Tuesday, October 13, 2026
Google search engine
Homeঅন্যান্যধনতেরাস ২০২৬ কবে? কখন কেনাকাটা করবেন, লক্ষ্মী-কুবের পুজোর সময় কত, কী কিনবেন?

ধনতেরাস ২০২৬ কবে? কখন কেনাকাটা করবেন, লক্ষ্মী-কুবের পুজোর সময় কত, কী কিনবেন?

দুর্গাপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়ে যায় দীপাবলির প্রস্তুতি। আর দীপাবলির পাঁচ দিনের উৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন হল ধনতেরাস বা ধনত্রয়োদশী। এই দিনকে ঘিরে সোনা-রুপো, নতুন বাসন থেকে শুরু করে নানা জিনিস কেনার প্রচলন রয়েছে।

কিন্তু ২০২৬ সালে ধনতেরাস ঠিক কবে? ত্রয়োদশী তিথি কখন শুরু ও শেষ হচ্ছে? কখন লক্ষ্মী-কুবের পুজো করবেন? আর ধনতেরাসে কোন জিনিস কেনাকে শুভ বলে মনে করা হয়?

চলুন জেনে নেওয়া যাক।

ধনতেরাস ২০২৬ কবে?

কলকাতার পঞ্জিকা-ভিত্তিক গণনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ধনতেরাস শুক্রবার, ৬ নভেম্বর।

সেদিন কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথি শুরু হচ্ছে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে এবং শেষ হচ্ছে ৭ নভেম্বর সকাল ১০টা ৪৭ মিনিটে।

ধনতেরাসের আচার সাধারণত সূর্যাস্তের পর প্রদোষকালে করা হয়। তাই তিথি পরের দিন পর্যন্ত থাকলেও ৬ নভেম্বর সন্ধ্যাকেই ধনতেরাসের মূল পূজার সময় হিসেবে ধরা হচ্ছে।

লক্ষ্মী-কুবের পুজোর শুভ সময় কখন?

কলকাতার হিসাবে ৬ নভেম্বর ২০২৬-এ প্রদোষকাল প্রায় বিকেল ৪টা ৫৬ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।

এর মধ্যে ধনতেরাসের লক্ষ্মী-কুবের পুজোর নির্দিষ্ট শুভ সময় বিকেল ৫টা ২৮ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত।

তবে মনে রাখবেন, পুজোর মুহূর্ত স্থানভেদে কয়েক মিনিট বা তার বেশি বদলাতে পারে। তাই কলকাতার সময়কে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলার জন্য হুবহু একই ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

ধনতেরাসের সঙ্গে ধন্বন্তরীর সম্পর্ক কী?

‘ধনতেরাস’কে শুধু ধন-সম্পত্তির উৎসব হিসেবে দেখলে এর সম্পূর্ণ তাৎপর্য বোঝা যায় না।

হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্যে এই দিনটি ধন্বন্তরী ত্রয়োদশী বা ধন্বন্তরী জয়ন্তীর সঙ্গেও যুক্ত। সমুদ্র মন্থনের পৌরাণিক কাহিনিতে ভগবান ধন্বন্তরীর অমৃতের কলস হাতে আবির্ভাবের কথা বলা হয়।

ধন্বন্তরীকে আয়ুর্বেদের দেবতা হিসেবে সম্মান করা হয়। তাই ধনতেরাসে আর্থিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুর কামনাও করা হয়।

ধনতেরাসে কী কেনা শুভ বলে মনে করা হয়?

ধনতেরাসে নতুন জিনিস কেনার বিশেষ প্রচলন রয়েছে। বিশেষ করে ধাতব জিনিস, সোনা-রুপো এবং গৃহস্থালির সামগ্রী কেনাকে অনেক পরিবারে শুভ মনে করা হয়।

১. সোনা ও রুপো

সোনা বা রুপোর গয়না, মুদ্রা কিংবা অন্যান্য সামগ্রী কেনার রীতি বহু পরিবারে রয়েছে।

তবে সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে শুধুমাত্র “শুভ দিন” বলে কেনাকাটা করার কোনও প্রয়োজন নেই। ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি নিজের আর্থিক সামর্থ্যও বিবেচনা করা জরুরি।

২. নতুন বাসন

পিতল, তামা, কাঁসা বা স্টিলের নতুন বাসন কেনার প্রচলন রয়েছে। নতুন বাসনকে সমৃদ্ধি ও নতুন সূচনার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

৩. ঝাড়ু

অনেক হিন্দু পরিবারে ধনতেরাসে নতুন ঝাড়ু কেনার রীতি রয়েছে। লোকবিশ্বাসে ঝাড়ুকে ঘর থেকে অশুচিতা ও ‘অলক্ষ্মী’ দূর করার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

৪. ধনে বীজ

কিছু অঞ্চলে ধনতেরাসে ধনে বা ধনিয়া বীজ কেনারও প্রচলন রয়েছে। এটিও মূলত ধর্মীয় ও লোকাচারভিত্তিক বিশ্বাস।

৫. গাড়ি বা ইলেকট্রনিক্স

ধনতেরাসে গাড়ি, বৈদ্যুতিন যন্ত্র বা অন্যান্য বড় জিনিস কেনার চলও রয়েছে। তবে এগুলিই কিনতেই হবে বা এগুলি কিনলে নিশ্চিতভাবে ধনসম্পদ বাড়বে—এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

কোন জিনিস ধনতেরাসে না কেনার কথা বলা হয়?

