বয়স বাড়লেও ফিটনেস নিয়ে কোনও আপস করতে দেখা যায় না অক্ষয় কুমারকে। বলিউডের ‘খিলাড়ি’ হিসেবে পরিচিত এই অভিনেতা এখনও অ্যাকশন দৃশ্যে নিজের স্টান্ট নিজেই করার জন্য পরিচিত। তাই তাঁর শরীরচর্চা, ঘুম থেকে ওঠার সময় এবং খাবারের তালিকা নিয়ে অনুরাগীদের কৌতূহলের শেষ নেই।
অক্ষয়ের ফিট থাকার রহস্য অবশ্য কোনও একক ‘ম্যাজিক ডায়েট’ নয়। বরং দীর্ঘদিনের নিয়মিত শরীরচর্চা, নিয়ন্ত্রিত খাবার এবং জীবনযাপনে শৃঙ্খলার কথাই বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও তাঁর সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
ভোরে ঘুম থেকে ওঠা, তারপর শরীরচর্চা
অক্ষয় কুমারের লাইফস্টাইলের অন্যতম আলোচিত দিক হল তাঁর সকাল শুরু করার অভ্যাস। বহু বছর ধরেই তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠার কথা জানিয়েছেন।
তাঁর শরীরচর্চার তালিকায় সময় অনুযায়ী যোগাসন, বক্সিং, মার্শাল আর্ট এবং অন্যান্য ফিটনেস অনুশীলন থাকতে পারে। তবে তাঁর প্রতিদিনের রুটিনকে একটি নির্দিষ্ট তালিকা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়—শুটিং, কাজ ও বয়সের সঙ্গে ব্যায়ামের ধরনেও পরিবর্তন আসতে পারে।
অর্থাৎ শুধু জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানো নয়, নিয়মিত সক্রিয় থাকাটাই তাঁর ফিটনেস দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ব্রেকফাস্টে কী খান অক্ষয় কুমার?
অক্ষয়ের খাবারের তালিকা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় তাঁর সকালের খাবার ঘিরে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর পছন্দের খাবারের মধ্যে চিয়া সিড পুডিং-এর উল্লেখ পাওয়া যায়।
চিয়া সিড উদ্ভিজ্জ দুধে ভিজিয়ে তার সঙ্গে বিভিন্ন ফল ও বাদাম মিশিয়ে এই ধরনের পুডিং তৈরি করা যায়। এতে ফাইবার, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকে।
তবে শুধুমাত্র চিয়া সিড পুডিং খেলেই অক্ষয়ের মতো ফিট শরীর পাওয়া যায়—এমন ধারণা ঠিক নয়। তাঁর দীর্ঘদিনের সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার ধারাবাহিকতাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
ঘি-মাখন নয়, তাহলে টোস্টে কী?
অক্ষয়ের খাবারে অতিরিক্ত চিনি ও অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট এড়িয়ে চলার কথা বিভিন্ন জায়গায় উঠে এসেছে। তাই টোস্ট খেলে তার সঙ্গে মাখনের বদলে অ্যাভোকাডো ব্যবহার করার কথা বলা হয়।
অ্যাভোকাডোতে রয়েছে অসম্পৃক্ত ফ্যাট, ফাইবার এবং বেশ কিছু ভিটামিন ও খনিজ। ফলে ভারী মাখনের পরিবর্তে অ্যাভোকাডো ব্যবহার অনেকের কাছেই একটি জনপ্রিয় স্বাস্থ্যকর বিকল্প।
তবে অক্ষয়ের ব্যক্তিগত ডায়েটের প্রতিটি খাবার প্রতিদিন একই পরিমাণে থাকে—এমন দাবি করার মতো নির্ভরযোগ্য সর্বজনীন তালিকা নেই।
চিয়া সিড ছাড়াও কী থাকে খাবারের তালিকায়?
