রাজ্যের সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাজের মান, শারীরিক সক্ষমতা এবং দায়িত্ব পালনের দক্ষতা মূল্যায়ন নিয়ে নতুন করে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহলে দাবি করা হচ্ছে, বাহিনীতে কর্মরত সিভিক ভলান্টিয়ারদের কর্মদক্ষতা যাচাই করতে একটি মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চালু করা হতে পারে, যেখানে শারীরিক সক্ষমতা থেকে শুরু করে আইন সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান—একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। যদিও বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সরকারি নির্দেশ বা রাজ্যব্যাপী একক নীতির ঘোষণা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও প্রশাসনিক মহলে এই ধরনের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, জনসমাগমে নিরাপত্তা বজায় রাখা, বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে সহায়তা এবং থানার নানান কাজে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফলে তাঁদের দক্ষতা ও সক্ষমতা নিয়মিত পর্যালোচনার বিষয়টি প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মূল্যায়ন কীভাবে হতে পারে?
প্রশাসনিক সূত্রে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য মূল্যায়ন পদ্ধতিটি মোট ৫০ নম্বরের হতে পারে। এই ৫০ নম্বরকে দুটি সমান ভাগে ভাগ করার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রথম ২৫ নম্বর বরাদ্দ থাকতে পারে শারীরিক সক্ষমতার জন্য। এতে দৌড়, ওঠবোস, সিট-আপের মতো সাধারণ শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি উচ্চতা, ওজন এবং বুকের মাপও যাচাই করা হতে পারে। উদ্দেশ্য হবে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের জন্য একজন কর্মী শারীরিকভাবে কতটা সক্ষম, তা মূল্যায়ন করা।
অন্য ২৫ নম্বর থাকতে পারে শিক্ষাগত ও পেশাগত দক্ষতার উপর। এখানে সাধারণ জ্ঞান, কম্পিউটার ব্যবহারের প্রাথমিক দক্ষতা, আইন সম্পর্কিত মৌলিক ধারণা এবং দায়িত্ব পালনের বাস্তব সক্ষমতা যাচাই করা হতে পারে। বিশেষ করে বর্তমান ফৌজদারি আইন সম্পর্কিত মৌলিক ধারণা এবং জনসাধারণের সঙ্গে আচরণগত দক্ষতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
কেন এই মূল্যায়নের প্রয়োজন?
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সিভিক ভলান্টিয়ারদের দায়িত্বের পরিধি অনেকটাই বেড়েছে। তাই শুধুমাত্র নিয়োগের সময় নয়, কর্মরত অবস্থাতেও নির্দিষ্ট সময় অন্তর দক্ষতা মূল্যায়ন করলে পরিষেবার মান আরও উন্নত হতে পারে।
এছাড়া প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় এখন অনেক ক্ষেত্রেই ডিজিটাল রিপোর্টিং, অনলাইন তথ্য সংরক্ষণ বা আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে কাজ করতে হয়। ফলে কম্পিউটার সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকাও ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
কাট-অফ নম্বর থাকবে?
বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, মূল্যায়নে একটি নির্দিষ্ট কাট-অফ নম্বর থাকতে পারে। তবে সেই কাট-অফ কত হবে বা তা বাধ্যতামূলক কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি নির্দেশ প্রকাশিত হয়নি।
একইভাবে, মূল্যায়নে কম নম্বর পেলে চাকরি যাবে—এমন দাবিও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী ভবিষ্যতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
উদ্দেশ্য কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন মূল্যায়নের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিষেবার মান উন্নত করা। প্রয়োজনে প্রশিক্ষণ, পুনর্মূল্যায়ন এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ দেওয়াও এই প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত যে কোনও কর্মীর ক্ষেত্রে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও একটি স্বীকৃত পদ্ধতি। ফলে ভবিষ্যতে যদি এই ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর হয়, তাহলে তার মাধ্যমে আরও দক্ষ ও পেশাদার পরিষেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যই গুরুত্ব পাবে।
সরকারি নির্দেশের অপেক্ষা
বর্তমানে সিভিক ভলান্টিয়ারদের মূল্যায়ন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চললেও রাজ্যব্যাপী চূড়ান্ত নির্দেশিকা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে পরীক্ষার নম্বর, মূল্যায়নের পদ্ধতি, কাট-অফ বা চাকরি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত—সব ক্ষেত্রেই সরকারি বিজ্ঞপ্তিই হবে শেষ কথা।
তাই এই বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত যেকোনো তথ্য বিশ্বাস করার আগে সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা দেখে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। সরকারি সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হলে তবেই পরিষ্কার হবে মূল্যায়নের চূড়ান্ত কাঠামো এবং তা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে।