এখানে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য ছড়ায়।

কিছু আঞ্চলিক ও পারিবারিক বিশ্বাসে ধনতেরাসে ছুরি-কাঁচির মতো ধারালো জিনিস, লোহা, কাচ বা তেল না কেনার কথা বলা হয়। আবার কোথাও কোথাও কালো জিনিসকেও এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কিন্তু এগুলিকে সর্বভারতীয় বা সর্বজনীন শাস্ত্রীয় নিষেধাজ্ঞা বলা ঠিক হবে না।

একইভাবে, কোনও নির্দিষ্ট জিনিস ধনতেরাসে কিনলেই অমঙ্গল হবে—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণও নেই।

তাই এই বিষয়গুলিকে ধর্মীয় বিশ্বাস ও পারিবারিক রীতি হিসেবেই দেখা উচিত।

ধনতেরাসে লক্ষ্মী পুজো করলেই কি দীপাবলির লক্ষ্মী পুজো হয়ে যায়?

এখানেও রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য।

ধনতেরাসে লক্ষ্মী ও কুবেরের পুজোর প্রচলন রয়েছে। কিন্তু দীপাবলির অমাবস্যার রাতে লক্ষ্মী পুজো বহু পরম্পরায় আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

অর্থাৎ, ধনতেরাসের লক্ষ্মী-কুবের আরাধনা এবং দীপাবলির মূল লক্ষ্মী পুজোকে এক জিনিস ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

ধনতেরাসে পুজোর সময় কী করবেন?

পুজোর আগে ঘর পরিষ্কার করে পুজোর স্থান সাজানো যায়। পরিবারের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী লক্ষ্মী, কুবের ও গণেশের আরাধনা করা হয়।

নতুন কেনা সোনা, রুপো, বাসন বা অন্যান্য সামগ্রীও পুজোর সময় প্রতীকীভাবে রাখা হয় অনেক পরিবারে।

তবে “১৩টি প্রদীপ জ্বালালেই পুজো সম্পূর্ণ” বা “অবশ্যই নির্দিষ্ট সংখ্যক উপকরণ লাগবে”—এ ধরনের নিয়মকে সর্বজনীন শাস্ত্রীয় বিধান হিসেবে দাবি করা উচিত নয়। পূজার পদ্ধতি পরিবার, সম্প্রদায় ও অঞ্চলের রীতি অনুযায়ী বদলাতে পারে।

কেনাকাটা করার আগে এই বিষয়টি মাথায় রাখুন

ধনতেরাস শুভ দিন—এটি ধর্মীয় বিশ্বাস। কিন্তু শুভ দিন মানেই যে কোনও জিনিস কেনার জন্য আর্থিকভাবে উপযুক্ত দিন, এমন নয়।

সোনা, গাড়ি, ইলেকট্রনিক্স বা দামি জিনিস কেনার আগে বাজেট, প্রয়োজন, দাম এবং ভবিষ্যৎ খরচ হিসাব করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো।

ধর্মীয় বিশ্বাস পালন করা যেতে পারে, কিন্তু আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী।

এক নজরে ধনতেরাস ২০২৬

বিষয়সময়/তথ্য
ধনতেরাস৬ নভেম্বর ২০২৬, শুক্রবার
ত্রয়োদশী শুরু৬ নভেম্বর সকাল ১০:৩০
ত্রয়োদশী শেষ৭ নভেম্বর সকাল ১০:৪৭
কলকাতায় প্রদোষকালবিকেল ৪:৫৬ – সন্ধ্যা ৭:৩০
লক্ষ্মী-কুবের পুজোবিকেল ৫:২৮ – সন্ধ্যা ৭:২৬
প্রধান কেনাকাটার প্রচলনসোনা, রুপো, ধাতব বাসন ইত্যাদি
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতাসময় স্থানভেদে পরিবর্তিত হতে পারে

উপরের সময়গুলি কলকাতার স্থানীয় গণনার ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে।

শেষ কথা

২০২৬ সালের ধনতেরাস পড়েছে ৬ নভেম্বর, শুক্রবার। ত্রয়োদশী তিথি শুরু হবে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে এবং পরদিন সকাল ১০টা ৪৭ মিনিটে শেষ হবে। কলকাতার হিসাবে সন্ধ্যা ৫টা ২৮ মিনিট থেকে ৭টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত লক্ষ্মী-কুবের পুজোর সময় দেওয়া হয়েছে।

সোনা-রুপো, নতুন বাসন বা অন্য কোনও জিনিস কেনার প্রচলন থাকলেও কোন জিনিস “শুভ” আর কোনটি “অশুভ”—তার অনেকটাই নির্ভর করে ধর্মীয় পরম্পরা, অঞ্চল এবং পারিবারিক বিশ্বাসের ওপর।

তাই ধনতেরাসে কেনাকাটা করুন, পুজো করুন—তবে নিজের সামর্থ্য ও প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments