বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আইপিএল (IPL) ভবিষ্যতে কি ভারতের বাইরে নতুন গন্তব্য পেতে চলেছে? ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (Cricket Australia) এক শীর্ষ কর্তার সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে সেই প্রশ্নই এখন ক্রিকেট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ভারতের বিশাল ক্রিকেট বাজার এবং আইপিএলের আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তাকে সামনে রেখে অস্ট্রেলিয়ায় এই টুর্নামেন্টের অন্তত একটি ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
যদিও এখনও পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) আইপিএলের কোনও ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ায় আয়োজনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি। ফলে বিষয়টি এখনও সম্ভাবনার পর্যায়েই রয়েছে। তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আগ্রহ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কেন অস্ট্রেলিয়ায় আইপিএল আয়োজনের জল্পনা?
সম্প্রতি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এক মুখপাত্র জানান, বিশ্ব ক্রিকেটের অর্থনীতিতে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্য, ভবিষ্যতে যদি আইপিএলের কোনও ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ায় আয়োজিত হয়, তাহলে তা অবাক হওয়ার মতো বিষয় হবে না।
তাঁর মতে, ভারতীয় ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা শুধু মাঠেই নয়, সম্প্রচার, স্পনসরশিপ এবং দর্শকসংখ্যার দিক থেকেও বিশ্ব ক্রিকেটে বড় প্রভাব ফেলে। সেই কারণেই বিসিসিআইয়ের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহী ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।
অ্যাডিলেড ওভালে হতে পারে আইপিএলের ম্যাচ?
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট সংস্থা অ্যাডিলেড ওভালে আইপিএলের অন্তত একটি ম্যাচ আয়োজন করতে আগ্রহী।
এই প্রস্তাব নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে খবর। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ কর্তা সম্ভাব্য আয়োজন নিয়ে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।
তবে এখনও পর্যন্ত বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সম্মতি বা সরকারি ঘোষণা করা হয়নি।
আগে কি ভারতের বাইরে হয়েছে আইপিএল?
হ্যাঁ। অতীতে বিশেষ পরিস্থিতিতে আইপিএলের ম্যাচ বিদেশেও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- ২০০৯ সালে ভারতের সাধারণ নির্বাচনের কারণে পুরো আইপিএল দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হয়।
- ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের জন্য টুর্নামেন্টের প্রথম পর্ব সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে (UAE) আয়োজন করা হয়।
- ২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে সম্পূর্ণ আইপিএল সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে অনুষ্ঠিত হয়।
- ২০২১ সালেও করোনা পরিস্থিতির জেরে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পর্ব UAE-তে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এই অভিজ্ঞতার কারণেই বিদেশে আইপিএল আয়োজন নতুন বিষয় নয়। তবে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়মিতভাবে বা পরিকল্পিতভাবে ম্যাচ আয়োজন হলে সেটি অবশ্যই নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিগ ব্যাশ ও ভারতের ক্রিকেট বাজার
কিছুদিন আগেই জানা গিয়েছিল, ভারতের বিপুল দর্শকসংখ্যাকে মাথায় রেখে বিগ ব্যাশ লিগ (BBL)-এর ম্যাচ ভারতে আয়োজনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।
এই প্রসঙ্গেই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার মুখপাত্র জানান, বিসিসিআইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করতে তারা আগ্রহী। ভবিষ্যতে আইপিএল কিংবা ভারতের কোনও দ্বিপাক্ষিক সিরিজের ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ায় আয়োজনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলেই তাঁর মন্তব্য।
অ্যাশেজ নিয়ে কী বলল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া?
সম্প্রতি জল্পনা উঠেছিল, ভারতের বিশাল ক্রিকেট বাজারকে কাজে লাগাতে ঐতিহ্যবাহী অ্যাশেজ সিরিজের কিছু ম্যাচ ভবিষ্যতে ভারতের মাটিতে আয়োজন করা হতে পারে।
তবে এই সম্ভাবনা কার্যত খারিজ করে দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। সংস্থার মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমানে এমন কোনও পরিকল্পনা তাদের নেই।
বিসিসিআই কী বলছে?
এই মুহূর্তে আইপিএলের ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ায় আয়োজনের বিষয়ে বিসিসিআইয়ের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
অতএব, বিষয়টি এখনও আলোচনা এবং সম্ভাবনার পর্যায়ে রয়েছে। ভবিষ্যতে দুই বোর্ডের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হলে তবেই এ নিয়ে নিশ্চিত তথ্য সামনে আসবে।
ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এর গুরুত্ব কী?
যদি ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ায় আইপিএলের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে তা বিশ্ব ক্রিকেটের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে একটি বড় পদক্ষেপ হতে পারে। একই সঙ্গে ভারতীয় প্রবাসী দর্শক, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটপ্রেমী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রচার বাজার—সব ক্ষেত্রেই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে এমন কোনও সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগে বিসিসিআই, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া, আইসিসি এবং সংশ্লিষ্ট সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলির অনুমোদন ও সমন্বয় প্রয়োজন হবে।
শেষ কথা
অস্ট্রেলিয়ায় আইপিএল আয়োজন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও, এখনও পর্যন্ত এটি শুধুই সম্ভাবনা। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আগ্রহ প্রকাশ পেলেও বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ফলে ক্রিকেটপ্রেমীদের এখন অপেক্ষা করতে হবে দুই বোর্ডের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের দিকে। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে আইপিএলের আন্তর্জাতিক যাত্রায় আরও একটি নতুন অধ্যায় যোগ হবে।



