ছেঁড়া, মলিন বা জলে ভিজে নষ্ট হয়ে যাওয়া নোট নিয়ে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা নতুন নয়। বিশেষ করে ছোট মূল্যমানের নোট যেমন ১০ বা ২০ টাকার নোট কিছুদিন ব্যবহার করার পর অনেক সময় এমন অবস্থায় পৌঁছে যায় যে দোকানদার বা পরিবহণকর্মীরা তা নিতে অনীহা দেখান।
এই সমস্যার সমাধানে এবার ভারতীয় মুদ্রা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে পারে পলিমার বা তথাকথিত প্লাস্টিকের নোট।
কী এই পলিমার নোট?
পলিমার নোট আসলে বিশেষ ধরনের সিন্থেটিক উপাদান দিয়ে তৈরি মুদ্রা, যা সাধারণ কাগজের নোটের তুলনায় অনেক বেশি টেকসই।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং ব্রিটেনের মতো বেশ কয়েকটি দেশে বহু বছর ধরে এই ধরনের নোট ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই নোটের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল—
- সহজে ছিঁড়ে যায় না।
- জল লাগলেও ক্ষতির সম্ভাবনা কম।
- দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়।
- পরিষ্কার রাখা তুলনামূলক সহজ।
কবে থেকে বাজারে আসতে পারে প্লাস্টিকের নোট?
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী অর্থবর্ষের শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে পলিমার নোট বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ছোট মূল্যমানের নোট নিয়ে ফিল্ড ট্রায়াল করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত যাচাই এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে সাধারণ মানুষের হাতে এই নোট পুরোপুরি কবে থেকে পৌঁছবে, তা নির্ভর করবে পরীক্ষামূলক ব্যবহারের ফলাফল এবং RBI-এর পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপর।
কোন কোন নোট দিয়ে শুরু হতে পারে পরীক্ষা?
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১০ টাকা এবং ২০ টাকার পলিমার নোট নিয়ে পরীক্ষা চালানোর কথা রয়েছে।
প্রায় ১০০ কোটি করে এই দুই মূল্যমানের নোট পরীক্ষামূলকভাবে বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে এই নোট সাধারণ মুদ্রা ব্যবস্থায় কতটা কার্যকর হবে, তা বোঝার জন্য ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হবে।
কেন প্লাস্টিকের নোট আনার পরিকল্পনা?
কাগজের নোট দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক নোট বদলাতে হয়। এর ফলে নতুন নোট ছাপানো এবং পুরনো নোট ব্যবস্থাপনার খরচও বাড়ে।
পলিমার নোট চালু হলে—
- নোটের স্থায়িত্ব বাড়তে পারে।
- ঘন ঘন নোট বদলের প্রয়োজন কমতে পারে।
- দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রা ব্যবস্থাপনার খরচ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়াও, দৈনন্দিন ব্যবহারে সাধারণ মানুষের সুবিধা বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
পুরনো কাগজের নোট কি বাতিল হয়ে যাবে?
পলিমার নোট চালু হলেও বর্তমানে বাজারে থাকা কাগজের নোট বাতিল করা হবে না।
পুরনো নোট আগের মতোই বৈধ থাকবে এবং ধীরে ধীরে প্রচলনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নতুন নোটের সঙ্গে ব্যবহার করা হবে।
তাই বাড়িতে থাকা পুরনো বা কিছুটা মলিন নোট নিয়ে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।
বিশ্বের অন্যান্য দেশে কীভাবে চলছে?
বিশ্বের একাধিক দেশে পলিমার নোট ইতিমধ্যেই সফলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেখানে আর্দ্র আবহাওয়া বা বেশি ব্যবহারের কারণে কাগজের নোট দ্রুত নষ্ট হয়, সেখানে এই ধরনের নোট কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
ভারতের মতো বড় দেশে এই ব্যবস্থা চালু করার আগে ব্যবহারিক সুবিধা, নিরাপত্তা এবং উৎপাদন খরচ—সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সাধারণ মানুষের জন্য এর প্রভাব কী হতে পারে?
যদি পরীক্ষামূলক ব্যবহারে পলিমার নোট সফল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ছোট নোট নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমতে পারে।
তবে নতুন নোট ব্যবস্থার পুরোপুরি বাস্তবায়ন নির্ভর করবে RBI-এর পরীক্ষার ফলাফল এবং সরকারি সিদ্ধান্তের উপর।
ভারতের মুদ্রা ব্যবস্থায় এই পরিবর্তন কতটা কার্যকর হয়, এখন সেই দিকেই নজর রয়েছে।



