Wednesday, October 14, 2026
Google search engine
Homeঅন্যান্যটাকা হাতে থাকছে না? বাস্তু মতে ঘরে কোন দেবতার মূর্তি রাখলে শুভ

টাকা হাতে থাকছে না? বাস্তু মতে ঘরে কোন দেবতার মূর্তি রাখলে শুভ

মাসের শুরুতেই বেতন বা আয় হাতে আসে। অথচ মাস শেষ হওয়ার আগেই যেন টাকা উধাও! সঞ্চয়ের পরিকল্পনা করেও অনেকের ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়িত হয় না। তখন কেউ নিজের খরচের অভ্যাসকে দায়ী করেন, আবার কেউ খোঁজেন বাস্তুদোষের কারণ।

বাস্তুশাস্ত্রে বাড়ির বিভিন্ন দিক, ঘরের অবস্থান এবং কিছু প্রতীক বা মূর্তির বিশেষ গুরুত্বের কথা বলা হয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, নির্দিষ্ট জায়গায় দেবদেবীর ছবি বা মূর্তি রাখলে বাড়িতে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয় এবং সমৃদ্ধির প্রতীকী বার্তা বহন করে।

তবে শুরুতেই মনে রাখা দরকার—কোনও দেবতার মূর্তি রাখলেই আয় বেড়ে যাবে বা নিশ্চিতভাবে ধনী হওয়া যাবে, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এগুলি মূলত ধর্মীয় ও বাস্তুসংক্রান্ত বিশ্বাস।

লক্ষ্মী-কুবেরের মূর্তি রাখার কথা বলা হয় কেন?

হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে মা লক্ষ্মী সম্পদ, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে কুবেরকে ধন-সম্পদের অধিষ্ঠাতা হিসেবে মানা হয়।

এই কারণেই বাস্তু ও ধর্মীয় রীতিতে বাড়ির ঠাকুরঘরে লক্ষ্মী ও কুবেরের ছবি বা মূর্তি রাখার প্রচলন রয়েছে। অনেকে বাড়ির প্রবেশপথেও লক্ষ্মী-কুবেরের প্রতীক ব্যবহার করেন।

তবে মূর্তি রাখার সঙ্গে অর্থনৈতিক সাফল্যের সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক রয়েছে—এমন দাবি করা ঠিক নয়।

পঞ্চমুখী হনুমানের মূর্তি কোথায় রাখবেন?

হনুমানকে শক্তি, সাহস ও সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে মানা হয়। তাই বাড়িতে পঞ্চমুখী হনুমানের ছবি বা মূর্তি রাখার রীতিও বহু পরিবারে দেখা যায়।

কিছু বাস্তু মত অনুযায়ী, বাড়ির দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে হনুমানের প্রতীক রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে কোন দিক সবচেয়ে উপযুক্ত, তা নিয়ে বিভিন্ন বাস্তুপদ্ধতিতে ভিন্ন মত রয়েছে।

তাই এটিকে সবার জন্য বাধ্যতামূলক নিয়ম হিসেবে না দেখে একটি প্রচলিত বাস্তুবিশ্বাস হিসেবে দেখা উচিত।

পিরামিড কি সত্যিই বাস্তুদোষ কাটায়?

বাস্তু সংক্রান্ত বাজারে তামা, পিতল, রুপো বা অন্য ধাতুর তৈরি পিরামিড-সহ নানা ধরনের প্রতিকারমূলক সামগ্রী পাওয়া যায়।

বাস্তুবিশ্বাসে এগুলিকে নির্দিষ্ট স্থানে রাখলে ঘরের কথিত বাস্তুদোষের ভারসাম্য আনার কথা বলা হয়। কিন্তু কোনও ধাতব পিরামিড রাখলেই অর্থনৈতিক উন্নতি নিশ্চিত হবে—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

তাই শুধুমাত্র এই ধরনের সামগ্রী কিনে আর্থিক সমস্যার সমাধান হবে, এমন প্রত্যাশা করা উচিত নয়।

উত্তর দিকে জলভর্তি পাত্র রাখার নিয়ম

বাস্তু মতে উত্তর দিককে অনেক সময় সমৃদ্ধি ও প্রবাহের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সেই কারণে উত্তর দিকে জলভর্তি কলস বা পাত্র রাখার পরামর্শ কিছু বাস্তু মতবাদে পাওয়া যায়।

আবার কচ্ছপের মূর্তিকেও অনেক বাস্তুপদ্ধতিতে সৌভাগ্য ও স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

তবে এগুলিও ধর্মীয়-বিশ্বাসভিত্তিক প্রতীকী ব্যবস্থা। বাস্তবে সঞ্চয় বা সম্পদ তৈরির জন্য আয়-ব্যয়ের পরিকল্পনাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন বাড়ি তৈরি করলে কোন দিক নিয়ে বাস্তুতে কী বলা হয়?

বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রেও বাস্তুশাস্ত্রে ঘরের বিভিন্ন অংশের জন্য নির্দিষ্ট দিকের কথা বলা হয়।

প্রবেশদ্বার

বাস্তু মতে উত্তর, পূর্ব বা উত্তর-পূর্ব দিকের প্রবেশপথকে অনেক ক্ষেত্রে শুভ বলে মনে করা হয়।

তবে বাস্তবে বাড়ির দরজা কোথায় হবে, তা নির্ধারণের সময় জমির আকৃতি, রাস্তার অবস্থান, নির্মাণবিধি, আলো-বাতাস এবং কাঠামোগত নিরাপত্তাও বিবেচনা করা জরুরি।

বসার ঘর

বাস্তু মত অনুযায়ী পূর্ব, উত্তর বা উত্তর-পূর্ব দিকে বসার ঘর রাখার পরামর্শ পাওয়া যায়। আলো-বাতাসের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এবং বাড়ির বাসিন্দাদের ব্যবহারিক প্রয়োজনও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

রান্নাঘর

বাস্তুতে দক্ষিণ-পূর্ব দিককে রান্নাঘরের জন্য উপযুক্ত বলে ধরা হয়। কিছু মতবাদে উত্তর-পূর্ব বা দক্ষিণ-পশ্চিমে রান্নাঘর না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তবে বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে শুধু বাস্তু নয়, গ্যাসের নিরাপত্তা, বায়ু চলাচল, ধোঁয়া বের হওয়ার ব্যবস্থা এবং অগ্নি-নিরাপত্তাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

শোবার ঘর

বাস্তু মতে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে মাস্টার বেডরুম রাখার পরামর্শ প্রচলিত। বিশ্বাস করা হয়, এতে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

তবে দাম্পত্য জীবনে অশান্তির একমাত্র কারণ ঘরের দিক—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

বাথরুম

কিছু বাস্তুপদ্ধতিতে উত্তর-পশ্চিম দিকে বাথরুম রাখার কথা বলা হয়। একই সঙ্গে জল নিষ্কাশন, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, বায়ু চলাচল ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়গুলিও বাস্তব দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু বাস্তু মেনে চললেই কি টাকা জমবে?

বাস্তুবিশ্বাস অনুসরণ করতে চাইলে তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক পছন্দ হিসেবে করা যেতে পারে। কিন্তু আর্থিক উন্নতির জন্য শুধু মূর্তি, পিরামিড বা কোনও নির্দিষ্ট দিকের ওপর নির্ভর করা বাস্তবসম্মত নয়।

নিয়মিত সঞ্চয়, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো, জরুরি তহবিল তৈরি, ঋণের বোঝা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিনিয়োগ—এসবই দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থাৎ বাড়িতে লক্ষ্মী-কুবেরের মূর্তি রাখা আপনার বিশ্বাসের অংশ হতে পারে, কিন্তু সেই সঙ্গে নিজের অর্থ ব্যবস্থাপনাও ঠিক রাখা জরুরি।

তাহলে কী করবেন?

বাস্তু মেনে বাড়ি সাজাতে চাইলে প্রথমে নিজের বিশ্বাস ও পারিবারিক রীতিকে গুরুত্ব দিন। দেবতার মূর্তি বা প্রতিকারমূলক সামগ্রী রাখার ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং যথাযথ সম্মান বজায় রাখুন।

আর যদি নতুন বাড়ি তৈরি করেন, তাহলে বাস্তু নিয়ে পরামর্শের পাশাপাশি অবশ্যই স্থপতি বা ইঞ্জিনিয়ারের সাহায্য নিন। কারণ বাড়ির কাঠামো, বৈদ্যুতিক সংযোগ, গ্যাসলাইন, জল নিষ্কাশন ও অগ্নি-নিরাপত্তার মতো বিষয় সরাসরি বাস্তব নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত।

FACT CHECK

দাবি: লক্ষ্মী-কুবেরের মূর্তি রাখলেই বাড়িতে টাকা আসবে।
বাস্তবতা: এটি ধর্মীয় ও বাস্তুবিশ্বাস। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

দাবি: পঞ্চমুখী হনুমান রাখলে আর্থিক সমস্যা দূর হবেই।
বাস্তবতা: এটি প্রচলিত বিশ্বাস, নিশ্চিত আর্থিক ফলের প্রমাণ নয়।

দাবি: পিরামিড রাখলেই বাস্তুদোষ দূর হয়ে যাবে।
বাস্তবতা: এটি বাস্তুসংক্রান্ত প্রতিকার হিসেবে প্রচলিত হলেও বৈজ্ঞানিকভাবে অর্থনৈতিক উন্নতি বা বাস্তুদোষ দূর করার প্রমাণ নেই।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: বাস্তুবিশ্বাস মেনে চলতে চাইলে তা ব্যক্তিগত বিশ্বাস হিসেবে পালন করুন। আর্থিক সমস্যার ক্ষেত্রে বাস্তব আয়-ব্যয়, সঞ্চয় ও বিনিয়োগের পরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দিন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments