পশ্চিমবঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় যোগ্য মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বহু উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছে। তবে এখনও অনেক আবেদনকারী জানাচ্ছেন, তাঁদের অ্যাকাউন্টে অর্থ পৌঁছায়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—আবেদন করা সত্ত্বেও টাকা এল না কেন? আবার কি নতুন করে আবেদন করতে হবে, নাকি শুধুই অপেক্ষা করলেই হবে?
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) পদ্ধতিতে আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে। তাই যাঁদের অর্থ এখনও জমা পড়েনি, তাঁদের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা জরুরি।
কীভাবে পাঠানো হচ্ছে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা?
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা সরাসরি উপভোক্তার আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে। কোনও মধ্যস্থতাকারী বা নগদ বিতরণের ব্যবস্থা নেই। আবেদন যাচাই, নথিপত্র পরীক্ষা এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য মিলিয়ে দেখার পরেই অর্থ ছাড়া হচ্ছে।
এর অর্থ, আবেদন জমা দিলেই সঙ্গে সঙ্গে টাকা পাওয়া যাবে এমন নয়। নির্ধারিত যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই DBT-এর মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হচ্ছে।
কেন এখনও টাকা পাননি? সম্ভাব্য কারণ কী?
যদি এখনও আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা জমা না হয়ে থাকে, তাহলে তার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে।
সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলি হলো—
- আবেদনপত্রের তথ্য এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।
- আধার নম্বরের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত নয় বা তাতে ত্রুটি রয়েছে।
- মোবাইল নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা ব্যক্তিগত তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে।
- প্রয়োজনীয় নথি অসম্পূর্ণ বা ভেরিফিকেশন এখনও শেষ হয়নি।
- আপনার আবেদন এখনও Pending অবস্থায় রয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, যাচাই সম্পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে অর্থ পাঠানো হচ্ছে। তাই সব আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে একই দিনে টাকা পৌঁছাবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।
কতজনের অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই টাকা পৌঁছেছে?
সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে, বিপুল সংখ্যক আবেদন যাচাইয়ের পর লক্ষাধিক নয়, কোটি সংখ্যক উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আর্থিক সহায়তা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন তালিকা অনুমোদিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা করা হচ্ছে।
ফলে এখনও টাকা না পেলেও আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। প্রথমে নিজের আবেদন এবং ভেরিফিকেশনের অবস্থা দেখে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কীভাবে অনলাইনে স্ট্যাটাস চেক করবেন?
অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন বা পেমেন্ট স্ট্যাটাস জানতে সরকারি সোশ্যাল রেজিস্ট্রি পোর্টাল ব্যবহার করা যায়।
স্ট্যাটাস দেখার আগে সঙ্গে রাখুন—
- আধার কার্ড
- আবেদনকালে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর
এরপর নিচের ধাপগুলি অনুসরণ করুন—
ধাপ ১: সরকারি Social Registry Portal-এ প্রবেশ করুন।
ধাপ ২: হোমপেজে Citizen Login অথবা Check Status অপশনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৩: আবেদন করার সময় ব্যবহৃত ১০ সংখ্যার মোবাইল নম্বর লিখুন।
ধাপ ৪: মোবাইলে আসা OTP দিয়ে লগ-ইন সম্পূর্ণ করুন।
ধাপ ৫: এরপর ১২ সংখ্যার আধার নম্বর দিয়ে সার্চ করুন।
সব তথ্য সঠিক থাকলে স্ক্রিনে আবেদনকারীর নাম, আবেদন নম্বর এবং বর্তমান স্ট্যাটাস দেখা যাবে। সেখানে Approved, Pending বা অন্য কোনও স্ট্যাটাস উল্লেখ থাকবে।
যদি স্ট্যাটাসে ‘Pending’ দেখায়?
অনেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এখনও Pending স্ট্যাটাস দেখা যেতে পারে। এর অর্থ আবেদন বাতিল হয়েছে, এমন নয়।
সাধারণত Pending দেখানোর কারণ হতে পারে—
- নথি যাচাই চলছে।
- স্থানীয় প্রশাসনের রিপোর্ট এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।
- ব্যাঙ্ক বা আধার সংক্রান্ত তথ্য যাচাই বাকি রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নতুন করে আবেদন না করে কিছুদিন অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
টাকা না এলে কী করবেন?
যদি দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরেও টাকা না আসে, তাহলে প্রথমে নিচের বিষয়গুলি মিলিয়ে নিন—
- আধার নম্বর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত আছে কি না।
- আবেদনপত্রে দেওয়া মোবাইল নম্বর সক্রিয় রয়েছে কি না।
- আবেদনপত্রে নাম, জন্মতারিখ ও অন্যান্য তথ্য সঠিক রয়েছে কি না।
- স্ট্যাটাসে Approved না Pending দেখাচ্ছে।
সব তথ্য ঠিক থাকার পরও অর্থ না এলে সংশ্লিষ্ট BDO, SDO অথবা নির্ধারিত সরকারি সহায়তা কেন্দ্রে যোগাযোগ করে সমস্যার কারণ জেনে নেওয়া যেতে পারে।
কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন?
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী মহিলাদের আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই নাম অনুমোদন করা হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ শুধুমাত্র DBT পদ্ধতিতে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা টাকা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ দাবি করলে সতর্ক থাকুন। আবেদন বা স্ট্যাটাস সংক্রান্ত তথ্য জানতে শুধুমাত্র সরকারি পোর্টাল ও সরকারি দপ্তরের উপরই ভরসা করুন।
যাঁদের এখনও ৩,০০০ টাকা জমা পড়েনি, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত নিজের আবেদন ও ভেরিফিকেশনের বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা করা। অনেক ক্ষেত্রেই যাচাই সম্পূর্ণ হওয়ার পর পরবর্তী ধাপে অর্থ পাঠানো হচ্ছে। তাই তথ্য সঠিক থাকলে এবং আবেদন অনুমোদিত হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী কিস্তির অর্থ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে।



