কয়েক মাস আগেও জাতীয় রাজনীতিতে খুব বেশি পরিচিত নাম ছিলেন না সৌরভ দাস। কিন্তু সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন এবং CJP-র (Cockroach Janta Party) কর্মসূচিকে ঘিরে তিনি এখন জাতীয় স্তরের আলোচনার অন্যতম মুখ। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে দলের বক্তব্য তুলে ধরা, কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া এবং আন্দোলনের অবস্থান ব্যাখ্যা করার কারণে তাঁর পরিচিতি দ্রুত বেড়েছে।
তাহলে কে এই সৌরভ দাস? কীভাবে একজন RTI কর্মী ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক থেকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন তিনি? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
সাংবাদিকতা ও তথ্যের অধিকার আন্দোলন থেকেই শুরু
প্রকাশ্য প্রোফাইল অনুযায়ী, সৌরভ দাস সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ (Journalism and Mass Communication) নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। কর্মজীবনের শুরু থেকেই তিনি তথ্যের অধিকার আইন (RTI) ব্যবহার করে বিভিন্ন জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন। পরে সেই অভিজ্ঞতাকেই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত করেন।
আইন, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি—এই বিষয়গুলোই তাঁর কাজের মূল ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত।
RTI থেকে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা
বিভিন্ন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অল্প বয়স থেকেই RTI আইনের মাধ্যমে সরকারি তথ্য সংগ্রহ এবং জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন সৌরভ। কোভিড-১৯ পর্বে তথ্যপ্রাপ্তি সংক্রান্ত বিলম্বের বিষয়েও তিনি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন বলে প্রকাশ্যে উল্লেখ রয়েছে।
তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত প্রোফাইলে দাবি করা হয়েছে যে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।
কীভাবে CJP-র অন্যতম মুখ হয়ে উঠলেন?
২০২৬ সালে CJP আনুষ্ঠানিকভাবে একাধিক মুখপাত্রের নাম ঘোষণা করলে সৌরভ দাসকে প্রধান মুখপাত্রদের একজন করা হয়। এরপর থেকেই সংগঠনের পক্ষে সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য রাখা, আন্দোলনের অবস্থান ব্যাখ্যা করা এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁকে নিয়মিত দেখা যায়।
সাম্প্রতিক আন্দোলনের সময়ও বিভিন্ন আলোচনায় ও সংবাদ সম্মেলনে তিনি সংগঠনের অবস্থান তুলে ধরেন এবং সরকারের সঙ্গে সংলাপের বিষয়েও প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন।
কেন আলোচনায় সৌরভ দাস?
ছাত্র আন্দোলনের সময় সৌরভ দাসের একাধিক বক্তব্য এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনায় তাঁর উপস্থিতি জাতীয় সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পায়। আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণাও তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতিও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। সম্প্রতি তাঁর একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়া এবং পরে পুনরুদ্ধার হওয়ার ঘটনাও সংবাদে আসে।
বিতর্কও রয়েছে
জনপ্রিয়তার সঙ্গে বিতর্কও এসেছে। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রকাশ্যে সৌরভ দাস নিজেকে একজন স্বাধীন অনুসন্ধানী সাংবাদিক এবং স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি বলেই পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাখ্যার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য সর্বত্র পাওয়া যায় না।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উত্থান?
সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের পর সৌরভ দাস কেবল একজন মুখপাত্র নন, বরং তরুণদের একটি অংশের পরিচিত মুখ হিসেবেও উঠে এসেছেন। RTI-ভিত্তিক কাজ, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং সাম্প্রতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছেন।
আগামী দিনে তাঁর ভূমিকা কী হবে, CJP-র রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মসূচিতে তিনি কতটা সক্রিয় থাকবেন—সেই দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।



