Tuesday, October 13, 2026
Google search engine
Homeদেশের কথাপ্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করলেই বিপদ? গুজরাটে বাবা-মায়ের সম্মতি নিয়ে কী প্রস্তাব...

প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করলেই বিপদ? গুজরাটে বাবা-মায়ের সম্মতি নিয়ে কী প্রস্তাব এসেছে

প্রেমের সম্পর্কের পর বাড়ির অমতে বিয়ে। দু’জনেই প্রাপ্তবয়স্ক, নিজেদের সিদ্ধান্তে বিয়ে করেছেন। কিন্তু এবার সেই বিয়ে নথিভুক্ত করতেই কি বাবা-মায়ের সম্মতি লাগবে?

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুজরাট সরকার বিয়ে নথিভুক্তির নিয়মে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব সামনে আনে। প্রস্তাবে বাবা-মাকে বিয়ের বিষয়ে জানানো এবং তাঁদের সম্মতির বিষয়টি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল।

খবরটি সামনে আসতেই শুরু হয় তুমুল বিতর্ক।

কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল—এটি কি ইতিমধ্যেই আইন হয়ে গিয়েছে? কবে থেকে চালু হচ্ছে? আর সত্যিই কি প্রাপ্তবয়স্ক যুগল বাবা-মায়ের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করতে পারবেন না?

জেনে নিন পুরো বিষয়টি।

কী প্রস্তাব করেছিল গুজরাট সরকার?

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গুজরাট বিধানসভায় রাজ্য সরকার Gujarat Registration of Marriages Act, 2006-এ পরিবর্তনের প্রস্তাব তোলে।

ডেপুটি মুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংভি জানান, বিয়ে নথিভুক্তির প্রক্রিয়ায় বাবা-মায়ের ভূমিকা বাড়ানো হবে। সরকারের যুক্তি ছিল—পরিচয় গোপন করে প্রতারণা, জোরপূর্বক সম্পর্ক বা বিয়ের নামে প্রতারণার মতো অভিযোগ ঠেকাতে আরও কড়া verification দরকার।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় শুধু বর-কনের তথ্য নয়, তাঁদের বাবা-মায়ের পরিচয় ও যোগাযোগের তথ্যও নথিভুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল।

বাবা-মাকে কি সত্যিই জানানো হবে?

হ্যাঁ—প্রস্তাবিত নিয়মে এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে ছিল।

বিয়ের registration application জমা দেওয়ার পর Assistant Registrar প্রয়োজনীয় যাচাই সম্পন্ন করলে বর ও কনের বাবা-মাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জানানো হবে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, বাবা-মাকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে electronic বা physical মাধ্যমে জানানো যেতে পারে। WhatsApp-এর মতো messaging platform ব্যবহারের কথাও প্রতিবেদনে উঠে আসে।

এছাড়া আবেদনকারীদের এমন একটি declaration দেওয়ার প্রস্তাব ছিল, যেখানে জানাতে হবে তাঁরা বাবা-মাকে বিয়ের কথা জানিয়েছেন কি না।

৩০ দিনের নিয়মটা কী?

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় registration-এর ক্ষেত্রে একটি ৩০ দিনের waiting/verification period রাখা হয়েছিল।

Assistant Registrar আবেদন পরীক্ষা করার পর সেটি সংশ্লিষ্ট Registrar-এর কাছে পাঠাবেন। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হয়েছে বলে Registrar সন্তুষ্ট হওয়ার পর ৩০ দিন পেরিয়ে গেলে বিয়ের registration সম্পন্ন করার প্রস্তাব ছিল।

অর্থাৎ এটি এমন কোনও নিয়ম নয় যে—

“বাবা-মা ৩০ দিনের মধ্যে অনুমতি না দিলে বিয়ে অবৈধ।”

বরং প্রস্তাবটি মূলত marriage registration process-এ parental involvement এবং waiting period যুক্ত করার বিষয়ে ছিল।

তাহলে বাবা-মায়ের সম্মতি কি বাধ্যতামূলক হওয়ার কথা ছিল?

এখানেই বিষয়টির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক।

ফেব্রুয়ারিতে গুজরাট সরকার যে proposal সামনে এনেছিল, সেখানে parental consent compulsory করার কথা বলা হয়েছিল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও এটিকে সেইভাবেই রিপোর্ট করেছিল।

কিন্তু প্রস্তাব আর কার্যকর আইন এক জিনিস নয়।

সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট parental-consent amendment কার্যকর হয়ে গিয়েছে—এমন নিশ্চিত সরকারি notification বা আইন কার্যকর হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি মে ২০২৬-এর রিপোর্টেও বিষয়টিকে এখনও “planning/proposal” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

তাই এখনই বলা ঠিক হবে না—

“গুজরাটে বাবা-মায়ের অনুমতি ছাড়া প্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে করা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।”

প্রাপ্তবয়স্ক হলে নিজের পছন্দে বিয়ে করার অধিকার কী?

ভারতের সংবিধান এবং সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়ে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির নিজের জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকারের বিষয়টি স্বীকৃত হয়েছে।

অর্থাৎ বাবা-মায়ের মতামত সামাজিক ও পারিবারিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক দুই ব্যক্তির বিয়েকে শুধুমাত্র পরিবারের সম্মতির ওপর নির্ভরশীল করে দেওয়ার বিষয়টি সাংবিধানিক অধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্নও তোলে।

গুজরাটের প্রস্তাবটি প্রকাশ্যে আসার পর আইনজীবী ও অধিকারকর্মীদের একাংশও এই privacy এবং personal autonomy নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

অন্যদিকে গুজরাট সরকারের বক্তব্য ছিল, উদ্দেশ্য প্রেমের বিয়ে বন্ধ করা নয়; বরং প্রতারণা, জোরজবরদস্তি এবং পরিচয় গোপন করে বিয়ের মতো অভিযোগ ঠেকাতে registration system আরও শক্তিশালী করা।

‘লাভ জিহাদ’ প্রসঙ্গ কেন এল?

গুজরাট সরকার এই প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে তথাকথিত ‘love jihad’-এর অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলেছিল।

ডেপুটি মুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংভি বিধানসভায় পরিচয় গোপন করে মেয়েদের প্রতারণা করার অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, সরকার genuine love marriage-এর বিরুদ্ধে নয়, কিন্তু প্রতারণা ও exploitation-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চায়।

তবে ‘love jihad’ কোনও সর্বজনস্বীকৃত আইনি শ্রেণি নয়—তাই এই রাজনৈতিক পরিভাষাকে প্রতিষ্ঠিত অপরাধের সমার্থক হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।

পালিয়ে বিয়ে করলে কি বিয়ে বাতিল হয়ে যাবে?

না, এমন সরলভাবে বলা যায় না।

প্রাপ্তবয়স্ক দুই ব্যক্তি আইনসম্মতভাবে বিয়ে করলে শুধু তাঁরা পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করেছেন বলেই সেই বিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়—এমন নিয়ম বর্তমানে নেই।

গুজরাটের যে প্রস্তাবটি নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল, সেটি মূলত registration procedure বদলানোর প্রস্তাব।

অর্থাৎ—

বিয়ে করা এবং
বিয়ে সরকারি নথিতে নিবন্ধন করা—দুটি আলাদা আইনি বিষয়।

এই পার্থক্যটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

গুজরাটে UCC-ও কি এই একই আইন?

না। এটিও আলাদা করে বোঝা দরকার।

২০২৬ সালের মার্চে গুজরাট বিধানসভায় Uniform Civil Code Bill, 2026 পাস হয়। ওই বিল বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং live-in relationship-সহ একাধিক বিষয়ে একটি সাধারণ আইনি কাঠামোর প্রস্তাব দেয়।

কিন্তু সেটিকে ফেব্রুয়ারির marriage-registration parental-consent proposal-এর সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক হবে না।

দুটি আলাদা আইনি উদ্যোগ।

তাহলে এখন আসল পরিস্থিতি কী?

সহজ ভাষায় বিষয়টি এমন—

প্রস্তাব এসেছিল?
হ্যাঁ।

বাবা-মাকে জানানো ও তাঁদের consent-এর বিষয়টি proposal-এ ছিল?
হ্যাঁ।

১০ দিনের মধ্যে বাবা-মাকে notification দেওয়ার প্রস্তাব ছিল?
হ্যাঁ।

৩০ দিনের registration/verification period-এর কথা ছিল?
হ্যাঁ।

এখনই বাবা-মায়ের অনুমতি ছাড়া প্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে গুজরাটে বেআইনি?
না—এমন দাবি করার মতো কার্যকর আইন হিসেবে এই proposal-কে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।

কবে থেকে কার্যকর হবে?
এই নির্দিষ্ট parental-consent amendment-এর কার্যকর হওয়ার নিশ্চিত তারিখ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এই প্রস্তাব ঘিরে বিতর্ক কোথায়?

সরকারের যুক্তি—বিয়ে নথিভুক্তির সময় আরও verification থাকলে পরিচয় গোপন করে প্রতারণা, জাল নথি বা coercion-এর মতো অভিযোগ কমানো যেতে পারে।

অন্যদিকে সমালোচকদের প্রশ্ন—দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রীয় registration system-এর মাধ্যমে বাবা-মায়ের সম্মতি বাধ্যতামূলক করা হলে privacy, dignity এবং personal autonomy-র ওপর তার প্রভাব কী হবে?

অর্থাৎ এটি শুধু ‘প্রেমের বিয়ে বনাম arranged marriage’-এর প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রাপ্তবয়স্কের ব্যক্তিস্বাধীনতা বনাম সরকারি verification-এর সীমা—এই বৃহত্তর আইনি প্রশ্নও।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments