‘বিগ বস ২০’-এর মঞ্চে হঠাৎই বদলে গেল সলমন খানের মেজাজ। নিজের বয়স, চেহারা এবং চুল নিয়ে লাগাতার ট্রোলিং থেকে শুরু করে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কটাক্ষ—সবকিছু নিয়েই এবার সরব হলেন ভাইজান।
শুধু নিজের প্রসঙ্গেই থামেননি সলমন। গর্ভাবস্থার পর অভিনেত্রীদের শরীরে স্বাভাবিক পরিবর্তন নিয়ে কটাক্ষ এবং মহিলাদের ছবি তোলার সময় পাপারাৎজিদের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বিশেষ করে ক্যাটরিনা কইফকে ঘিরে সাম্প্রতিক বডি-শেমিংয়ের প্রসঙ্গ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
নিজের চুল নিয়ে ট্রোলিং, মুখ খুললেন সলমন
সম্প্রতি সলমনের চেহারা ও চুলের পরিবর্তন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের মন্তব্য ছড়িয়েছিল। কেউ তাঁর মাথায় চুল কমে যাওয়া নিয়ে কটাক্ষ করেছেন, আবার কেউ দাবি করেছেন, অভিনেতা নাকি হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করিয়েছেন।
‘বিগ বস ২০’-এর মঞ্চে সেই প্রসঙ্গেই মুখ খোলেন সলমন। জানান, তাঁর চেহারার পরিবর্তন নিয়ে যেভাবে নানা গল্প তৈরি করা হচ্ছে, তার সঙ্গে বাস্তব ঘটনার মিল নেই।
অভিনেতা বলেন, তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু সম্প্রতি মারা গিয়েছেন। সেই ঘটনার পর তাঁর চেহারা ও চুল নিয়ে যে ছবি বা পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল, সেটিকে কেন্দ্র করেই অনলাইনে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টের মতো নানা জল্পনা তৈরি হয়।
বন্ধুর মৃত্যুর কথাও জানালেন ভাইজান
সলমনের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু কুমোদ রানে জুন মাসে মারা যান। সেই সময়কার পরিস্থিতির সঙ্গেই নিজের সাম্প্রতিক চেহারার পরিবর্তনের বিষয়টি যুক্ত করেন অভিনেতা।
অর্থাৎ, সোশ্যাল মিডিয়ায় যে বিষয়টিকে ঘিরে অনেকে মজা বা কটাক্ষ করছিলেন, তার পিছনে ব্যক্তিগত শোকের একটি ঘটনা ছিল—এটাই বোঝাতে চেয়েছেন সলমন।
এই প্রসঙ্গেই তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, কোনও ব্যক্তির চেহারা দেখে তার ব্যক্তিগত পরিস্থিতি সম্পর্কে অনুমান করা কতটা সমস্যাজনক হতে পারে।
‘পরজীবী’ কেন বললেন ট্রোলারদের?
সলমনের ক্ষোভের সবচেয়ে বড় কারণ অবশ্য শুধু নিজের চেহারা নয়। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রমাগত ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং বডি-শেমিংয়ের বিষয়টি।
অভিনেতার বক্তব্য, তিনি নিজে যথেষ্ট শক্ত মানসিকতার বলে নেতিবাচক মন্তব্য সামলে নিতে পারেন। কিন্তু প্রত্যেক মানুষ একইভাবে এই ধরনের আক্রমণ মোকাবিলা করতে পারেন না।
অনলাইন ট্রোলিংয়ের কারণে অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারেন—এই প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। আর সেই কারণেই কুরুচিকর মন্তব্য করা ট্রোলারদের উদ্দেশে অত্যন্ত কড়া ভাষা ব্যবহার করেন সলমন। তাঁদের ‘পরজীবী’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
ক্যাটরিনা কইফকে নিয়ে কী বললেন সলমন?
এই একই আলোচনায় সলমনের বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ক্যাটরিনা কইফকে ঘিরে বডি-শেমিং।
সাম্প্রতিক সময়ে গর্ভাবস্থার পর ক্যাটরিনার চেহারা ও ওজন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। ‘বিগ বস’-এর মঞ্চে সলমন কারও নাম সরাসরি না নিলেও তাঁর বক্তব্যকে ক্যাটরিনাকে সমর্থন হিসেবেই একাধিক সংবাদমাধ্যম চিহ্নিত করেছে।
সলমনের বক্তব্যের মূল কথা ছিল—মা হওয়ার পর শরীরে পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তাই কোনও মহিলার শরীর নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য বা কটাক্ষ করার আগে বিষয়টির স্বাভাবিক দিকটি বোঝা উচিত।
তিনি ইঙ্গিত দেন, সময়ের সঙ্গে একজন অভিনেত্রী নিজের কাজ ও ফিটনেসের জায়গায় ফিরতে পারেন। তাই মাতৃত্বের পর শরীরের পরিবর্তনকে নিয়ে ট্রোল করা অর্থহীন।
পাপারাৎজিদের আচরণ নিয়েও সরব সলমন
শুধু সোশ্যাল মিডিয়া ট্রোলার নয়, পাপারাৎজিদের ছবি তোলার ধরন নিয়েও এবার ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভাইজান।
বিশেষ করে কোনও অভিনেত্রী গাড়ি থেকে নামা বা ওঠার সময় তাঁর শরীরের নির্দিষ্ট অংশের ছবি তোলার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সলমনের বক্তব্যে উঠে আসে নেহা ধুপিয়া, মাহি ভিজ এবং সাই মঞ্জরেকরের মতো অভিনেত্রীদের প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, তারকা হলেই কারও ব্যক্তিগত পরিসরের মর্যাদা নষ্ট করার অধিকার কারও নেই।
অভিনেত্রীদের এমন পরিস্থিতির মুখে প্রতিবাদ করার কথাও বলেন সলমন। এমনকি প্রয়োজন হলে নিজের সীমারেখা রক্ষা করার জন্য কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানোর কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
নিজের বয়স নিয়েও ট্রোলারদের জবাব
সলমন নিজেও যে দীর্ঘদিন ধরে বয়স ও চেহারা নিয়ে ট্রোলিংয়ের শিকার হচ্ছেন, সেটিও স্পষ্ট করেন।
তাঁকে নিয়ে ‘বয়স হয়ে গিয়েছে’, ‘চেহারা বদলে গিয়েছে’—এই ধরনের মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে অভিনেতা সরাসরি ট্রোলারদের চ্যালেঞ্জ করেন। এক পর্যায়ে মঞ্চে নিজের শরীর দেখিয়েও বোঝাতে চান, বয়স নিয়ে কটাক্ষ করলেই তাঁর আত্মবিশ্বাস কমে যাবে না।
তবে তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল শুধু নিজেকে প্রমাণ করা নয়—অন্যের চেহারা, বয়স বা শরীর নিয়ে মন্তব্য করার প্রবণতাকেই প্রশ্ন করা।
কেন এতটা ক্ষুব্ধ হলেন ভাইজান?
পুরো ঘটনার দিকে তাকালে দেখা যায়, সলমনের ক্ষোভের কেন্দ্রে ছিল একটি বিষয়—অনলাইনে ব্যক্তিগত আক্রমণের স্বাভাবিকীকরণ।
চেহারা বদলেছে কেন, ওজন বেড়েছে কেন, বয়স হয়েছে কেন, মা হওয়ার পর শরীর কেন বদলেছে—এই ধরনের প্রশ্নকে তিনি নিছক মজা হিসেবে দেখতে রাজি নন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একজন পরিচিত তারকা এসব মন্তব্য সামলে নিতে পারলেও একই ধরনের কটাক্ষ সাধারণ মানুষের ওপর আরও গুরুতর মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে।
আর সেই কারণেই ‘বিগ বস’-এর মঞ্চকে ব্যবহার করে ট্রোলিং, বডি-শেমিং এবং ব্যক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপ—তিনটি বিষয় নিয়েই সরব হলেন সলমন খান। সাম্প্রতিক পর্বের পর তাঁর বক্তব্য নিয়ে বিনোদন জগতে একাধিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে।
শেষ কথা
সলমন খানের এই বক্তব্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে আলোচনা। কেউ তাঁর স্পষ্ট অবস্থানকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ তাঁর ভাষার তীব্রতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন।
তবে এই বিতর্কের মাঝেও একটি বিষয় স্পষ্ট—তারকার চেহারা, বয়স কিংবা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মতামত দেওয়ার ক্ষেত্রে অনলাইন পরিসরে সীমারেখা কোথায় থাকা উচিত, সেই প্রশ্নটি ফের সামনে এসেছে।
হাতে মোবাইল থাকলেই কি অন্যের ব্যক্তিগত জীবন বা শরীর নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার পাওয়া যায়? ‘বিগ বস’-এর মঞ্চে সলমনের বক্তব্য সেই প্রশ্নই নতুন করে তুলেছে।



