NEET পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কলকাতার ধর্মতলায় বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় ঘটে যাওয়া সংঘর্ষ এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। শনিবার বিধানসভায় এ নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দেন। তাঁর দাবি, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে এবং প্রয়োজনে ‘গুন্ডা দমন আইন’ প্রয়োগ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার তদন্ত ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক বক্তব্য এবং হামলাকারীদের পরিচয় সংক্রান্ত দাবি এখনও তদন্তাধীন বিষয় হওয়ায়, সেগুলির স্বাধীন সরকারি বা বিচারিক নিশ্চিতকরণ সামনে আসা বাকি।
ধর্মতলার বিক্ষোভে কী ঘটেছিল?
রেফারেন্স অনুযায়ী, NEET প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, জলের বোতল ও জুতো ছোড়া হয়। সেই সঙ্গে ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন সাংবাদিকও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। এরপর ঘটনাকে ঘিরে শহরজুড়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।
বিধানসভায় কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা নষ্ট করার যে কোনও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে।
তাঁর দাবি, পুলিশ সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে এবং হিংসাত্মক ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনের সব ধারাই প্রয়োগ করা হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আন্দোলনের আড়ালে কিছু অসামাজিক উপাদান অশান্তি তৈরির চেষ্টা করেছে।
৭০ জনকে চিহ্নিত করার দাবি
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে প্রায় ৭০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে প্রশাসনের কাছে তথ্য রয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, চিহ্নিত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই প্রকৃত ছাত্র বা আন্দোলনের সাধারণ অংশগ্রহণকারী নন। তবে এই দাবিগুলি এখনও তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়নি।
‘গুন্ডা দমন আইন’ প্রয়োগের ঘোষণা
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্মতলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই একাধিক পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজন অনুযায়ী ‘গুন্ডা দমন আইন’ প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এই আইন প্রয়োগের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সংঘবদ্ধ হিংসার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার।
সাংবাদিকদের ওপর হামলা নিয়ে উদ্বেগ
ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে হামলার ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে। পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
তদন্তের দিকে নজর
ধর্মতলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। একদিকে সরকার কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছে, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে।
এখন নজর তদন্তের অগ্রগতি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ এবং আদালতে মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে। তদন্তের ভিত্তিতে নতুন তথ্য সামনে এলে পুরো ঘটনার চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।



