সংসদের অধিবেশন চলছিল। আচমকাই বদলে গেল পরিস্থিতি। বিতর্কের মাঝেই এক বিরোধী নারী সাংসদ ব্যাগ থেকে ডিম বের করে ছুড়তে শুরু করলেন দেশের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর দিকে। মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে উঠল সংসদকক্ষ। নিরাপত্তারক্ষীরা ছুটে এসে প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ফেলেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই অধিবেশন স্থগিত হয়ে যায়।
তবে এই ঘটনা ভারতের সংসদে ঘটেনি। ঘটনাটি ঘটেছে ইউরোপের দেশ কসোভোর পার্লামেন্টে। আর সেই কারণেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
ঠিক কী ঘটেছিল কসোভোর সংসদে?
ঘটনাটি ঘটে শনিবার কসোভোর পার্লামেন্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বৈঠকের সময়। সেদিন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং স্পিকার পদ সংক্রান্ত বৈঠকের সময়সীমা বাড়ানো নিয়ে আলোচনা চলছিল।
সেই সময়ই কসোভোর ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তি-কে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন বিরোধী শিবিরের এক নারী সাংসদ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সাংসদ হলেন টাইম কাদ্রিজাজ, যিনি বিরোধী দল ‘অ্যালায়েন্স ফর দ্য ফিউচার অফ কসোভো’-র সঙ্গে যুক্ত।
কেন ডিম ছুড়লেন বিরোধী সাংসদ?
ঘটনার সময় সাংসদটি ব্যাগ থেকে একাধিক ডিম বের করে প্রধানমন্ত্রীর দিকে ছুড়ে দেন। একই সঙ্গে তিনি কুর্তির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন এবং তাঁকে উদ্দেশ করে ‘লজ্জা হওয়া উচিত’ বলে চিৎকার করেন।
এর পরেই সংসদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে তাঁকে ঘিরে ফেলেন।
ঘটনার জেরে সংসদের সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং অধিবেশনও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
ঘটনাটি যতটা নাটকীয়, আলবিন কুর্তির প্রতিক্রিয়া ছিল ততটাই সংযত।
ডিম ছোড়ার ঘটনার পরও তিনি রাজনৈতিক আলোচনার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তাঁর বক্তব্যের সারকথা ছিল—রাজনৈতিক আলোচনা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে যদি এমন পরিস্থিতিও সামলাতে হয়, তাতেও তিনি পিছিয়ে যাবেন না।
অর্থাৎ, সংসদের ভিতরে এমন নজিরবিহীন ঘটনার পরও রাজনৈতিক আলোচনার পথ বন্ধ না করার বার্তাই দিয়েছেন কসোভোর ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী।
ভারতের ‘ডিম থেরাপি’র সঙ্গে কি কোনও যোগ রয়েছে?
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতের অনেকের কাছেই ঘটনাটি পরিচিত মনে হতে পারে। কারণ, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিসরে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবাদের একটি দৃশ্যমান কৌশল হিসেবে ডিম ছোড়ার ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সেই কারণেই কসোভোর সংসদের ভিডিওকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে মজা করে এটিকে ‘ডিম থেরাপি’ বলেও উল্লেখ করছেন।
তবে দুই ঘটনার মধ্যে কোনও প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক যোগ রয়েছে—এমন তথ্য নেই। কসোভোর সংসদের ঘটনাটি সেখানকার নিজস্ব রাজনৈতিক বিরোধের প্রেক্ষাপটে ঘটেছে।
সংসদের নিরাপত্তা নিয়েও উঠল প্রশ্ন
সংসদের ভিতরে কোনও সাংসদের প্রধানমন্ত্রীর এত কাছে পৌঁছে ডিম ছোড়ার ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বিশেষ করে একজন জনপ্রতিনিধি কীভাবে এমন বস্তু নিয়ে সংসদকক্ষে ঢুকলেন এবং নিরাপত্তার বলয় পেরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি পৌঁছে গেলেন—ঘটনার পর এই বিষয়টিও স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় এসেছে।
তবে এই ঘটনার পর কসোভোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কী ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখানে নিশ্চিত তথ্য না থাকায় কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।
ভিডিও ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল আলোচনা
সংসদের ভিতরে ডিম ছোড়ার দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং পরে সেটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ভিডিওটি নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
কেউ ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রতিবাদের চরম রূপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সংসদের মতো জায়গায় শারীরিকভাবে আক্রমণাত্মক প্রতিবাদের সমালোচনা করছেন।
তবে ঘটনা যেভাবেই দেখা হোক, কসোভোর পার্লামেন্টে এই নজিরবিহীন দৃশ্য যে সেদিনের অধিবেশনকে আচমকাই উত্তপ্ত করে তুলেছিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এই ঘটনার কোনও সম্পর্ক নেই
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল—এই ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আক্রান্ত হননি। কসোভোর ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তিকে লক্ষ্য করেই ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে।
সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি দেখার সময় স্থান বা ব্যক্তির পরিচয় যাচাই না করলে সহজেই ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। তাই ঘটনাটিকে ভারতের সংসদের ঘটনা হিসেবে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর হবে।
কসোভোর সংসদে বিরোধী সাংসদের এই আচরণ শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রতিবাদ, সংসদের নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক বিতর্কের সীমা—এই তিনটি বিষয় নিয়েই নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।



