Thursday, September 24, 2026
Google search engine
Homeরাজ্যপাটমমতাকে নিশানা মদন মিত্রের! ‘এই বয়সে খেলতে পারবেন না’, রেজিনগরে কেন তুললেন...

মমতাকে নিশানা মদন মিত্রের! ‘এই বয়সে খেলতে পারবেন না’, রেজিনগরে কেন তুললেন ‘খাম’-এর প্রসঙ্গ?

একসময় একই রাজনৈতিক শিবিরে ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকার পর এবার সেই শিবিরের বিরুদ্ধেই সরাসরি আক্রমণ শানালেন মদন মিত্র।

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রচারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কামারহাটির বিধায়ক। আর রেজিনগরে দলীয় বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে একের পর এক মন্তব্য করলেন তিনি।

তবে মদনের বক্তব্যের মধ্যে থাকা আর্থিক অভিযোগগুলি তাঁর রাজনৈতিক দাবি, সেগুলির স্বাধীন প্রমাণ এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

‘এই বয়সে মমতা আর মাঠে নামতে পারবেন না’

রেজিনগরে সাংবাদিকদের সামনে মদন মিত্র বলেন, নন্দীগ্রামের লড়াইয়ে তাঁর দল মাঠে নেমেছে এবং তাঁদের প্রতিপক্ষের সামনে ‘প্লেয়ার’ নেই।

এই প্রসঙ্গেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তাঁর মন্তব্য, “এই বয়সে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো আর খেলতে পারবেন না।” মদনের বক্তব্য অনুযায়ী, তৃণমূলের নেতৃত্বের বর্তমান পরিস্থিতিতে মাঠে নেমে সরাসরি লড়াই করার প্রশ্নও তিনি তুলেছেন।

এটি মদন মিত্রের রাজনৈতিক কটাক্ষ—এটিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শারীরিক সক্ষমতা সম্পর্কে স্বাধীন তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

‘দ্বিতীয় বড় প্লেয়ারও মাঠে নেই’—কাকে ইঙ্গিত?

মদন মিত্র তাঁর বক্তব্যে তৃণমূলের ‘দ্বিতীয় বড় প্লেয়ার’-এর কথাও বলেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, সেই ব্যক্তি “লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি টাকা নিয়ে” মাঠের বাইরে চলে গিয়েছেন।

তাঁর বক্তব্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্যকে তৃণমূলের দ্বিতীয় সারির শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মদন তাঁর বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম স্পষ্ট করে বলেননি। তাই নির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ হিসেবে এই বক্তব্যকে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।

‘আমাদের প্রতীক খাম, খামে কোটি কোটি টাকা ধরে না’

নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে এবার প্রতীক নিয়েও আলাদা বার্তা দিয়েছেন মদন।

নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের পুরনো নাম ও ‘ফুল-ঘাস’ প্রতীক ব্যবহারে অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীকে ‘ফুটবল প্লেয়ার’ এবং বিরোধী গোষ্ঠীকে ‘খাম’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। মদন মিত্র যে গোষ্ঠীর সঙ্গে রয়েছেন, সেই ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে খাম প্রতীক।

এই প্রতীককে সামনে রেখেই মদনের কটাক্ষ, তাঁদের খামে “১ লক্ষ, ২ লক্ষ বা হাজার কোটি টাকা” ধরে না। পাশাপাশি বড় লরিতে করে টাকা নিয়ে যাওয়ার মতো আলমারি তাঁদের নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে এই মন্তব্যও রাজনৈতিক বক্তৃতার অংশ। কারও বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আর্থিক অপরাধের প্রমাণ হিসেবে এটিকে ব্যবহার করা যায় না।

নন্দীগ্রাম নিয়েও বড় বার্তা

শুধু রেজিনগর নয়, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন নিয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মদন মিত্র।

তিনি জানিয়েছেন, নন্দীগ্রামে শুধু গিয়ে প্রচার করে ফিরে আসা নয়, তাঁদের দলের কর্মীরা সেখানে টানা কয়েক দিন থেকে সংগঠনকে সক্রিয় রাখার পরিকল্পনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় তিন দিন সেখানে থেকে নির্বাচনী লড়াই চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে।

নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গে তিনি পুরনো স্লোগান “ভুলতে পারি বাবার নাম, ভুলব না কো নন্দীগ্রাম”-এর কথাও স্মরণ করান।

‘প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ও চলে গেছেন’

মদনের বক্তব্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম উঠে আসে—প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়

তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের একমাত্র ‘প্লেয়ার’ ছিলেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, তিনিও এখন আর তাঁদের সঙ্গে নেই। এর মাধ্যমে মদন মূলত প্রতিপক্ষ শিবিরের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছেন।

এখানেও ‘প্লেয়ার’ শব্দটি মদনের নিজস্ব রাজনৈতিক উপমা।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ নন্দীগ্রাম-রেজিনগর?

২০২৬ সালের উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

১৮ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীকে ‘Mamata All India Trinamool Congress’ নাম এবং ফুটবল প্লেয়ার প্রতীক দেয়। অন্যদিকে অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে ‘Democratic Trinamool Congress’ নাম ও খাম প্রতীক দেওয়া হয়। এই ব্যবস্থা আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তী।

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই আসনেই ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হওয়ার কথা। ফলে নতুন নাম ও প্রতীক নিয়ে দুই গোষ্ঠীর প্রচারও এখন আলাদা পরিচয়ে এগোচ্ছে।

নন্দীগ্রামে মমতার শিবিরের প্রার্থী পরিস্থিতি কী?

নন্দীগ্রাম নিয়েও ইতিমধ্যে বড় পরিবর্তন হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী নিজেদের প্রার্থী প্রত্যাহার করে সেখানে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা জানিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর নন্দীগ্রামের লড়াই আরও ভিন্ন রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে।

ফলে মদন মিত্রের ‘প্রতিপক্ষের ক্যান্ডিডেট নেই’ মন্তব্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বুঝতে এই পরিবর্তনটিও গুরুত্বপূর্ণ।

মদন মিত্রের ‘খেলা’র ভাষা কেন আলোচনায়?

মদন মিত্রের সাম্প্রতিক বক্তব্যে বারবার ফুটবল এবং খেলার উপমা এসেছে। ‘প্লেয়ার’, ‘বল’, ‘মাঠে নামা’—এই শব্দগুলির মাধ্যমে তিনি আসন্ন উপনির্বাচনকে কার্যত রাজনৈতিক ম্যাচ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নতুন প্রতীকও এই উপমাকে আরও আলোচনায় এনেছে। মমতা শিবিরের প্রতীক ফুটবল প্লেয়ার, আর মদন মিত্রদের খাম

ফলে ভোটের প্রচারে প্রতীক দুটিকে ঘিরে রাজনৈতিক বার্তা কতটা জোরালো হয়, সেটিও নজরে রাখার মতো বিষয়।

FACT CHECK

  • মদন মিত্র বর্তমানে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের শিবিরে রয়েছেন এবং নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারে সক্রিয়।
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীকে অন্তর্বর্তীভাবে ‘Mamata All India Trinamool Congress’ ও ফুটবল প্লেয়ার প্রতীক দেওয়া হয়েছে।
  • প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী ‘Democratic Trinamool Congress’ ও খাম প্রতীক পেয়েছে।
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়স বা শারীরিক অবস্থা নিয়ে মদনের মন্তব্য তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য, স্বাধীন চিকিৎসাগত বা অন্য কোনও মূল্যায়ন নয়।
  • “লক্ষ কোটি টাকা নিয়ে চলে গেছেন”—এটি মদন মিত্রের অভিযোগ/কটাক্ষ; স্বাধীনভাবে যাচাই করা আর্থিক তথ্য হিসেবে এটি উপস্থাপন করা উচিত নয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments