেতাদের নিয়ে সন্দেহ করতেন। একই সাক্ষাৎকারে তিনি শারীরিক আঘাতের অভিযোগও তোলেন।

এই বক্তব্যই পরবর্তীকালে তাঁদের সম্পর্ক ভাঙার আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

ঐশ্বর্য কি সলমনের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছিলেন?

হ্যাঁ। এটি শুধুই পরবর্তী সময়ে তৈরি হওয়া গুজব নয়; ঐশ্বর্য নিজেই ২০০২ সালে প্রকাশ্যে এমন অভিযোগ করেছিলেন।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সম্পর্ক চলাকালীন তিনি মৌখিক, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পরে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি সেই অধ্যায়কে নিজের জীবনের জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক বলে বর্ণনা করেন এবং জানান, আত্মসম্মান ও মানসিক শান্তির কথা ভেবেই সম্পর্ক শেষ করেছিলেন।

তবে একইসঙ্গে এটাও মনে রাখা জরুরি—এই অভিযোগগুলি ঐশ্বর্যের বক্তব্য; সলমন এগুলি অস্বীকার করেছিলেন। ফলে এগুলিকে আদালতে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।

সলমনের পাল্টা বক্তব্য কী ছিল?

ঐশ্বর্যের অভিযোগের পর সলমন খান একটি পুরনো সাক্ষাৎকারে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

তাঁর বক্তব্য ছিল, তিনি ঐশ্বর্যকে মারেননি। আবেগের মুহূর্তে তিনি নিজের উপর আঘাত করতেন—এই ব্যাখ্যাও দিয়েছিলেন।

পরবর্তীকালে আরও একটি পুরনো সাক্ষাৎকারের বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় আসে, যেখানে নারীর উপর শারীরিক আঘাত সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে সলমন বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। সেই বক্তব্যও আজ পর্যন্ত তাঁদের পুরনো সম্পর্কের বিতর্কের অংশ হয়ে আছে।

তাহলে কি পরিবারের বাধাই ছিল মূল সমস্যা?

ঐশ্বর্যের পরিবার শুরু থেকেই সম্পর্কটি সহজভাবে নেয়নি—এমন খবর বহু বছর ধরে প্রকাশ্যে রয়েছে। কিন্তু পরিবারের আপত্তিই সম্পর্ক ভাঙার প্রধান কারণ ছিল, এমন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায় না।

বরং পরবর্তী সময়ে ঐশ্বর্যের নিজের বক্তব্যে সম্পর্কের ভিতরের আচরণ, সন্দেহ, অপমান এবং নির্যাতনের অভিযোগ বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। অর্থাৎ পরিবার নিয়ে আপত্তির গল্প থাকলেও, বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে সেটিকে একমাত্র বা চূড়ান্ত ব্যাখ্যা করা যথাযথ হবে না।

সলমনের পেশাগত হস্তক্ষেপও কি সমস্যা হয়েছিল?

এই বিষয়টিও বহু পুরনো প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তৎকালীন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সলমন ঐশ্বর্যের পেশাগত সিদ্ধান্ত এবং কার সঙ্গে কাজ করবেন, তা নিয়ে মত দিতেন। দু’জনের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঐশ্বর্যের কেরিয়ার নিয়েও সলমনের মতামত প্রকাশ্যে আসতে থাকে।

তবে কোন ছবি নেওয়া বা না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সরাসরি তাঁদের বিচ্ছেদের কারণ বলা যাবে না। সম্পর্কের ভাঙনের ক্ষেত্রে এটি যদি কোনও ভূমিকা রেখে থেকেও থাকে, তা ছিল তাঁদের ব্যক্তিগত সমীকরণের অংশ।

‘তাল’ নিয়ে এত আলোচনা কেন?

সুভাষ ঘাই পরিচালিত ‘তাল’-এ ঐশ্বর্য অভিনয় করেছিলেন। সেই সময় পরিচালককে নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন চললেও, সলমন ঐশ্বর্যকে ছবিটি না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন—এমন খবরও ছড়িয়েছিল।

তবে ছবিটি শেষ পর্যন্ত তৈরি হয় এবং সফলও হয়। কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সলমন-ঐশ্বর্যের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও দৃশ্যমান হয়েছিল বলে বিভিন্ন পুরনো প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

এখানেও একটি বিষয় আলাদা করে দেখা দরকার—সিনেমা নিয়ে মতবিরোধ ছিল বলে সম্পর্ক ভেঙেছিল, এমন কোনও সরাসরি প্রমাণ নেই।