অক্ষয়ের পছন্দের খাবারের তালিকায় শুধু পুডিং বা টোস্টই নয়, উদ্ভিজ্জ উপাদান দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাবারের কথাও বলা হয়।
এর মধ্যে থাকতে পারে—
- মুগ ডালের চিল্লা
- জোয়ারের প্যানকেক
- তাজা সবজি ও ফল
- বাদাম ও বীজ
- উদ্ভিজ্জ দুধ
- অ্যাভোকাডো
স্বাদের পরিবর্তনের জন্য চিল্লা বা প্যানকেকের সঙ্গে পুদিনার চাটনিও খেতে পারেন তিনি বলে বিভিন্ন খাদ্যসংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অক্ষয় কি ভেগান ডায়েট মেনে চলেন?
অক্ষয়ের ডায়েট নিয়ে ‘ভেগান’ শব্দটিও প্রায়ই ব্যবহৃত হয়। তবে তাঁর খাদ্যাভ্যাস সময়ের সঙ্গে বদলেছে এবং বিভিন্ন সময়ে তাঁর ডায়েট সম্পর্কে ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
উদ্ভিজ্জ দুধ হিসেবে সোয়া, আমন্ড বা নারকেলের দুধের মতো বিকল্প ব্যবহারের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে পাওয়া যায়।
তাই তাঁর বর্তমান খাদ্যতালিকাকে সম্পূর্ণ এবং স্থায়ী ‘ভেগান ডায়েট’ হিসেবে ঘোষণা করার আগে নির্দিষ্ট সাম্প্রতিক সূত্র দেখা জরুরি।
শুটিংয়ে থাকলেও কীভাবে ফিটনেস ধরে রাখেন?
অভিনেতাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল অনিয়মিত শুটিং শিডিউল। কখনও ভোরে শুটিং, কখনও রাত পর্যন্ত কাজ—এর মধ্যেও শরীরচর্চা ও খাবারের নিয়ম বজায় রাখা সহজ নয়।
অক্ষয়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত, তা হল রুটিন মেনে চলার চেষ্টা। শুটিংয়ের জায়গা বদলালেও খাবার ও শরীরচর্চার বিষয়ে নিয়মিত থাকার বিষয়টি তাঁর লাইফস্টাইলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে উঠে এসেছে।
তবে কোনও তারকার ব্যক্তিগত ডায়েট হুবহু অনুসরণ করার আগে নিজের বয়স, শারীরিক অবস্থা, প্রয়োজন এবং চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ বিবেচনা করা উচিত।
তাহলে অক্ষয় কুমারের ফিটনেসের আসল রহস্য কী?
চিয়া সিড পুডিংকে একা অক্ষয়ের ফিটনেসের ‘রহস্য’ বলা ঠিক হবে না। তাঁর দীর্ঘদিনের সক্রিয় জীবনযাপন, নিয়মিত শরীরচর্চা, খাবারের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ এবং রুটিন মেনে চলার অভ্যাস—সব মিলিয়েই তাঁর ফিটনেসের ছবি তৈরি হয়েছে।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ধারাবাহিকতা। কোনও একটি খাবার বা কয়েক দিনের কঠোর ডায়েট নয়, বছরের পর বছর ধরে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ধরে রাখাই শরীরকে ফিট রাখার ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
FACT CHECK
চিয়া সিড পুডিং খেলেই অক্ষয় কুমারের মতো শরীর পাওয়া যায়?
না। চিয়া সিড পুষ্টিকর খাবার হতে পারে, কিন্তু কোনও একটি খাবার একা শরীরের ফিটনেস নির্ধারণ করে না।
অক্ষয় কি খুব ভোরে ওঠেন?
অক্ষয় দীর্ঘদিন ধরে ভোরে ওঠা ও সকালের রুটিনের কথা বলেছেন। তবে প্রতিদিনের সময়সূচি শুটিং ও কাজের কারণে বদলাতে পারে।
তাঁর ফিটনেসের মূল কারণ কী?
দীর্ঘদিনের শরীরচর্চা, সক্রিয় জীবনযাপন, খাবারের নিয়ন্ত্রণ ও ধারাবাহিক রুটিন—এই বিষয়গুলিই তাঁর ফিটনেস প্রসঙ্গে সবচেয়ে বেশি উঠে আসে।
অন্য কেউ কি তাঁর ডায়েট হুবহু অনুসরণ করবেন?
না। সেলিব্রিটির ডায়েট ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ডায়েট ঠিক করাই নিরাপদ।



