অচেনা নম্বর থেকে ফোন এলেই কি আপনার মনে সন্দেহ জাগে? ব্যাঙ্কের কর্মী পরিচয়ে ফোন, ভুয়ো কাস্টমার কেয়ার কিংবা প্রতারণার ফাঁদ—এমন অভিজ্ঞতার কারণে অনেকেই অজানা নম্বর ধরতে দ্বিধা করেন। এবার সেই পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি দিতে চলেছে নতুন একটি টেলিকম পরিষেবা।
ভারতের টেলিকম বিভাগ বা Department of Telecommunications (DoT) নির্দেশ দিয়েছে, ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে 4G ও তার পরের প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্কে চালু করতে হবে Calling Name Presentation (CNAP) পরিষেবা। এর ফলে ফোনে নম্বর সেভ করা না থাকলেও ইনকামিং কলের সময় নম্বরের পাশাপাশি কলকারীর টেলিকম রেকর্ডে থাকা নাম দেখা যাবে।
CNAP কী? কীভাবে কাজ করবে এই পরিষেবা?
CNAP-এর পুরো নাম Calling Name Presentation। এটি এমন একটি কলার শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, যেখানে ফোন আসার সময় কলকারীর মোবাইল নম্বরের সঙ্গে তাঁর টেলিকম অপারেটরের গ্রাহক-তথ্যে নথিভুক্ত নাম দেখানো হবে।
ধরা যাক, কোনও অচেনা নম্বর থেকে আপনার ফোনে কল এল। সেই নম্বরটি আপনার কন্ট্যাক্ট লিস্টে সেভ করা না থাকলে, নতুন ব্যবস্থায় অপারেটরের রেকর্ডে থাকা নাম স্ক্রিনে দেখানো হতে পারে। ফলে ফোন ধরার আগেই কলটি কার নামে রেজিস্টার্ড, সে সম্পর্কে একটি ধারণা পাবেন।
আলাদা করে Truecaller অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে?
না, CNAP পরিষেবার জন্য আলাদা করে কোনও থার্ড-পার্টি কলার আইডি অ্যাপ ডাউনলোড বা আলাদা নিবন্ধন করার প্রয়োজন হবে না। টেলিকম অপারেটরদের নিজেদের নেটওয়ার্কে এই পরিষেবা চালু করতে বলা হয়েছে।
তবে ফোনের মডেল, নেটওয়ার্ক এবং পরিষেবা বাস্তবায়নের প্রযুক্তিগত বিষয়গুলির উপর ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা নির্ভর করতে পারে। তাই ১ নভেম্বর থেকেই প্রত্যেকটি ফোনে একইভাবে পরিষেবাটি দেখা যাবে—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া ঠিক হবে না।
১ নভেম্বর থেকে কোন কোন গ্রাহক এই সুবিধা পাবেন?
DoT-এর নির্দেশ অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে 4G ও তার পরের প্রজন্মের ওয়্যারলেস মোবাইল নেটওয়ার্কে CNAP চালু করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ 4G ও 5G পরিষেবা ব্যবহারকারীরা এই ব্যবস্থার আওতায় আসবেন।
অন্যদিকে, 2G ও 3G নেটওয়ার্ক এবং ল্যান্ডলাইন পরিষেবায় এই ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে। তাই বর্তমানে 2G বা 3G ব্যবহারকারীদের জন্য একই তারিখে পরিষেবাটি চালু হচ্ছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক কল বা ব্যবসায়িক নম্বরের ক্ষেত্রে কী হবে?
বিদেশ থেকে আসা কলের ক্ষেত্রে স্ক্রিনে ‘International Call’ দেখানো হতে পারে, যাতে ব্যবহারকারী বুঝতে পারেন যে কলটি আন্তর্জাতিক। অন্যদিকে, ব্যবসায়িক সংস্থা ও বাল্ক কল ব্যবহারকারীদের নির্দিষ্ট নথি যাচাইয়ের ভিত্তিতে পছন্দের নাম প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
তবে কোনও নাম স্ক্রিনে দেখালেই কলটি নিরাপদ, এমন ধরে নেওয়া উচিত নয়। নামটি আসলে টেলিকম রেকর্ড বা অনুমোদিত ব্যবসায়িক পরিচয়ের ভিত্তিতে দেখানো হয়—এটি কোনও কলের উদ্দেশ্য বা বিশ্বাসযোগ্যতার নিশ্চয়তা নয়।
ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা কীভাবে রক্ষা করা হবে?
CNAP চালু হলে কলকারীর নাম ও নম্বরের মধ্যে সংযোগকারী তথ্য নিরাপদভাবে পরিচালনা করার দায়িত্ব থাকবে টেলিকম অপারেটরদের। পরিষেবাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া, যাঁরা Calling Line Identification Restriction বা CLIR পরিষেবা ব্যবহার করেন, তাঁদের নম্বরের পরিচয় প্রকাশ না করার জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। তবে পরিষেবার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং তথ্য সুরক্ষার বিস্তারিত নিয়ম সম্পর্কে অপারেটরের নির্দেশিকা অনুসরণ করা উচিত।
CNAP চালু হলে কি ফোন প্রতারণা পুরোপুরি বন্ধ হবে?
এই নতুন পরিষেবার উদ্দেশ্য হল অচেনা কল সম্পর্কে ব্যবহারকারীকে আরও বেশি তথ্য দেওয়া এবং স্প্যাম বা প্রতারণামূলক ফোন শনাক্ত করতে সাহায্য করা। কিন্তু শুধু কলকারীর নাম দেখে কোনও ফোনকে নিরাপদ বলে ধরে নেওয়া যাবে না।
প্রতারকরা পরিচিত ব্যক্তি, ব্যাঙ্কের কর্মী কিংবা সরকারি আধিকারিকের পরিচয় দিয়ে কথা বলতে পারে। তাই ফোনে OTP, UPI PIN, ব্যাঙ্কের পাসওয়ার্ড বা গোপন তথ্য চাওয়া হলে তা কখনও জানাবেন না। টাকা পাঠানোর আগে এবং কোনও লিঙ্কে ক্লিক করার আগে তথ্য যাচাই করুন।
শেষ কথা
১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে CNAP চালুর নির্দেশ অচেনা নম্বর শনাক্ত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে চলেছে। নম্বরের সঙ্গে নথিভুক্ত নাম দেখানোর ফলে ব্যবহারকারীরা ফোন ধরার আগে অতিরিক্ত তথ্য পাবেন।
তবে এই পরিষেবাকে প্রতারণা বন্ধের চূড়ান্ত সমাধান ভাবা উচিত নয়। অচেনা নম্বর থেকে কল এলে সতর্ক থাকা এবং ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য গোপন রাখাই ডিজিটাল নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস।