মদ্যপান ও সন্দেহের প্রসঙ্গও এসেছিল ঐশ্বর্যের বক্তব্যে

ঐশ্বর্য তাঁর পরবর্তী বক্তব্যে সলমনের মদ্যপানের সমস্যার কথাও উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, সেই আচরণ সম্পর্ককে আরও কঠিন করে তুলেছিল।

এছাড়া সহ-অভিনেতাদের নিয়ে সন্দেহ এবং সম্পর্কের বাইরে অন্য পুরুষদের সঙ্গে তাঁকে যুক্ত করে দেখানোর প্রবণতার বিরুদ্ধেও তিনি সরব হয়েছিলেন। ২০০২ সালের সাক্ষাৎকারে এমন অভিযোগের উল্লেখ পাওয়া যায়।

অর্থাৎ ঐশ্বর্যের বক্তব্যে শুধু একটি ঘটনা নয়, একাধিক আচরণগত সমস্যা একসঙ্গে উঠে এসেছিল।

‘কালো অধ্যায়’ বলেছিলেন ঐশ্বর্য?

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ঐশ্বর্য একটি প্রকাশ্য বিবৃতিতে সলমন অধ্যায়কে নিজের জীবনের জন্য ‘nightmare’ বা দুঃস্বপ্নের মতো সময় হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

তিনি আরও বলেছিলেন, নিজের সুস্থতা, মানসিক শান্তি, মর্যাদা এবং পরিবারের সম্মানের কথা ভেবেই সেই সম্পর্ক শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

এই বক্তব্যই সবচেয়ে স্পষ্ট করে দেয় যে বিচ্ছেদটি তাঁর কাছে নিছক প্রেম ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ছিল না; বরং একটি গভীরভাবে অস্বস্তিকর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সমাপ্তি হিসেবেই তিনি সেটিকে দেখেছিলেন।

সলমন কি পরে ঐশ্বর্যের দাবির জবাব দিয়েছিলেন?

বছর কয়েক পর একই প্রসঙ্গ উঠলে সলমন তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত উত্তর দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম ছিল—যদি ঐশ্বর্য তখন এমন কথা বলে থাকেন, তার নিশ্চয়ই কোনও কারণ ছিল; তবে পুরনো বিষয় নিয়ে আর এগোনোর প্রয়োজন নেই।

অর্থাৎ পরবর্তী সময়ে তিনি প্রকাশ্য বিরোধ আরও বাড়ানোর বদলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার পথই বেছে নিয়েছিলেন বলে পুরনো সাক্ষাৎকারগুলির প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়।

তাহলে ‘আসল কারণ’ কী?

এখানে সবচেয়ে সৎ উত্তর হল—সলমন-ঐশ্বর্যের বিচ্ছেদের একক, সর্বসম্মত ‘আসল কারণ’ প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

তবে ঐশ্বর্যের নিজের বক্তব্য থেকে যে বিষয়গুলি সামনে এসেছে, সেগুলির মধ্যে ছিল সম্পর্কের অস্থিরতা, অতিরিক্ত অধিকারবোধ, সন্দেহ, মদ্যপ আচরণ এবং মৌখিক, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ।

অন্যদিকে সলমন শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। ফলে আজও তাঁদের সম্পর্কের ইতিহাস নিয়ে যা বলা হয়, তার বড় অংশই দুই পক্ষের বক্তব্য এবং সেই সময়ের সংবাদ প্রতিবেদনের উপর নির্ভরশীল।

প্রেম ভেঙে যাওয়ার পর দুই তারকার পথ আলাদা

সলমন ও ঐশ্বর্যের সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর তাঁদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন সম্পূর্ণ আলাদা পথে এগোয়।

ঐশ্বর্য পরবর্তীতে অভিনেতা অভিষেক বচ্চনকে বিয়ে করেন। সলমন এখনও অবিবাহিত। দু’জনের পরবর্তী কেরিয়ারও নিজ নিজ জায়গায় এগিয়েছে, কিন্তু তাঁদের পুরনো প্রেমের গল্প বলিউডের অন্যতম আলোচিত সম্পর্ক হিসেবেই থেকে গিয়েছে।

আজকের দিনে ফিরে তাকালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা সম্ভবত এটাই—পর্দায় দুর্দান্ত রসায়ন থাকলেই বাস্তব জীবনে একটি সম্পর্ক টিকে যাবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।

‘হাম দিল দে চুকে সনম’-এর রোম্যান্টিক স্মৃতি এখনও দর্শকদের মনে জীবন্ত। কিন্তু পর্দার সেই প্রেমের আড়ালে ব্যক্তিগত সম্পর্কে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তার সম্পূর্ণ সত্য জানেন কেবল সেই সময়ের মানুষরাই। প্রকাশ্যে থাকা বক্তব্য থেকে আমরা শুধু তার কিছু অংশই জানতে পারি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments