Tuesday, October 13, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিপুজোয় ‘ড্রিমবয়-ড্রিমগার্ল’ ভাড়া? AI ছবির আড়ালে নতুন সাইবার স্ক্যাম, সাবধান করল পুলিশ

পুজোয় ‘ড্রিমবয়-ড্রিমগার্ল’ ভাড়া? AI ছবির আড়ালে নতুন সাইবার স্ক্যাম, সাবধান করল পুলিশ

দুর্গাপুজো মানেই বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, প্যান্ডেল হপিং আর রাতভর ঘোরাঘুরি। কিন্তু উৎসবের আনন্দের মাঝেই একাকীত্বকে হাতিয়ার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হচ্ছে নতুন ধরনের প্রতারণার ফাঁদ। বিজ্ঞাপনে দাবি—কয়েকশো টাকা দিলেই পাওয়া যাবে পছন্দের ‘ড্রিমবয়’ বা ‘ড্রিমগার্ল’!

ছবিতে কখনও আকর্ষণীয় যুবক, কখনও সুন্দরী তরুণী। সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে ‘প্রাইভেসি গ্যারান্টি’, পছন্দের সঙ্গী বেছে নেওয়ার সুযোগ এবং অনলাইনে বুকিংয়ের সুবিধা। প্রথম দেখায় বিজ্ঞাপনটি যতটা আকর্ষণীয়, পুলিশের সতর্কবার্তা অনুযায়ী এর পিছনের প্রতারণার ছক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।

‘ড্রিমবয়’ বা ‘ড্রিমগার্ল’—আসলেই কি কোনও মানুষ?

সম্প্রতি কলকাতা-সহ রাজ্যে এমন বিজ্ঞাপন নিয়ে সতর্কতা সামনে এসেছে। পুলিশের দাবি, এই ধরনের বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত আকর্ষণীয় ছবি অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তব ব্যক্তির নয়। AI দিয়ে তৈরি ছবি অথবা ইন্টারনেট থেকে নেওয়া ছবি ব্যবহার করে ভুয়ো প্রোফাইলকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপনে বলা হচ্ছে, পুজোর সময় প্যান্ডেল হপিং, পার্টি, অনুষ্ঠান কিংবা বাইরে ঘোরার জন্য অস্থায়ীভাবে সঙ্গী পাওয়া যাবে। কেউ বিজ্ঞাপনে আগ্রহ দেখালেই তাকে ব্যক্তিগত মেসেজে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে।

এরপর শুরু হচ্ছে আসল ফাঁদ।

কীভাবে কাজ করছে এই ‘সঙ্গী ভাড়া’ স্ক্যাম?

পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রতারণার পদ্ধতিটি কয়েকটি ধাপে সাজানো হতে পারে।

প্রথমে ‘বুকিং’ নিশ্চিত করার জন্য সামান্য অগ্রিম টাকা চাওয়া হয়। টাকা দেওয়ার পর বলা হতে পারে, বুকিং সম্পূর্ণ করতে আরও কিছু চার্জ দিতে হবে।

এরপর আসতে পারে সিকিউরিটি ডিপোজিট, ভেরিফিকেশন চার্জ অথবা কনফার্মেশন ফি-এর মতো নতুন দাবি। কখনও আবার কয়েকজন ‘ড্রিমবয়’ বা ‘ড্রিমগার্ল’-এর ছবি পাঠিয়ে পছন্দ করতে বলা হতে পারে।

সমস্যা হল, সেই প্রোফাইল এবং ছবিগুলিও ভুয়ো হতে পারে। ফলে ব্যবহারকারী যত বেশি বিশ্বাস করছেন, তত বেশি অর্থ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

টাকা পাঠানোর পর কী হতে পারে?

পুলিশের সতর্কতা অনুযায়ী, টাকা পাওয়ার পর প্রতারকরা যোগাযোগ বন্ধ করে দিতে পারে। ফোন, মেসেজ বা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট—সব জায়গা থেকেই ব্লক করে দেওয়া হতে পারে।

অর্থাৎ, যে ‘সঙ্গী’-কে বুক করার জন্য টাকা দেওয়া হয়েছিল, তার সঙ্গে দেখা তো দূরের কথা, যোগাযোগের সুযোগও নাও থাকতে পারে।

এই ধরনের পদ্ধতিতে দেশের অন্য জায়গাতেও অভিযোগ সামনে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। পুজোর আগে কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে একই ধরনের প্রতারণার চেষ্টা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

শুধু টাকা নয়, আরও বড় বিপদ হতে পারে

এই ধরনের অনলাইন যোগাযোগে শুধু আর্থিক প্রতারণার ঝুঁকি নেই। অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কেউ নিজের ফোন নম্বর, ঠিকানা, ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করে ফেললে পরবর্তীতে সেই তথ্য অপব্যবহারের আশঙ্কাও থাকে।

ভারতের National Cyber Crime Reporting Portal-এর advisories-তেও ভুয়ো পরিচয় ও সম্পর্ক তৈরি করে আর্থিকভাবে প্রতারণার প্রবণতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ডেটিং বা সম্পর্কের নামে ভুয়ো প্রোফাইল ব্যবহার করে প্রতারণা নতুন নয়। AI-এর কারণে সেই ভুয়ো পরিচয়কে আরও বাস্তবসম্মত করে তোলা এখন প্রতারকদের জন্য সহজ হয়ে উঠছে।

AI-এর ছবি দেখে কীভাবে বুঝবেন প্রোফাইল ভুয়ো?

শুধু ছবি দেখে নিশ্চিত হওয়া এখন ক্রমশ কঠিন। তাই কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে খেয়াল করা জরুরি।

  • অস্বাভাবিকভাবে আকর্ষণীয় বা ‘পারফেক্ট’ ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে কি না
  • প্রোফাইলটি নতুন তৈরি কি না
  • বাস্তব জীবনের কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে কি না
  • দ্রুত ব্যক্তিগত চ্যাটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে কি না
  • অগ্রিম টাকা বা QR কোডে পেমেন্ট চাইছে কি না
  • বারবার নতুন নতুন চার্জের কথা বলা হচ্ছে কি না
  • অপরিচিত লিঙ্ক বা অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হচ্ছে কি না

বিশেষ করে ‘বুকিং ফি দিন, তারপর সঙ্গী নিশ্চিত’—এই ধরনের চাপ তৈরি হলে অত্যন্ত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

পুজোর আগে কী করবেন?

সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ড্রিমবয়’, ‘ড্রিমগার্ল’ বা ‘সঙ্গী ভাড়া’ দেওয়ার বিজ্ঞাপন দেখলেই তাতে ক্লিক না করাই নিরাপদ।

অপরিচিত কাউকে অগ্রিম টাকা দেবেন না। ব্যক্তিগত ছবি, ঠিকানা, OTP বা ব্যাংকিং তথ্য শেয়ার করবেন না। সন্দেহজনক লিঙ্কেও ক্লিক করবেন না।

কলকাতা পুলিশও অজানা বা সন্দেহজনক অনলাইন যোগাযোগে সতর্ক থাকতে বলেছে এবং তাদের ‘Stop, Drop, Inform’ বার্তায় সন্দেহজনক যোগাযোগ বন্ধ করে পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছে।

আর যদি ভুল করে টাকা পাঠিয়েই ফেলেন, দেরি না করে ১৯৩০ নম্বরে যোগাযোগ করুন এবং National Cyber Crime Reporting Portal-এ অভিযোগ জানান। কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখাও এই হেল্পলাইন ও পোর্টালের কথা জানিয়েছে।

পুজোর আনন্দে একাকীত্ব নয়, সচেতনতাই হোক সঙ্গী

সোশ্যাল মিডিয়ার একটি ঝকঝকে ছবি বা কয়েকশো টাকার আকর্ষণীয় অফার দেখে কাউকে সত্যি বলে ধরে নেওয়া এখন আর নিরাপদ নয়। বিশেষ করে উৎসবের আগে যখন মানুষের আবেগ ও একাকীত্বকে কাজে লাগিয়ে ভুয়ো বিজ্ঞাপন ছড়ানো হচ্ছে বলে পুলিশ সতর্ক করছে।

তাই ‘ড্রিমবয়’ বা ‘ড্রিমগার্ল’ পাওয়ার লোভে কোনও অচেনা প্রোফাইলে টাকা পাঠানোর আগে একবার থামুন। ছবিটি সত্যি কি না, প্রোফাইলটি আসল কি না এবং অফারটির পিছনে কোনও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান আছে কি না—যাচাই না করে কোনও পেমেন্ট করবেন না।

পুজোর আনন্দ কয়েক ঘণ্টার। কিন্তু একটি ভুল অনলাইন লেনদেনের আর্থিক ও ব্যক্তিগত ক্ষতির প্রভাব অনেক বেশি সময় ধরে থাকতে পারে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments