Monday, June 15, 2026
Google search engine
Homeদেশের কথা১০০ দিনের কাজ এবার ১২৫ দিন! কেন্দ্রের নতুন চমক 'VB-G RAM G'!

১০০ দিনের কাজ এবার ১২৫ দিন! কেন্দ্রের নতুন চমক ‘VB-G RAM G’!

গ্রামীণ ভারতের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে নতুন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের কোটি কোটি গ্রামীণ পরিবারের আয়ের অন্যতম ভরসা হয়ে রয়েছে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প বা মনরেগা। তবে সম্প্রতি নতুন একটি কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রকল্প নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে, যার নাম ‘VB-G RAM G’।

এই প্রকল্পকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে দাবি করা হচ্ছে যে, এটি গ্রামীণ কর্মসংস্থান ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক এবং কার্যকর করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে কর্মদিবস বৃদ্ধির সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে এসেছে। যদিও প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ সরকারি নির্দেশিকা এখনও সর্বসমক্ষে প্রকাশিত হয়নি, তবুও বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও।

কী এই VB-G RAM G প্রকল্প?

আলোচনায় উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, VB-G RAM G-এর পূর্ণরূপ হতে পারে “Viksit Bharat – Rozgar And Aajeevika Mission Grameen”। নাম থেকেই বোঝা যায়, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জীবিকা উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত বিকাশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতি এখনও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কৃষিকাজের পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি না হলে বহু পরিবার আর্থিক নিরাপত্তা পায় না। সেই কারণেই কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রকল্পগুলির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে।

১০০ দিনের কাজ থেকে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান?

সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে কর্মদিবস বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে। বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, নতুন প্রকল্পের আওতায় বছরে ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

যদি এমন ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে গ্রামীণ পরিবারগুলির হাতে অতিরিক্ত উপার্জনের সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় কৃষিকাজ মৌসুমি এবং সারা বছর আয় নিশ্চিত নয়, সেখানে অতিরিক্ত কর্মদিবস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

তবে সরকারি পর্যায়ে এই বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে সম্ভাব্য পরিকল্পনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

কী ধরনের কাজ পাওয়া যেতে পারে?

বর্তমান মনরেগা প্রকল্পে মূলত গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, জল সংরক্ষণ, রাস্তা নির্মাণ, খাল সংস্কার এবং অন্যান্য জনস্বার্থমূলক কাজ করা হয়। নতুন উদ্যোগে এই কাজের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলিতে কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে—

  • গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার
  • নিকাশি ব্যবস্থা উন্নয়ন
  • জল সংরক্ষণ প্রকল্প
  • কৃষি সহায়ক অবকাঠামো
  • গ্রামীণ সম্পদ সৃষ্টি
  • দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য পৃথক কর্মসূচি
  • স্থানীয় উন্নয়নমূলক প্রকল্প

এর ফলে শুধুমাত্র শারীরিক শ্রম নয়, দক্ষতা-ভিত্তিক কাজের সুযোগও বৃদ্ধি পেতে পারে।

গ্রামীণ অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?

অর্থনীতিবিদদের মতে, গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি সরাসরি স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে। মানুষের হাতে অর্থ এলে স্থানীয় বাজার, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং পরিষেবা খাতও উপকৃত হয়।

বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলিতে এই ধরনের প্রকল্পের প্রভাব উল্লেখযোগ্য হতে পারে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ফলে শহরমুখী শ্রমিকদের সংখ্যা কমানোর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

কারা সুবিধা পেতে পারেন?

যদিও প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে আলোচনায় উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী যোগ্য গ্রামীণ পরিবার, কর্মপ্রার্থী শ্রমিক এবং সরকারি নথিভুক্ত আবেদনকারীরাই এই সুবিধা পেতে পারেন।

সম্ভাব্যভাবে প্রয়োজন হতে পারে—

  • পরিচয়পত্র
  • ভোটার কার্ড
  • ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট
  • স্থানীয় বাসিন্দার প্রমাণ
  • কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নিবন্ধন

তবে প্রকৃত নিয়ম সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।

আবেদন কীভাবে করা যাবে?

বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, স্থানীয় পঞ্চায়েত, ব্লক উন্নয়ন অফিস অথবা নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হতে পারে।

তবে সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধুমাত্র সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার পরই আবেদন সংক্রান্ত তথ্যের উপর নির্ভর করা। ভুয়ো ওয়েবসাইট বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

উপসংহার

গ্রামীণ কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে VB-G RAM G প্রকল্পকে ঘিরে ইতিমধ্যেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং গ্রামীণ জীবিকা বৃদ্ধির সম্ভাবনা এই উদ্যোগকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। যদিও প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবুও এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন সকলের নজর সরকারি ঘোষণার দিকে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments