রান্নার গ্যাসের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি যখন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলে দিচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই বড়সড় স্বস্তির বার্তা দিল বিজেপি সরকার। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন অনেকেই। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগোল সরকার। ঘোষণা অনুযায়ী, এবার থেকে বছরে দু’বার বিনামূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হতে চলেছে। শুধু তাই নয়, সিলিন্ডারের টাকার সমপরিমাণ অর্থ সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বারবার বাড়ায় সংসারের বাজেট ভেঙে পড়ছে বহু পরিবারের। মাসের শেষে রান্নার গ্যাস কিনতেই বড় অঙ্কের টাকা খরচ করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের নতুন প্রকল্প নিঃসন্দেহে লক্ষ লক্ষ মানুষের মুখে হাসি ফেরাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
২০২৬ সাল শুরু হতেই যেন সাধারণ মানুষের কপালে খুলে গেল ভাগ্যের দরজা। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় বছরে দু’বার—বিশেষ করে বড় উৎসবের মরশুমে—বিনামূল্যে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার দেওয়া হবে। এর ফলে হোলি ও দীপাবলির মতো উৎসবের সময়ে সংসারের বাড়তি খরচ অনেকটাই কমবে।
এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের অঙ্গীকার। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত তাঁর মেয়াদের প্রথম বছরেই রাজধানীর দরিদ্র ও প্রান্তিক শ্রেণির মানুষের জন্য এই বিশেষ উপহার ঘোষণা করেছেন। সরকারের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি আর্থিক সহায়তা নয়, বরং সামাজিক সুরক্ষার দিক থেকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত দিল্লি মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রকল্পের জন্য মোট ২৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অর্থ সরাসরি রেশন কার্ডধারী পরিবারগুলির উপকারে ব্যয় করা হবে। সরকারের লক্ষ্য, প্রকল্পের সুবিধা যেন প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতেই পৌঁছায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই প্রকল্পে সরাসরি নগদ সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, গ্যাস সিলিন্ডারের বাজারমূল্য—বর্তমানে যা প্রায় ৮৫৩ টাকা—তা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) পদ্ধতিতে পাঠানো হবে। এরপর উপভোক্তারা নিজেরাই গ্যাস সিলিন্ডার বুক করতে পারবেন। এতে করে কোনও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা থাকছে না, ফলে দুর্নীতি বা অনিয়মের সম্ভাবনাও অনেকটাই কমবে।
সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে উপভোক্তাদের অবশ্যই বৈধ রেশন কার্ড থাকতে হবে এবং তা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে লিঙ্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি, এলপিজি কানেকশনও সেই পরিবারের নামে নথিভুক্ত থাকতে হবে। যাঁরা ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় গ্যাস সংযোগ পেয়েছেন, তাঁরাও এই নতুন প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
এই ঘোষণার ফলে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধীরা একে ভোটমুখী সিদ্ধান্ত বলে আখ্যা দিলেও, সরকারের দাবি—এটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার বাস্তব সমাধান। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রতিশ্রুতি দেওয়া নয়, প্রতিশ্রুতি পালন করা। দিল্লির কোনও পরিবার যেন রান্নার গ্যাসের অভাবে সমস্যায় না পড়ে, সেটাই আমাদের অগ্রাধিকার।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শহরের পাশাপাশি শহরতলির বহু পরিবার উপকৃত হবে। বিশেষ করে যাঁদের আয় সীমিত, তাঁদের কাছে বছরে দু’বার বিনামূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া মানে বড়সড় আর্থিক স্বস্তি। উৎসবের সময় বাজার খরচ, জামাকাপড়, অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য যে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, তা অনেকটাই কমবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, রান্নার গ্যাস নিয়ে যখন দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ চরমে, তখন সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে এক বড় স্বস্তির বার্তা। এখন দেখার বিষয়, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রকল্পটি কতটা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং কত দ্রুত উপভোক্তারা এর সুবিধা পেতে শুরু করেন।



