পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই সাধারণ মানুষের নজর এখন সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর দিকে। বিশেষ করে মহিলাদের জন্য ঘোষিত আর্থিক সহায়তা প্রকল্পগুলি নিয়ে রাজ্যজুড়ে চলছে জোর চর্চা। সেই তালিকার শীর্ষেই রয়েছে বিজেপি সরকারের প্রতিশ্রুত ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। নির্বাচনের সময় এই প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক প্রচার হয়েছিল। আর এবার সেই প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে, কোথা থেকে ফর্ম পাওয়া যাবে এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে—তা নিয়েই আগ্রহ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, মে মাসের মাঝামাঝি কিংবা শেষ সপ্তাহ থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। যদিও সরকারিভাবে এখনও নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি, তবে প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে বলেই খবর। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এই প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পকে অনেকেই তৃণমূল সরকারের জনপ্রিয় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর বিকল্প হিসেবে দেখছেন। বিজেপির দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলাদের আরও বেশি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। নির্বাচনী প্রচারে বলা হয়েছিল, মহিলাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করে তুলতেই এই প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মহিলা ভোটারদের মধ্যে এই প্রকল্প নিয়ে বিপুল আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সবথেকে বড় প্রশ্ন এখন—ফর্ম কোথায় পাওয়া যাবে? প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, প্রথম পর্যায়ে ব্লক অফিস, বিডিও অফিস, পুরসভা এবং বিশেষ সরকারি ক্যাম্পের মাধ্যমে আবেদনপত্র বিলি করা হতে পারে। পাশাপাশি অনলাইন আবেদন ব্যবস্থাও চালু হতে পারে বলে জোর জল্পনা রয়েছে। কারণ বর্তমানে অধিকাংশ সরকারি প্রকল্পেই ডিজিটাল আবেদন ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তবে শুধু আবেদন করলেই হবে না, কী কী নথি লাগতে পারে তা নিয়েও এখন আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য নথির তালিকায় থাকতে পারে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য, মোবাইল নম্বর এবং বাসস্থানের প্রমাণপত্র। এছাড়াও আবেদনকারীর আয় সংক্রান্ত তথ্যও চাওয়া হতে পারে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি।
আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো, বর্তমানে যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁরাই কি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাবেন? নাকি নতুন করে যাচাই করে তালিকা তৈরি করা হবে? এই নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সরকার হয়তো প্রথমে বিদ্যমান তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করেই আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করার চেষ্টা করবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, রাজ্যের কোনও পুরনো প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। বরং নতুন নতুন প্রকল্প যুক্ত হবে। সেই ঘোষণার পর থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে মানুষের আগ্রহ আরও বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার বহু মহিলা এখন এই প্রকল্পের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মহিলা ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প তৃণমূল সরকারের বড় শক্তি হয়ে উঠেছিল। তাই বিজেপিও মহিলাদের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রকল্প এনে নিজেদের ভিত্তি আরও মজবুত করতে চাইছে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার সেই কৌশলেরই অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে।
যদিও এখনও পর্যন্ত প্রকল্পের টাকার পরিমাণ, আবেদন শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ বা যোগ্যতার মানদণ্ড নিয়ে সরকারিভাবে কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি। তাই সাধারণ মানুষকে ভুয়ো খবর বা সোশ্যাল মিডিয়ার গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধুমাত্র সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং প্রশাসনিক ঘোষণাকেই বিশ্বাস করার কথা বলা হচ্ছে।
এখন সবার নজর নতুন সরকারের পরবর্তী ঘোষণার দিকে। কারণ অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প কবে বাস্তবে চালু হবে এবং কীভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছবে, সেটাই এখন বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের অন্যতম বড় আলোচনা।



