দুর্গাপুজোর আগে সরকারি অনুদান ঘিরে নতুন করে চর্চায় কলকাতা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের পুজো কমিটিগুলির জন্য ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করার পরেই বড় বাজেটের পুজোগুলিকে সেই টাকা না নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রীর সেই আবেদনের পর মাত্র এক দিনের মধ্যেই কলকাতার একাধিক নামী পুজো কমিটি জানিয়ে দিল—তারা সরকারি অনুদানের জন্য আবেদন করবে না।
আরও চমকপ্রদ ঘটনা ঘটেছে রাজডাঙা নব উদয় সংঘকে ঘিরে। ওই কমিটি পুজোর খরচে সরকারি টাকা ব্যবহার না করে ১ লক্ষ টাকা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
কেন বড় পুজোগুলিকে অনুদান না নিতে বললেন শুভেন্দু?
৭ সেপ্টেম্বর কলকাতায় দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি ও সমন্বয় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ১ লক্ষ টাকা করে সরকারি আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেন।
তবে একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য ছিল, যে সমস্ত বড় বাজেটের পুজো নিজেদের স্পনসর, বিজ্ঞাপন এবং অন্যান্য উৎস থেকে অর্থ জোগাড় করতে সক্ষম, তারা যেন সরকারি সাহায্য না নেয়।
তাঁর যুক্তি, যে পুজো কমিটিগুলির আর্থিক সামর্থ্য কম এবং সরকারি সহায়তা ছাড়া পুজো আয়োজন করা কঠিন, সেই কমিটিগুলিই যেন অগ্রাধিকার পায়।
অর্থাৎ, এটি বাধ্যতামূলক কোনও নিষেধাজ্ঞা নয়; বড় পুজোগুলির কাছে মুখ্যমন্ত্রীর স্বেচ্ছায় অনুদান ছেড়ে দেওয়ার আবেদন।
কোন ৭টি বড় পুজো অনুদান নিচ্ছে না?
মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনের পর যে সাতটি বড় পুজো কমিটির নাম সামনে এসেছে, সেগুলি হল—
- সন্তোষপুর লেক পল্লি
- টালা প্রত্যয়
- চোরবাগান সর্বজনীন
- নাকতলা উদয়ন সংঘ
- সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার
- ফুলবাগান সর্বজনীন
- রাজডাঙা নব উদয় সংঘ
এই তালিকাটি একাধিক সংবাদ সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
তবে সাতটির সিদ্ধান্ত একেবারে একই ধরনের নয়। প্রথম ছয়টি কমিটি সরকারি অনুদানের জন্য আবেদন না করার কথা জানিয়েছে। রাজডাঙা নব উদয় সংঘ জানিয়েছে, ১ লক্ষ টাকা পুজোর কাজে ব্যবহার না করে সেই অর্থ মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেওয়া হবে।
সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের অবস্থান কী?
তালিকার অন্যতম চর্চিত নাম সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার।
বিজেপি বিধায়ক তথা পুজো উদ্যোক্তা সজল ঘোষ জানিয়েছেন, তাঁদের পুজো কমিটি আগেও সরকারি আর্থিক সাহায্য নেয়নি এবং এবারও নেবে না।
ফলে এই সিদ্ধান্তকে শুধুমাত্র এবারের সরকারি ঘোষণার প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা যায় না। কমিটির পক্ষ থেকে আগের অবস্থানের ধারাবাহিকতার কথাও সামনে এসেছে।
রাজডাঙা নব উদয়ের সিদ্ধান্ত কেন আলাদা?
সাতটি কমিটির মধ্যে সবচেয়ে নজরকাড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজডাঙা নব উদয় সংঘ।
কমিটির চেয়ারপার্সন কেয়া ঘোষ জানিয়েছেন, তাঁরা সরকারি অনুদান পুজোর কাজে ব্যবহার করবেন না। বরং ১ লক্ষ টাকা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অর্থাৎ, সরকারি সহায়তা নেওয়ার বদলে সেই অর্থই জনকল্যাণমূলক তহবিলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি।
এই কারণেই তাঁদের সিদ্ধান্তটি অন্য ছয়টি পুজোর তুলনায় আলাদা মাত্রা পেয়েছে।
ছোট পুজোগুলির জন্য কী ব্যবস্থা?
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় ছোট এবং আর্থিকভাবে তুলনামূলক দুর্বল পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি সাহায্য দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
যে কমিটিগুলি এই আর্থিক সহায়তা চাইবে, তাদের স্থানীয় থানার মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সেই আবেদন যাচাই করে অনুদানের ব্যবস্থা করা হবে।
অর্থাৎ, বড় পুজোগুলি স্বেচ্ছায় অনুদান না নিলে সেই অর্থনৈতিক সহায়তার উদ্দেশ্য আরও বেশি করে ছোট পুজোগুলির দিকে ঘুরে যাবে—এটাই সরকারের ঘোষণার মূল যুক্তি।
১ লক্ষ টাকার অনুদান ঘিরে বিতর্কের শুরু কোথা থেকে?
দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিষয় নয়। করোনা পরিস্থিতির সময় ২০২০ সালে পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। পরবর্তী বছরগুলিতে সেই অনুদানের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে অনুদান ছিল ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
এবার ক্ষমতার পালাবদলের পর নতুন সরকার ১ লক্ষ টাকা করে সহায়তার ঘোষণা করেছে। তবে একইসঙ্গে বড় বাজেটের পুজোগুলিকে সেই টাকা ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ফলে পুরনো অনুদাননীতি, সরকারি অর্থের ব্যবহার এবং বড় পুজোগুলির আর্থিক সক্ষমতা—তিনটি বিষয়ই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এটা কি নিছক সামাজিক দায়বদ্ধতা, নাকি অন্য কোনও বার্তা?
এখানেই তৈরি হচ্ছে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক।
একটি দৃষ্টিভঙ্গি বলছে, বড় বাজেটের পুজোগুলি যদি নিজেদের অর্থে আয়োজন করতে পারে, তাহলে সরকারি অর্থ ছোট পুজোগুলির জন্য ছেড়ে দেওয়া নিঃসন্দেহে সামাজিকভাবে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত।
অন্যদিকে, রাজনৈতিকভাবে এই সিদ্ধান্তের আলাদা তাৎপর্যও রয়েছে। কারণ দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরেও এর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।
বিশেষ করে রাজডাঙা নব উদয় সংঘের মতো কোনও কমিটি যখন অনুদান না নিয়ে ত্রাণ তহবিলে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সেটি নিছক আর্থিক সিদ্ধান্তের বাইরে একটি প্রতীকী বার্তাও তৈরি করে।
তবে এটিকে সরাসরি ‘ব্র্যান্ডিংয়ের কৌশল’ বা রাজনৈতিক প্রচার হিসেবে চিহ্নিত করার মতো নির্দিষ্ট প্রমাণ এখনও সামনে নেই। সেটি আপাতত রাজনৈতিক ব্যাখ্যা বা মতামতের জায়গাতেই রাখা উচিত।
সামনে বড় প্রশ্ন কী?
এবার নজর থাকবে দুটি দিকে।
প্রথমত, এই তালিকায় আরও বড় পুজো কমিটি যোগ হয় কি না।
দ্বিতীয়ত, ছোট পুজো কমিটিগুলির মধ্যে কতগুলি বাস্তবে সরকারি অনুদান পায় এবং আবেদন ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ থাকে।
কারণ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি সাহায্যের মূল উদ্দেশ্যই হল—যে পুজোগুলির সত্যিই আর্থিক প্রয়োজন রয়েছে, তাদের পাশে দাঁড়ানো।
তাই কলকাতার সাতটি নামী পুজোর অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে নজিরবিহীন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত ছোট পুজোগুলির জন্য বাস্তবে কতটা সুবিধা তৈরি করে, সেটাই হবে এই নতুন অনুদাননীতির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
SEO তথ্য
SEO Title: ১ লক্ষ টাকার অনুদান নেবে না কলকাতার ৭ বড় পুজো! তালিকায় কারা, কেন এমন সিদ্ধান্ত?
Meta Description: শুভেন্দু অধিকারীর আবেদনের পর সরকারি ১ লক্ষ টাকার অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত কলকাতার ৭ বড় পুজোর। তালিকায় সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, টালা প্রত্যয়, নাকতলা উদয়ন-সহ কারা?
Primary Keyword: পুজোর ১ লক্ষ টাকা অনুদান
Secondary Keywords: দুর্গাপুজো অনুদান ২০২৬, শুভেন্দু অধিকারী পুজো অনুদান, কলকাতার বড় পুজো, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, টালা প্রত্যয়, নাকতলা উদয়ন সংঘ, রাজডাঙা নব উদয় সংঘ
Suggested Slug: durga-puja-grant-7-kolkata-puja-committees
Google Discover Headline: ১ লক্ষ টাকা নিল না কলকাতার ৭ বড় পুজো! তালিকায় কারা, রাজডাঙার সিদ্ধান্তে কেন চমক?



