Tuesday, October 13, 2026
Google search engine
Homeসিনেদুনিয়া‘আমার জুতোয় পা রেখে দেখো’—বিচ্ছেদের জল্পনার মাঝে যিশু সেনগুপ্তর রহস্যময় পোস্ট, কাকে...

‘আমার জুতোয় পা রেখে দেখো’—বিচ্ছেদের জল্পনার মাঝে যিশু সেনগুপ্তর রহস্যময় পোস্ট, কাকে উদ্দেশ্য করে?

‘মানুষ খুব সহজেই বিচার করে। কিন্তু কেউ আমার জুতোয় কখনও পা গলায়নি…’

অভিনেতা যিশু সেনগুপ্তর এই কথাগুলিই এখন নতুন করে নজর কেড়েছে। ২ অক্টোবর নিজের একটি ফটোশ্যুটের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন অভিনেতা। সেই ছবির সঙ্গে থাকা বার্তায় তিনি লেখেন, অন্যের জীবন বা পথ না জেনে কাউকে বিচার করা সহজ, কিন্তু তাঁর জায়গায় দাঁড়িয়ে সেই পথ পেরিয়ে আসা কারও পক্ষে সম্ভব হয়নি।

আর এই পোস্ট সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—কাকে উদ্দেশ্য করে এমন কথা বললেন যিশু?

কারণ, গত দু’বছর ধরে যিশু সেনগুপ্ত ও নীলাঞ্জনা শর্মার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে একের পর এক জল্পনা চলছে। তবে অভিনেতা নিজে পোস্টে কাউকে সরাসরি উল্লেখ করেননি। তাই এই বার্তাকে নীলাঞ্জনার উদ্দেশে বা বিচ্ছেদ সংক্রান্ত নির্দিষ্ট বক্তব্য হিসেবে ধরে নেওয়ার কোনও নিশ্চিত ভিত্তি নেই।

যিশু-নীলাঞ্জনার সম্পর্কে কী হয়েছিল?

একসময় টলিপাড়ার অন্যতম পরিচিত দম্পতি ছিলেন যিশু সেনগুপ্ত ও নীলাঞ্জনা শর্মা। ২০২৪ সালে তাঁদের দাম্পত্যে টানাপোড়েনের খবর প্রকাশ্যে আসে।

সেই সময় নীলাঞ্জনা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে যিশুর সঙ্গে থাকা একাধিক ছবি সরিয়ে দেন এবং তাঁকে আনফলো করেন। একই সময় তাঁদের বড় মেয়ে সারা সেনগুপ্তও বাবাকে ইনস্টাগ্রামে আনফলো করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

এরপর থেকেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের দাবি সামনে আসে। যিশুর অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার জল্পনাও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। তবে এই ধরনের অভিযোগের কোনওটিই যিশু বা নীলাঞ্জনা প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেননি। তাই সেগুলিকে নিশ্চিত বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না।

নীলাঞ্জনার পোস্টেও কি ছিল ইঙ্গিত?

সম্পর্কের জল্পনার মাঝেই নীলাঞ্জনা একাধিকবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কিছু পোস্ট করেছিলেন, যা নিয়ে অনুরাগীদের মধ্যে নানা ব্যাখ্যা তৈরি হয়।

২০২৪ সালের একটি পোস্টে তিনি নিজের জীবনের কঠিন সময়, মেয়েদের সমর্থন এবং নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিলেন। সেই পোস্টে যিশুর কোনও উল্লেখ ছিল না।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেও নীলাঞ্জনার একটি পোস্টকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে। সেখানে তিনি একটি অধ্যায় শেষ হওয়া এবং সেই অধ্যায় থেকে পাওয়া শিক্ষার কথা লিখেছিলেন। তবে পোস্টে সরাসরি যিশুর সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়েছে—এমন কোনও ঘোষণা ছিল না।

তাহলে কি যিশু-নীলাঞ্জনার আইনি বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে?

এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে এখনও সাবধান হওয়া জরুরি।

২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে টলিপাড়ার জল্পনার উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, দু’জনের আইনত বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু একই প্রতিবেদনে যিশু বা নীলাঞ্জনার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রকাশ্য নিশ্চিতকরণের কথা নেই।

অর্থাৎ, তাঁরা আলাদা থাকছেন—এমন খবর বহুদিন ধরেই প্রকাশ্যে রয়েছে; কিন্তু আইনি বিচ্ছেদ সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিয়ে তাঁদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

সেই কারণে যিশুর নতুন পোস্টকে সরাসরি ‘ডিভোর্সের পরের বার্তা’ বলা এখনই নিশ্চিত তথ্য হবে না।

নিজের জীবন নিয়ে কি কোনও উত্তর দিলেন যিশু?

যিশুর সাম্প্রতিক পোস্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখানেই।

তিনি কারও নাম নেননি। কোনও অভিযোগও করেননি। বরং মূল বক্তব্য ছিল—একজন মানুষের জীবন সম্পর্কে বিচার করার আগে তাঁর পথচলাটা বোঝা প্রয়োজন।

ফলে এই পোস্টকে দু’ভাবে দেখা যায়। একদিকে এটি ব্যক্তিগত জীবনের চাপ, সমালোচনা বা জনসমক্ষে থাকা নিয়ে অভিনেতার সাধারণ অনুভূতির প্রকাশ হতে পারে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ঘিরে চলা ব্যক্তিগত জল্পনার প্রেক্ষিতে অনুরাগীদের একাংশ এটিকে সেই আলোচনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন।

তবে দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটি অনুমান, যিশুর নিশ্চিত বক্তব্য নয়।

নীলাঞ্জনা এখন নিজের জগতে ব্যস্ত

অন্যদিকে নীলাঞ্জনাও গত কয়েক বছরে নিজের কাজকে নতুনভাবে সাজিয়েছেন।

দুই মেয়ে সারা ও জারার নাম মিলিয়ে তিনি শুরু করেছেন ‘নিনি চিনিস মাম্মাস প্রোডাকশন’। এই ব্যানার থেকে ‘আনন্দী’ এবং ‘দাদামণি’-র মতো বাংলা ধারাবাহিকও এসেছে।

অর্থাৎ ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনের পাশাপাশি নীলাঞ্জনা নিজের পেশাগত পরিচয়ও আলাদাভাবে তৈরি করছেন।

যিশুরও থামেনি কাজ

অন্যদিকে যিশু সেনগুপ্তও নিজের অভিনয়জীবনে ব্যস্ত রয়েছেন। বাংলা ছবির পাশাপাশি হিন্দি এবং দক্ষিণী ছবিতেও তাঁকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে।

এই পুজোয় তাঁর অন্যতম আলোচিত ছবি ‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’। নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবিতে যিশুকে পুলিশ আধিকারিকের চরিত্রে দেখা যাবে। ছবিতে তাঁর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন সোহিনী সরকার ও কৌশানি মুখোপাধ্যায়। ছবিটির মুক্তির তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০২৬।

ফলে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যতই আলোচনা থাকুক, পেশাগত ক্ষেত্রে যিশু এখনও নিজের কাজ নিয়েই এগিয়ে চলেছেন।

‘আমার জুতোয় পা রেখে দেখো’—তাহলে রহস্যটা কী?

আপাতত রহস্যের উত্তর যিশু নিজেই দেননি।

তাঁর পোস্টে নীলাঞ্জনার নাম নেই, বিচ্ছেদের কথাও নেই। তাই এটিকে সরাসরি প্রাক্তন স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলা বা কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগের জবাব হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না।

তবে একটা বিষয় স্পষ্ট—নিজের জীবন নিয়ে বাইরে থেকে তৈরি হওয়া বিচার-বিশ্লেষণ নিয়ে যিশু এবার একটি বার্তা দিয়েছেন।

‘আমাকে বিচার করার আগে আমার পথটা বোঝার চেষ্টা করুন’—এই অর্থই তাঁর পোস্টের মূল বক্তব্য।

সেই বার্তা ব্যক্তিগত জীবনের জটিলতার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, নাকি শুধুই তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা একটি সাধারণ উপলব্ধি—তার উত্তর অবশ্য অভিনেতার কাছ থেকেই আসতে হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments