একসময় ওজন প্রায় ২৩০ কেজি। দৈনন্দিন জীবন থেকে শারীরিক সক্ষমতা—সবকিছুতেই তার প্রভাব পড়ছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে চিকিৎসকের কাছ থেকে নিজের জীবন নিয়ে গুরুতর সতর্কবার্তা শুনতে হয়েছিল জনপ্রিয় গায়ক আদনান সামিকে। সেই মুহূর্তই বদলে দিয়েছিল তাঁর জীবনযাত্রা।
সম্প্রতি নিজের ওজন কমানোর সেই কঠিন সময়ের কথা বলতে গিয়ে আদনান জানিয়েছেন, চিকিৎসকের সতর্কবার্তার পাশাপাশি বাবার প্রতিক্রিয়াও তাঁকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল। এরপরই নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নতুন করে নজর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
চিকিৎসকের কথায় বদলে গেল সবকিছু
আদনান সামির ওজন একসময় প্রায় ২৩০ কেজিতে পৌঁছে গিয়েছিল। অতিরিক্ত ওজনের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থাও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছিল বলে তিনি নিজেই বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এক পর্যায়ে চিকিৎসক তাঁকে অত্যন্ত কঠিন একটি সতর্কবার্তা দেন। বলা হয়েছিল, এই অবস্থার পরিবর্তন না হলে তাঁর হাতে হয়তো খুব বেশি সময় নেই।
এই কথার অভিঘাত ছিল প্রবল। তবে আদনানের কাছে পরিস্থিতিকে আরও আবেগঘন করে তুলেছিল তাঁর বাবার প্রতিক্রিয়া।
বাবার চোখের জলই হয়ে উঠেছিল অনুপ্রেরণা
চিকিৎসকের কাছ থেকে ওই সতর্কবার্তা শোনার সময় তাঁর বাবা পাশে ছিলেন। আদনানের বর্ণনা অনুযায়ী, চিকিৎসকের কথা শুনে বাবার চোখে জল চলে এসেছিল।
প্রথমে বিষয়টিকে খুব গুরুতর বলে মনে করতে চাননি আদনান। তাঁর মনে হয়েছিল, পরিস্থিতি হয়তো চিকিৎসকের কথার মতো এতটা ভয়াবহ নয়।
কিন্তু বাবার উদ্বেগ তাঁকে অন্যভাবে ভাবতে বাধ্য করে। পরিবারের মানুষের এই কষ্টই শেষ পর্যন্ত নিজের জীবনযাত্রা বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে বলে জানিয়েছেন গায়ক।
অস্ত্রোপচার নয়, কঠোর জীবনযাত্রার পরিবর্তন
আদনান সামির ওজন নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ার পর তাঁর শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছিল। এমনকি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি এতটা ওজন কমিয়েছেন—এমন দাবিও ছড়িয়েছিল।
তবে আদনান নিজেই সেই ধারণা খারিজ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের পেছনে ছিল কঠোর ডায়েট এবং নিয়মিত শরীরচর্চা।
অর্থাৎ, কয়েক দিনের কোনও দ্রুত সমাধান নয়—দীর্ঘ সময় ধরে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ, ব্যায়াম এবং নিজের লক্ষ্যে স্থির থাকার মাধ্যমেই তিনি ওজন কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যান।
১২০ কেজি ওজন কমানো কতটা কঠিন ছিল?
২৩০ কেজির কাছাকাছি ওজন থেকে প্রায় ১১০ কেজিতে পৌঁছনো নিঃসন্দেহে তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়গুলির অন্যতম। তবে এই পরিবর্তন রাতারাতি হয়নি।
আদনানের বর্ণনা অনুযায়ী, নিয়ম মেনে চলার সময় এমন দিনও এসেছে যখন দীর্ঘ পরিশ্রমের পর ওজন খুব সামান্য কমেছে। কখনও প্রায় আধ কেজির মতো কমলেও সেটাই ছিল তাঁর কাছে হতাশার কারণ।
তবুও তিনি থামেননি। বাবাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা মনে রেখে ধীরে ধীরে নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে গিয়েছেন।
জনপ্রিয় গায়কের জীবনে বড় পরিবর্তন
ওজন কমানোর পর আদনান সামির চেহারায় যে আমূল পরিবর্তন আসে, তা তাঁর ভক্তদের কাছেও অত্যন্ত আলোচিত হয়। ২৩০ কেজি থেকে প্রায় ১১০ কেজিতে নেমে যাওয়ার ফলে তাঁর ওজন কমে প্রায় ১২০ কেজি।
‘কভি তো নজর মিলাও’ এবং ‘লিফট করা দে’-এর মতো জনপ্রিয় গানের শিল্পীর এই ব্যক্তিগত লড়াই তাই শুধু বাহ্যিক পরিবর্তনের গল্প নয়। নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দীর্ঘদিন সেই সিদ্ধান্ত ধরে রাখার ঘটনাও এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।
এই গল্পের আসল শিক্ষা কী?
আদনান সামির অভিজ্ঞতা থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল—অতিরিক্ত ওজন বা কোনও গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় নিজের মতো করে কঠোর ডায়েট বা ব্যায়াম শুরু করা উচিত নয়।
ওজন কমানোর পদ্ধতি ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, কারও ক্ষেত্রে ব্যায়াম, আবার কারও ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
তাই আদনানের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখা যেতে পারে, কিন্তু তাঁর পদ্ধতিকে সবার জন্য একই চিকিৎসা বা ওজন কমানোর নিয়ম হিসেবে অনুসরণ করা ঠিক নয়।
একসময় ২৩০ কেজির কাছাকাছি ওজন থেকে প্রায় ১১০ কেজিতে পৌঁছনোর যে যাত্রা আদনান সামি পেরিয়েছেন, তার কেন্দ্রে ছিল একটি সিদ্ধান্ত—নিজের জীবনযাত্রা বদলানো। চিকিৎসকের সতর্কবার্তা এবং বাবার আবেগ তাঁকে সেই সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছিল বলেই জানিয়েছেন তিনি।



