Tuesday, October 13, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিপুজোর আগে মধ্যবিত্তের জন্য বড় খবর! ₹৪.৬৯ লাখ থেকে Maruti Celerio, মিলছে...

পুজোর আগে মধ্যবিত্তের জন্য বড় খবর! ₹৪.৬৯ লাখ থেকে Maruti Celerio, মিলছে ৩৪.৪৩ km/kg মাইলেজ

পুজোর আগে নতুন গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন? বাজেট কম, কিন্তু বাইক বা স্কুটারের বদলে চার চাকার গাড়ি চাই? তাহলে Maruti Suzuki Celerio-র দিকে নজর দিতে পারেন।

কারণ, বর্তমানে Maruti Suzuki-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী Celerio-র দাম শুরু হচ্ছে ₹৪.৬৯ লাখ এক্স-শোরুম থেকে। অর্থাৎ, অন-রোড খরচ ধরলে দাম আরও বাড়বে, কিন্তু কমপ্যাক্ট চার চাকার গাড়ির বাজারে এটি তুলনামূলকভাবে কম দামের একটি বিকল্প।

তবে শুধু দাম নয়—Celerio-র অন্যতম বড় আকর্ষণ তার জ্বালানি সাশ্রয়ী ইঞ্জিন। পেট্রোল ভার্সনে অফিসিয়াল মাইলেজ সর্বোচ্চ প্রায় ২৬ km/l, আর S-CNG সংস্করণে বর্তমানে সংস্থার দাবি ৩৪.৪৩ km/kg।

Celerio-র দাম কত?

বর্তমানে Maruti Suzuki Celerio-র বেস LXi MT ভ্যারিয়েন্টের দাম শুরু হচ্ছে ₹৪,৬৯,৯০০ থেকে, এক্স-শোরুম।

এর পরের ভ্যারিয়েন্টগুলির দাম ধাপে ধাপে বাড়ে। অফিসিয়াল তালিকায় VXi MT, VXi AGS, VXi CNG, ZXi MT, ZXi AGS এবং ZXi+ ভ্যারিয়েন্ট রয়েছে। সর্বোচ্চ তালিকাভুক্ত ZXi+ AGS-এর দাম ₹৬,৭৫,৪০০ এক্স-শোরুম।

অর্থাৎ, “বাইক কেনার দামে চার চাকা” বলার আগে একটা বিষয় মাথায় রাখা জরুরি—Celerio-র ₹৪.৬৯ লাখ দামটি এক্স-শোরুম মূল্য, রেজিস্ট্রেশন, ইনস্যুরেন্স, ট্যাক্স ও অন্যান্য অন-রোড খরচ যোগ হলে চূড়ান্ত দাম আরও বেশি হবে।

মাইলেজের দিক থেকে কেমন Celerio?

Celerio-র অন্যতম বড় আকর্ষণই হল এর fuel efficiency।

পেট্রোল মডেলের বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টে অফিসিয়াল ARAI-ভিত্তিক মাইলেজ প্রায় ২৫–২৬ km/l-এর মধ্যে, আর নির্দিষ্ট AGS ভ্যারিয়েন্টে সংস্থা ২৬ km/l পর্যন্ত মাইলেজ উল্লেখ করছে।

আর যারা জ্বালানি খরচ আরও কমাতে চান, তাঁদের জন্য রয়েছে S-CNG সংস্করণ।

বর্তমান Maruti Suzuki তথ্য অনুযায়ী Celerio S-CNG-এর মাইলেজ ৩৪.৪৩ km/kg। আগের লঞ্চের সময় সংস্থা ৩৫.৬০ km/kg মাইলেজের দাবি করেছিল, কিন্তু বর্তমান অফিসিয়াল পেজে ৩৪.৪৩ km/kg দেখানো হচ্ছে। তাই পুরনো ৩৫.৬০ সংখ্যাটিকে বর্তমান মাইলেজ হিসেবে ব্যবহার না করাই ভালো।

কোন ইঞ্জিন রয়েছে?

Celerio-তে রয়েছে ৯৯৮ cc K10C পেট্রোল ইঞ্জিন। এটি তিন সিলিন্ডারের ইঞ্জিন এবং Dual Jet ও Dual VVT প্রযুক্তির সঙ্গে আসে।

পেট্রোল মডেলে রয়েছে Idle Start-Stop প্রযুক্তি। অর্থাৎ, গাড়ি থেমে থাকা অবস্থায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ইঞ্জিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হতে পারে এবং প্রয়োজন হলে আবার চালু হয়। এর লক্ষ্য হল অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি খরচ কমানো।

ম্যানুয়াল না অটোমেটিক?

শহরের ট্রাফিকে বারবার ক্লাচ চাপতে না চাইলে Celerio-র AGS বা Auto Gear Shift ভ্যারিয়েন্ট বিবেচনা করা যায়।

অন্যদিকে, যারা প্রচলিত ড্রাইভিং পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য ৫-স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সের বিকল্প রয়েছে। CNG সংস্করণটি বর্তমানে VXi ভ্যারিয়েন্টে ৫-স্পিড ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশনের সঙ্গে পাওয়া যায়।

গাড়িতে কী কী ফিচার রয়েছে?

কমপ্যাক্ট গাড়ি হলেও Celerio-তে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় ফিচার রয়েছে।

নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী পাওয়া যেতে পারে—

  • ৭ ইঞ্চির Smartplay Studio ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম
  • স্মার্টফোন কানেক্টিভিটি
  • Engine Push Start-Stop Button
  • Smart Key
  • Steering-mounted controls
  • Electrically adjustable ও foldable ORVM
  • Hill Hold Assist
  • ABS with EBD
  • Dual Airbags

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সব ফিচার সব ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যায় না। তাই গাড়ি কেনার আগে নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্টের ফিচার তালিকা দেখে নেওয়া উচিত।

দেখতে কেমন?

Celerio-র ডিজাইনকে ছোট শহুরে হ্যাচব্যাকের ধাঁচে রাখা হয়েছে। গাড়িটির দৈর্ঘ্য ৩,৬৯৫ মিমি, প্রস্থ ১,৬৫৫ মিমি এবং উচ্চতা ১,৫৫৫ মিমি। হুইলবেস ২,৪৩৫ মিমি।

উচ্চতর ভ্যারিয়েন্টে ১৫ ইঞ্চির অ্যালয় হুইলও পাওয়া যায়। ফলে ছোট গাড়ি হলেও চেহারায় একেবারে বেসিক লুক নেই।

তাহলে পুজোর আগে Celerio কেন নজরে রাখা যায়?

যাঁদের প্রথম গাড়ি কেনার বাজেট তুলনামূলক সীমিত, তাঁদের কাছে Celerio-র মূল আকর্ষণ তিনটি জায়গায়—তুলনামূলক কম এন্ট্রি প্রাইস, ছোট আকার এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী ইঞ্জিন।

বিশেষ করে প্রতিদিন শহরে অফিস বা বাজারের কাজে গাড়ি ব্যবহার করতে হলে কমপ্যাক্ট সাইজ পার্কিং ও শহুরে রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে সুবিধা দিতে পারে।

আর CNG সংস্করণ বেছে নিলে জ্বালানি খরচের হিসাব আরও আলাদা হতে পারে—যদিও বাস্তব মাইলেজ নির্ভর করবে ট্রাফিক, রাস্তা, ড্রাইভিং স্টাইল, গাড়ির লোড ও অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর।

তবে ‘বাইকের দামে চার চাকা’ বলার আগে এই হিসাবটা বুঝুন

সোশ্যাল মিডিয়ায় “বাইকের থেকেও কম দামে Celerio” ধরনের দাবি আকর্ষণীয় হলেও বিষয়টি একটু অন্যরকম।

Celerio-র বর্তমান শুরু দাম ₹৪.৬৯৯ লাখ এক্স-শোরুম। এর সঙ্গে RTO, ইনস্যুরেন্স এবং অন্যান্য অন-রোড খরচ যোগ হবে। তাই বিজ্ঞাপনের শুরু দামকে সরাসরি অন-রোড দাম ধরে নেওয়া যাবে না।

এছাড়া কোন ভ্যারিয়েন্ট নেবেন—পেট্রোল না CNG, ম্যানুয়াল না AGS—তার ওপরও মোট খরচ বদলে যাবে।

শেষ কথা

পুজোর আগে কম বাজেটে নতুন চার চাকার গাড়ি খুঁজছেন এমন ক্রেতাদের জন্য Maruti Suzuki Celerio অবশ্যই বিবেচনার তালিকায় থাকতে পারে।

তবে “বাইক কেনার দামে গাড়ি”র মতো প্রচারমূলক কথায় সিদ্ধান্ত না নিয়ে এক্স-শোরুম দাম, অন-রোড দাম, EMI, ইনস্যুরেন্স এবং আপনার দৈনিক চলার খরচ—সব মিলিয়ে হিসাব করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments